বিএনপি থেকে বাদ হচ্ছেন আজাদ ও মুকুল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের দুইটি উপজেলায় রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান। তারা দুইজনই বিএনপির রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও কাজ করছে আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির হয়ে। দলীয় কার্যক্রমে গরহাজির তো বটেই, বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ ও বৈরিতা সৃষ্টিতে সিদ্ধহস্ত নারায়ণগঞ্জের দুই উপজেলা চেয়ারম্যান। একজন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও অপরজন বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। বিগত দিনে দলের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার চেয়ে আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীনদের তোষনের অভিযোগও রয়েছে এ দুইজনের বিরুদ্ধে। কয়েক বছর আগে একটি অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ গালি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের একজন নেতা যে অনুষ্ঠানে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয় সে গালি হজমের পাশাপাশি মুচকি হাসিও দেন তাঁরা। ঘটনাটি ২০১৫ সালের ১৬ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদের মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ বলে গালাগাল করেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার আওয়ামীলীগ নেতা গোপীনাথ দাস। কৌশলে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয়পার্টি সর্বপরি ওসমান পরিবার সফলতা ঘরে তুলতে পারলেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে চলছে মুকুল-আজাদ মিশন। তারা নিজ দলের সঙ্গে প্রতারণা করে একদিকে যেমন বিএনপি থেকে কোন সমর্থন পাবে না অন্যদিকে ওসমান পরিবার থেকে কোন দক্ষিনা আদায় করতে পারবে না। এক কথায় দুকূল হারাতে বসেছে এই দুই চেয়ারম্যান। উপজেলা নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে এই দুই চেয়ারম্যানের ভেতরে ভয় আরো তাড়া করছে। বর্তমানে তাদের রাতের ঘুম হারানোর গতি হয়েছে। যে খানে তাকায় সেখান থেকেই তাদের শূণ্যতা দেখতে পায়। না আছে নেতাকর্মী, না আছে দল। কোনটাই নাই তাদের। তার উপর গত ১০ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকায় নেতারাও উপজেলা চেয়ারম্যান হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আর তাদের ছাড় দিতে চাচ্ছে না। এমনকি নেতারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তার উপর তাদের কর্মকা-ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে ভোটাররাও ক্ষুব্ধ। দলীয় কাজে না থেকেও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মত গুরুত্বপূর্ন দুটি পদে বহাল রয়েছেন আজাদ বিশ্বাস আন্দোলন সংগ্রাম বিমুখ এ নেতা তবুও স্বপদে বহাল আছে। কর্মীদের অভিযোগ, দলের এ দুটি পদ নিয়ে আজাদ বিশ্বাস কখনই আন্দোলন সংগ্রামে থাকেন না। এমনকি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কোন তৎপরতা নেই। বিভিন্ন সভা সমাবেশে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের গুণগানে ব্যস্ত থাকেন আজাদ বিশ্বাস। আরও অভিযোগ যে, কর্মীরা আন্দোলনে নামলে আজাদ বিশ্বাস নিষেধ করেন। বিএনপির পন্থী আইনজীবী হলের নেতাকর্মীদের মামলার শুনানীতেও দাঁড়ায়না এ নেতা। অনেক কর্মীদের মামলা পরিচালনার কথা বলতে গিয়ে কর্মীদের পরিবারকে হয়রানি করেছে। আজাদ বিশ্বাস এখন আওয়ামী লীগের অঘোষিত নেতা বনে গেছেন। তাকে বিএনপির কোন আন্দোলনে না দেখা গেলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে গভীর সখ্যতা। সে কারণে তার বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তাকে ইতোমধ্যে ‘দালাল’ আখ্যা দিয়েছে। যদিওবা উচ্চ আদালতে একটি রিটের কারণে আটকে আছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন। সরকারের একটি গেজেট চ্যালেঞ্জ করে এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী। এই তিনজনই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এর মধ্যে ১ ও ৩ নং রিট আবেদনকারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের লোক বলে পরিচিত। ২ নং ব্যক্তি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের ভাগ্নে। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট মেয়াদের পরেও ক্ষমতার স্বাদ বজায় রাখতে বর্তমান চেয়ারম্যান দলীয় লোকজন দিয়ে রিট করিয়ে নির্বাচন ঝুলিয়ে রেখেছেন। অপর দিকে, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপিকে অনেকটা গুডবাই দিয়েছেন। তাঁকে এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেই বেশী দেখা মিলে। যদিও আতাউর রহমান মুকুল বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বিএনপি নেতা। বিএনপির সমর্থন পেয়ে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বন্দরে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোটের আগে ও পরে তাঁকে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গভীর সখ্যতা করতে। বিজয় দিবসের র‌্যালীতে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানও ধরেছিলেন তিনি। বিএনপির চেয়ে বেশী প্রীতি আওয়ামী লীগের। স্থানীয় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান তো বটেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের পেছনেও ভৌ দৌড় দিতে দেখা গেছে এ নেতাকে। এখানেই শেষ না বিভিন্ন সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানকে ‘জাতীর গর্বিত সন্তান’ আখ্যা দিয়েছেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল যাকে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচী ও সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের কর্মকান্ডে সম্পক্ত হয়ে ছিলেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *