শামীম ওসমানের প্রতি আস্থা তৃনমূলের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের আওতাধীন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কমিটিগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে কোন কোনটির মেয়াদ দ্বিগুনেরও বেশী সময় পার করে ফেলেছে। তথাপি মেয়াদোত্তীর্ন কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি না দেয়ায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছেনা। এ পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে পদবঞ্চিত দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে অন্য কোন পেশায় চলে যেতে পারে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ঠিক এভাবেই মনোভাব প্রকাশ করেছেন তৃনমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী। মেয়াদোত্তীর্ন প্রতিটি কমিটি বিলুপ্ত করে মূল দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নতুন কমিটি দিতে পুনরায় নির্বাচিত সাংসদ শামীম ওসমানের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। নতুন সরকারের নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদের ইঙ্গিত করে নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সবসময় তরুনদের মূল্যায়ন করেন, এটি তাঁর বড় প্রমান। তরুনদের মূল্যায়ন করত গিয়ে বাঘা বাঘা নেতাদের তিনি এবারের মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দিয়েছেন। অথচ সেই বিচক্ষন নেত্রী শেখ হাসিনার দল ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মূল দলসহ অধিকাংশ অঙ্গ সংগঠন এক যুগেরও বেশী সময় পার করে ফেলেছে। তার উপর ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগর সভাপতি সাইফুল্লাহ্ বাদলতো বয়সের ভারে নুজ্জ হয়ে পড়েছেন। তথাপি এ কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। আরেকদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ফতুল্লা থানা কমিটির প্রথমে আহবায়ক পরে সভাপতি পদে রয়েছেন হাজী ফরিদ আহাম্মেদ লিটন। এদিকে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মজিবুর রহমানকে সভাপতি ও ইয়াসিন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির গঠন করা হয়। ২০০৫ সালে মতিউর রহমান মতিকে আহবায়ক করে একই থানা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও একই থানা স্চ্ছোসেবক ও ছাত্রলীগ কমিটির অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। ২০০৪ সালে সাইফুল্লাহ বাদলকে সভাপতি ও শওকত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৬ সালে মীর সোহেল আলীকে সভাপতি ও ফায়জুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ফতুল্লা থানা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। শরিফুল ইসলাম শরিফকে সভাপতি ও আব্দুল মান্নানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০০৫ সালে একই থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে প্রায় সবগুলো কমিটি এক যুগেরও বেশী সময় পার করে ফেলেছে। তবে উপরোক্ত কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করা না হলেও প্রায় সবকটি কমিটি সাংগঠনিক দিক থেকে এখনো অনেক শক্তিশালী এবং দক্ষতার সাথে দলীয় কর্মকান্ড পালন করে চলেছেন। এর সাথে একমত পোষন করে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, আমরা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি করে আসছি বা দলের স্বার্থে নানাভাবে অবদান রেখে চলেছি সেহেতু আমাদেরওতো ইচ্ছে করে বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব দিতে। এখন বিগত নেতারাই যদি ১২/১৫ বছর পদ আকড়ে থাকেন তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কি? যেকারনে আমাদের মনেকরি প্রিয় নেতা সাংসদ শামীম ভাইয়ের প্রথম কাজ হবে মেয়াদোত্তীর্ন কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে নতুনদের সুযোগ করে দেয়া।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *