দুই বছরেও কথা রাখতে পারেনি আইভী !

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বর্ষপূর্তির দিনেই নগরবাসীর বহুলকাঙ্খিত ‘হাতির ঝিল’ জিমখানা লেক উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নগরমাতা ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। কিন্তু সেইদিন সেই লেকের মাঠে তিনি ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও লেকটি আর উন্মুক্তকরণের ঘোষণা করতে পারেননি। এরপর দেখতে দেখতে আরো একটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো অবদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি মেয়র আইভীর ঘোষিত প্রতিশ্রুতির। গতকাল বুধবার বছর ঘুরে আবারো এলো সেই দিনটি। ২০১৭ সালের যেই দিনে নগর ভবনে টানা দ্বিতীয়বারের মত নগরমাতার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। অথচ, এবার এই দিনটিকে ঘিরে আর ‘জনতার মুখোমুখি’ হননি মেয়র আইভী। ফলে ঘোষণা স্বত্তেও জিমখানা লেক উন্মুক্তকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার জবাবদিহিতা আর তাকে নগরবাসীর কাছে করতে হয়নি মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। জানাগেছে, প্রায় ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের ৯ আগষ্ট রাজধানীর হাতির ঝিলের আদলে জিমখানায় ‘শেখ রাসেল পার্কের’ নির্মান কাজ শুরু করেছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। লেকটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। উত্তর প্রান্ত দেওভোগ কাঠের দোতলা মহল্লায়, দক্ষিণ প্রান্ত যুক্ত হয়েছে মদিনা মার্কেটের সামনে বাবুরাইল খালের সঙ্গে। ঢাকায় যেমন হাতিরঝিল, নারায়ণগঞ্জের জিমখানা লেকটিও সংস্কার করে সেভাবেই গড়ে তোলা হচ্ছে। লেকের পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, উত্তর প্রান্তে লোকজনের বসার জন্য অর্ধবৃত্তাকার সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে বাঁধানো আসন তৈরী করা হয়েছে। তার ওপর ছাউনীর মতো করে সুদৃশ্য ধাতব কাঠামো। সেই কাঠামোর পাশে মৌসুমী ফুলের গাছ লাগানো রয়েছে। এর পাশে পূর্ব ধারে তৈরী করা হচ্ছে উন্মুক্ত মঞ্চ। চারুকলার মাঠে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। লেকের উভয় পাড়ে বসার জন্য আরও দুটি প্যাভিলিয়ন এবং লেকের ওপরে ঝুলে থাকা দুটি ‘ভিউয়িং ডেক’ তৈরী করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মানাধীন লেকটির সংস্কারকাজ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সময় ছিল। যার প্রেক্ষিতে, ঐ বছরের অক্টোবরে লেকের কাজ পরিদর্শনে এসে সিটি মেয়র আইভী ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারী সাধারণ জনগণের জন্য লেকটি উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ঘোষণার বছর পেরিয়ে গেলেও উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি জিমখানা লেকের। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিনোদন প্রেমীদের এই লেকের পাশে আড্ডায় গল্পে সময় অতিবাহিত করতে দেখা গেলেও ধীরগতিতে লেকের নির্মান কাজ চলতে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তারা চলতি বছরের মধ্যেই জিমখানা লেকটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে মেয়র আইভীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী এস এম মশিউর রহমান জানান, জিমখানা লেকের পূর্ব দিকের খোলা জায়গায় একটি মাঠ ও বাগান করা হচ্ছে। বাকী অংশে স্কেটিং ও সাইকেল জোন, পুরুষ ও নারীদের জন্য দুটি পৃথক জিমনেসিয়াম ও দুটি টয়লেট করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুরো প্রকল্প এলাকা সবুজায়ন করার লক্ষ্যে ইতোপূর্বেই প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে। শীঘ্রই জনসাধারনের জন্য মেয়র আইভী জিমখানা লেকটি উদ্বোধনের পর উন্মুক্ত করে দিবেন। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে বাবুরাইল খালের খননকাজও অনেক এগিয়েছে। মন্ডলপাড়া ব্রীজ থেকে টানবাজারের মীনা বাজার এলাকা পর্যন্ত বাবুরাইল খালের খননকাজ চলছে। খালের পশ্চিম প্রান্ত যুক্ত হবে জিমখানা লেকের সঙ্গে আর পূর্ব প্রান্ত মিশবে শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে। পুরো খনন শেষে পাড় বাঁধ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হবে। খালের ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের পর সেখানে নৌকা ভ্রমণসহ নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *