না’গঞ্জে বিএনপির শত্রু বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্থীর শত্রু হিসেবে বিএনপির একাংশ নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে দেখে গেছে। বিএনপির একাংশের এসব নেতারা স্বয়ং নিজেরা মাঠে থেকে ধানের শীষের বিরোধীতা করে বিএনপিকে ঠেকিয়েছে। এতে করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির পক্ষ নিয়ে বিএনপির বিরোধীতা করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোটার ও নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টি সহ বিএনপি দলীয় একাংশ নেতাকর্মীরা। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে জাপা ও আওয়ামীলীগের বিরোধীতার পাশাপাশি বিএনপি দলীয় একাংশ নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের বিরোধীতা করেছেন। আর এসব ভোটার ও নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে বিতারিত করেছে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট ও সমর্থকদের উত্তম মধ্যম দিয়ে বের করে দিয়েছে জাপা ঘেঁষা বিএনপিরা। এছাড়া এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে জাপা ঘেঁষা বিএনপি অনেক নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীনদের সহায়তা করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধীতা করেছে। এমনকি তাদের মারধর পর্যন্ত করেছে। এদিকে ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদর-বন্দর আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম আকরাম তার বাসায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। তারা দায়িত্ব পালন করেনি। কোন কোন কেন্দ্রে তারা ক্ষমতাসীনদের সহায়তা করেছে। বিভিন্ন অজুহাতে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। হয়রানি করেছে। যাদের ঢুকতে দিয়েছে তাদেরও একটা সময় পরে বের করে দিয়েছে। উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ সকল কেন্দ্রে গিয়ে এজেন্টদের এবং ভোটারদের বের করে দিয়েছে। এর আগে এই আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে অনেকটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বিএনপি দলটির একাংশ যারা আগে থেকেই জাপা ঘেঁষা নেতা হিসেবে পরিচিত তারা ধানের শীষের প্রার্থী এস এম আকরামকে বয়কট করে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা শুরু করে। এমনকি বন্দর সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠে আকরামের আয়োজনে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছে সেই সমাবেশে ওইখানে করতে বাধা দেয়া মুকুল পন্থী ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ। যেকারণে আকরাম এর আগেও অভিযোগ করে বলেছে, ‘মুকুল পন্থী বিএনপি নেতাদের উপর বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নেই।’ এমনকি ঐক্যফ্রন্টের সেই সমাবেশে কালাম ও মুকুল পন্থীরা অনুপস্থিত থাকায় তাদেরকে দল থেকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহআলম ও মহানগর বিএনপির কমিটির সভাপতি আবুল কালামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হবে। আর বহিস্কার করা হতে পারে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, দপ্তর সম্পাদক ও ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা জমশের আলী ঝন্টু, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ। জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরুতে এ জেলার সদর-বন্দর আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির সাংসদ ও প্রার্থী সেলিম ওসমান বিএনপি সহ সর্বদলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। আর বিএনপি দলীয় সুবিধাবাদী একদল নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন সুবিধা আদায় ও হামলা মামলার ঝামেলা এড়াতে তার পক্ষ নেয়। এতে করে বিএনপি দলটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া এর আগেও ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনের বিএনপি দলীয় এসব নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেছে। তবে সেই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের কোন প্রার্থী ছিলনা। এতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটিতে সুবিধাবাদী কিছু নেতাকর্মী রয়েছে যারা দলের জন্য না ভেবে শুধুমাত্র নিজেদের কথা ভেবে দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আর দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধীতা করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিএনপি দলীয় নেতারা মারধর ও লাঞ্ছিত করে ভোটের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। এতে করে বিএনপি দলটির শত্রু এখন বিএনপি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *