যানজট মুক্ত শহর চায় না’গঞ্জবাসী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ শহরটি দিন দিন জন ভোগান্তির শহরে পরিনত হচ্ছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক শহরের মডেল আবার কেউ নারায়ণগঞ্জকে নববধূ রূপে সাজাবেন বলে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও বিজয়ী হওয়ার পর এখনও তাদের কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কারণে শহরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। জানাগেছে, শহরের প্রধন সমস্যা যানজট। যানজটের কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। তবে এ যানজটের নেপথ্যে রয়েছে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ডগুলো। এসকল পরিবহন স্ট্যান্ডগুলো থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো থেকে সকল চাঁদা আদায় করছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অথবা নেতাদের শেল্টারে থাকা চাঁদাবাজরা। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরে যানজট এখন নিত্যদিনের নিয়মে পরিণত হযেছে। প্রতিদিনই সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের যানজটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগাস্তির শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে দায়িত্বহীনতার কারনেই যানজট সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এই যানজটের নেপথ্যে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ডের কারনেই সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা ও ট্রাফিক পুলিশের ইন্ধনে অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো থেকে চাঁদা আদায়ের মধ্যদিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দেখা গেছে, চাষাড়া টু মুক্তারপুর রুটে খাজা সুপার মার্কেটের সামনে অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ড, সমবায় মার্কেটের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড, চাষাড়া টু চিটাগাং রুটে লেগুনা ও সিএনজি স্ট্যান্ড, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সামনে লেগুনা ও সিএনজি স্ট্যান্ড, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডের কারনে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিলা কলেজের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডটি পরিচালিত হচ্ছে রিপন সরদার নামে এক পরিবহন চাঁদাবাজের মাধ্যমে। এই চাঁদাবাজ রিপনই রাইফেল ক্লাবের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডটি পরিচালনা করছেন। সমবায় মার্কেটের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করছে কিছু অসাধু ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। খাজা সুপার মার্কেট ও সুগন্ধা বেকারীর সামনে অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ড পরিচালনা করছে ক্ষমতাসীন দলের পরিবহন নেতারা। প্রতিটি লেগুলা থেকে প্রতিদিন ৩’শ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। লেগুনা থেকেই প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও শহরের ২নং রেল গেইলস্থ ও জিম খানায় অবৈধ ইজিবাইক স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। জিমখানার অবৈধ স্ট্যান্ডে ইজিবাইক প্রতি দেড়শ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। তবে শুধু মাত্র এই অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে ক্ষমতাসীনরা নয় বরং বিএনপির ক্যাডার হাসানের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। হাসান বাহিনীর সদস্য রানা নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে হাসান বিএনপির ক্যাডার হলেও মহানজর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে। মূলত আরাফাতের শেল্টারেই হাসান বাহিনী প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করছে। অবৈধ স্ট্যান্ডটি জিম খানা হলে চাঁদা আদায় করা কয় বাবুরাইল থেকে। এ চাঁদার একাংশ সদর থানার এক পরিদর্শক পান বলেও জানাগেছে। সচেতন মহল বলছে, যানজন নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করে শহরের অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোকে উচ্ছেন করতে হবে। তাহলেই যানজট মুক্ত শহর পাবে নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *