তারা মহানগর বিএনপির নাকি সদর-বন্দর আসনের নেতা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির গঠনতন্ত্রের কোথাও আসনভিত্তিক কমিটি গঠনের নিয়ম রাখা হয়নি। যেখানে বলা হয়েছে জেলা, মহানগর এবং উপজেলা/থানা পর্যায়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে। একই সঙ্গে পৌরসভা, ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত। কিন্তুসদর-বন্দর আসনভিত্তিক কমিটি গঠন করে যেটাকে বলা হয়েছে এটা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি। যেখানে সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সেক্রেটারি এটিএম কামাল। এই আসনভিত্তিক গোজামিলের মনগড়া কমিটি গঠনের পর যখন বিএনপির দুই নেতা মামলা ঠুকে দিয়েছেন তখন সকল গোমর ফাঁস হয়ে গেছে। এখন এই গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কমিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টায় নেমেছেন কালাম ও কামাল। তবে নারায়ণগঞ্জে গোজামিলের কমিটি নাম বানানো এই প্রথমই নয়। এর আগেও ৯০ দশকে নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপির কমিটি ছিল। পরবর্তীতে সেটাকে করা হয় পৌর বিএনপির কমিটি। পৌর বিএনপির কমিটির ইজ্জত বাড়াতে নিজেরাই নাম দিয়ে দেন শহর বিএনপির কমিটি। শহরের ভেতর থেকেই আবার গঠন করা হয় সদর থানা বিএনপির কমিটি। যার নিয়ন্ত্রন ছিল আলীরটেক ইউনিয়ন ও গোগনগর ইউনিয়ন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। যেখানে সিদ্ধিরগঞ্জ, কদমরসূল ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সম্পৃক্ত করা হয়। সিটি কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দ্রুত মহানগরে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু বিএনপি এক্ষেত্রে এগুতে পারেনি। দীর্ঘদিন মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত না হওয়ার সুযোগে আবার নিজেদের কমিটির ইজ্জত বাড়াতে যার নাম দেয়া হয় নগর বিএনপির কমিটি! এটাতে পুরো কারসাজি এটিএম কামালের। নগর বিএনপি, শহর বিএনপি বলতে বিএনপির গঠনতন্ত্রের কোথাও নাম পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের রাজনীতি কখনই আবুল কালাম করেননি। তিনি একাধিকবার বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। যার পুরোটাই দলের কৃতিত্ব। কারন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রয়াত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন আবুল কালাম। ৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৮ম হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি হয়ে যান এমপি। তবে ইতিমধ্যে তারই পদাঙ্কনুসরণে রয়েছেন আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশাও। আশা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেও

পরাজিত হয়েছেন। আর এই আশাকেই করা হয়েছে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এতে প্রমানিত তার যোগ্যতা একমাত্র তার পিতা আবুল কালাম একাধিকবার এমপি! আবুল কালামও দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তার প্রয়াত পিতা জালাল উদ্দীনের বৌদলতেই। যাকে সবাই জালাল হাজী হিসেবেই চিনেন জানেন। এতেই প্রমানিত হয় আবুল কালাম নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনীতি করেন। যে কারনে তিনি তার পুরো আসন এলাকা নিয়ে কমিটি নিয়ে আসেন। যার নাম দেয়া হয়েছে মহানগর বিএনপির কমিটি! তার নির্বাচনের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে গোজামিলের কমিটি গঠন

করানো হয়। সদর-বন্দর আসনে রয়েছে বন্দরে সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড ও সিটি কর্পোরেশনের বাহিরের ৫টি ইউনিয়ন এলাকা এবং সদর থানাধীন আলীরটেক ও গোগনগর ইউনিয়ন। একই সঙ্গে ১১নং ওয়ার্ড থেকে ১৮নং ওয়ার্ড পর্যন্ত। আর এই আসন এলাকার কমিটি গঠনকে তারা নাম দিয়েছেন মহানগর বিএনপির কমিটি। কিন্তু যেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনের অর্থাৎ মহানগরীর মুল এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং থেকে ১০নং ওয়ার্ডকে বাদ দিয়ে তা জেলা বিএনপির কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এই বিষয়টিই মেনে নিতে পারেনি ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির দুই নেতা। ফলে তারা গঠনতন্ত্র বর্হির্ভূত কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন। এই মামলার জন্য এই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানকে দায়ী করছেন কমিটির নেতারা। তারা ইতিমধ্যে মিটিং করে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে বহিষ্কার আদেশ চেয়ে প্রস্তাবনা পাশ করেছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *