ক্ষমতাসীনদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে সুযোগের অপেক্ষায় বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মহাজোট দলটি ফের ক্ষমতায় গেলে রাজনীতিক প্রেক্ষপটে আরো নতুন মাত্র যুক্ত হয়। বেকায়দায় থাকা বিএনপি দলটি ফের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ হারিয়ে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করলে তাদেরকে বেশ নিরব ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটির মধ্য প্রভাব বিস্তার সহ নানা কারণে একের পর এক দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। আর সেসব দ্বন্দ্বের ঘটনায় হামলা, সংঘর্ষের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোট দলটি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ঐকফ্যন্ট দলকে পরাজিত করে। এতে করে বিএনপি দলটি সেই একই অবস্থানে থেকে যাবে। আর তাতে করে হামলা, মামলায় বেকায়দায় থাকা বিএনপি দলটির অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম দল আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার সহ ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব কোন্দলের চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের ৬নং ওয়ার্ডে আদমজী নতুন বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগ সভাপতি মতিউর রহমান মতিকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ওই ঘটনার জের ধরে মতির সমর্থকরা গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গড়ে তোলা শামীম ওসমানের নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া প্রতিপক্ষ আবদুল হান্নান ও ইসমাইলদের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। এসময় কয়েকজন নারীও শ্লীলতাহানির শিকার হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ এ সময় ১৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এদিকে আওয়ামীলীগ ফের ক্ষমতায় আসার পর ফতুল্ল¬ায় সেক্টর দখলের মহৎসবে সরকারী দলের নেতারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। পঞ্চবটিতে শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বাহিনীকে হটিয়ে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অটোবাইক স্ট্যান্ডটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে দুদিন অতিবাহিত হতেই আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল বাহিনী জোরপূর্বক দখল নিয়ে নেয়। এতে করে পঞ্চবটিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমান এমপি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর পঞ্চবটি-পাগলা সড়কে চলাচলরত ইজিবাইক স্ট্যান্ডটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ফতুল্ল¬া থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। সে তার লোকজন নিয়ে পলাশের লোকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইজিবাইক স্ট্যান্ডের অফিসটি তাদের দখলে নিয়ে নেয়। আর অফিসে থাকা পলাশের ছবি নামিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সাটিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু দুইদিন পরই আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে অটো স্ট্যান্ডটি ছিনিয়ে নিতে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের বাহিনী হানা দেয়। এসময় মীর সোহেলের নির্দেশে ফাজিলপুরের শাহিন, হিরো, দুলু, বাবুল, স্বপন সরদার, ফারুক সহ আরো কয়েকজন আনোয়ারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইজিবাইক স্ট্যান্ডের অফিস জোর করে দখলে নিয়ে নেয়। শাহিন গংরা আনোয়ারকে হুঙ্কার দিয়ে বলে ইজিবাইক স্ট্যান্ড মীর সোহেলের লোকদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এখনো আনোয়ারকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে পঞ্চবটিতে এলাকার ইজিবাইক স্ট্যান্ড দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এতে ফের দখলবাজির রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। আর ক্ষমতাসীন দলের তিন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা দিয়েছে। তাতে করে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে আকার ঘারণ করছে। এই যখন ক্ষমতাসীন দলটির অবস্থা তখন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটি অবস্থান বেশ নাজুক অবস্থানে রয়েছে। কারণ বিএনপি দলটি নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই হামলা, মামলায় জর্জরিত অবস্থায় রয়েছে। আর সে কারণে বিএনপি দলটি কোনভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছিলেননা। এর মধ্য আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি দলটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু শেষতক বিএনপি দলটি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেন। এতে করে বেকায়দায় থাকা বিএনপি দলটি আরো কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে। যেকারণে ডজন ডজন মামলা নিয়ে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা এই পরিস্থিতিতে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেছে। সূত্র বলছে, বিএনপি দলটি যতবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে তাদেরকে দমাতে হামলা, মামলা ও গায়েবী মামলা দিয়ে দমানো হয়েছে। এতে করে বিএনপি দলটি বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যখন বিএনপি দলটি ফের পরাজিত হয় তখন দলটির নেতকর্মীদের অনেকে দল ত্যাগ করে ক্ষমতাসীন দলে ভিড় করেন। যেকারণে বিএনপি দলটি একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলা, মামলা মাথায় নিয়ে বিএনপি দলটি নির্বাচনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে পড়েছে। এতে করে ক্ষমতাসীন দলটি এখন বিএনপিকে ছেড়ে নিজেদের আখের গুছাতে ও প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। যেকারণে তারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *