বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা এড. সাখাওয়াতের প্রতিবাদ ও নিন্দা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ স্থানীয় আরও ৪ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপির দুই নেতা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সাখাওয়াত হোসেন খান এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে আহ্বান জানান।তিনি বলেন, দলের ক্রান্তিকালে দলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এই মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানাই। অন্যদিকে জানাগেছে, দলের গঠনতন্ত্র বহির্ভূত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ স্থানীয় আরও ৪ নেতার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপির দুই নেতা। মামলায় তারা অভিযোগ করেন-নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এলাকা অর্থাৎ মহানগরীর ১নং থেকে ১০নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কোন নেতাকেই রাখা হয়নি। এই মামলায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে মোকাবেলা বিবাদী এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সেক্রেটারি এটিএম কামালকে মুল বিবাদী করা হয়। বিএনপির দুই নেতা গোলজার হোসেন ও নূরে আলম সিকদার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করে ওই মামলা করা হয়। গত বুধবার রাতে আদালত থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ বিবাদীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। আগের দিন গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (সাবেক পৌর এলাকা) বিএনপি নেতা নূরে আলম শিকদার বাদী হয়ে সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মামলাটি করেন। এরপর একইদিন শুনানি শেষে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কেন কমিটি অবৈধ হবে না জানিয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। মামলার বাদী গুলজার হোসেন খান অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটিতে অল্প ক’জন নেতা স্থান পেলেও মহানগরের কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোর্রেশনের ১নং থেকে ১০নং ওয়ার্ড পর্যন্ত ১০টি ওয়ার্ডের কোনো নেতাই পদ পদবি পাননি। এই ১০টি ওয়ার্ডের মূল দলের নেতাকর্মীরা দলীয় পদ পদবির ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হচ্ছেন। দলের জন্য প্রাণপন কাজ করলেও দলের নেতারা তাদের কোনো পরিচয় দিচ্ছেন না। আমাদেরকে পদ পদবি যেন দেয়া হয় সেজন্যই এ মামলা। আমরা তো জাগোদল থেকেই যুক্ত বিএনপির সঙ্গে। জানাগেছে, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সেক্রেটারি করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর আংশিক কমিটি গঠন করা হয় এবং একইদিন কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে সেক্রেটারি করে ২৬ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়াও গত ৩০ অক্টোবর ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ মহারগর বিএনিপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। দুটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি জেলা বিএনপির সঙ্গে অন্তর্ভূক্ত রাখা হয়। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১০টি ওয়ার্ড সিটি কর্পোরেশনের ১নং থেকে ১০নং ওয়ার্ড এলাকা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *