না’গঞ্জ আ’লীগে ভিড়ছে স্বাধীনতা বিরোধীরা বেকায়দায় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ক্ষমতার সুবিধা নিতে বিভিন্ন দল থেকে জেলার উপজেলা আওয়ামীলীগে প্রবেশের লাইন ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। আর তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির তৃনমূল নেতাকর্মীরা। তৃনমূল নেতাকর্মীরা তাদের অভিযোগে জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্য দিয়েই সুবিধাবাদীরা বেশি অনুপ্রবেশ করছে। এতে বিএনপি-জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধী বা স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সদস্যরাও চোখের পলকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন। বাগিয়ে নিচ্ছেন পদ-পদবিও। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আর কমিটিগুলোতে দলের নিবেদিত প্রান এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরাই মূল্যায়িত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। এছাড়া আওয়ামী লীগে বা সহযোগী সংগঠনে জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্যদের নেয়া হবে না। হয় তো দু-একটা জায়গায় এমনটা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রতিবেদন এলে ব্যবস্থাও নিচ্ছি। সহযোগী সংগঠনগুলো তো আওয়ামী লীগের বাইরে আলাদা কোনো নিয়মে চলতে পারে না। সুতরাং তাদের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের আওয়ামী লীগের নিয়ম মানতে হবে। জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ১০ বছরের বেশি সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অনেক ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে নারায়নগঞ্জ আওয়ামীলীগে। তবে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কত সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মী ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। তবে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্য দিয়ে তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। তবে মূলদল আওয়ামী লীগে কিছুটা কড়াকড়ি থাকায় মূলত সহযোগী সংগঠনগুলোকে তারা প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র এক নেতা বলেন, নির্দেশনা থাকলেও বিষয়গুলো (আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ) থেমে নেই। বিশেষ করে সহযোগী সংগঠনগুলো আরও বেশি সুযোগ করে দিচ্ছে সুবিধাবাদীদের। সহযোগী সংগঠনের নেতারা নিজেদের সুবিধার জন্যই মূলত অন্য দল থেকে আসা লোকজনকে জায়গা করে দিচ্ছেন। আবার ভালোভাবে দেখছেনও না তারা কোথা থেকে আসছে বা কেন আসছে। পৃথক সংগঠন হওয়ায় জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরও এ বিষয়ে কিছু করার থাকে না। আবার জেলা আওয়ামীলীগ থেকেও এগুলো সব সময় জানাও সম্ভব হয় না। জামায়াত-শিবির-বিএনপির অনুপ্রবেশ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভাগুলোতে  স্থাণীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুবিধাবাদীদের কারণে দলে কী কী সমস্য হচ্ছে তা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তুলে ধরে দ্রুত জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওমরায় যাওয়ার আগে বলেছেন, আমাদের এখানে যুব মহিলা লীগ ও কৃষক লীগ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যারা কোনো দিনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। বরং যারা আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতাবিরোধী তাদের পরিবারের সদস্যদের (সহযোগী সংগঠনে) স্থান দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রকে অবহিতও করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *