ফতুল্লায় একক রাজত্ব চালাচ্ছে পলাশ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় নিজেই উল্লেখ করেছিলেন ফতুল্লার আলীগঞ্জ ও পাগলা সহ আশে পাশে এলাকার একমাত্র অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পদক কাউসার আহমেদ পলাশ। শ্রমিক নেতা হলেও চলেন বিলাশ বহুল গাড়িতে। যেখানেই যান গাড়ি বহর সঙ্গে নিয়ে যান। তাই তারই দাবিকৃত এমন অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা সত্যই ওই অঞ্চলে দেখা যায় না। যেসকল শ্রমিকেরা ওই অঞ্চলের গাড়ি ও দলবল নিয়ে চলাফেরা করেন তারাও পলাশের অন্যতম সহযোগিরাই। ফলে নিজের নির্বাচনী এলাকা হলেও সুবিধা করে উঠতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানের অনুগামীরা। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লা অঞ্চলটি শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। যেখানে গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি, ডকইয়ার্ড, রিরোলিং মিল, স্টিল মিল, সিমেন্ট কারখানা সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে লাখ লাখ শ্রমিক ওইসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন যার মধ্যে রয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক, জাহাজী শ্রমিক, দিনমজুর। আর শিল্প অঞ্চল হওয়ায় এখানে যানবাহনের চাপও বেশি। যার জন্য এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিকশা, অটোরিকশার একাধিক গ্যারেজ। আছে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডও। আর এসব শ্রমিকদের একক ভাবে নিয়ন্ত্রণ কররেন শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। এ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের জন্যও রয়েছে বিশাল বাহিনী। ওই বাহিনীর লোকজনও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি, সেক্রেটারী কিংবা সদস্য পদে রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের এ বিশাল বাহিনী নিয়ে ফতুল্লা এলাকায় এক রাজত্ব গড়ে তুলছেন কাউসার আহমেদ পলাশ। কাউসার আহমেদ পলাশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদীর ঘাট, লঞ্চ ঘাট, নদীর তীর, চরাঞ্চল, রি-রোলিং মিল, লোড আনলোড, পোশাক কারখানা, ডাইং কারখানা, নির্মাণ সামগ্রী বিক্রিয় কেন্দ্র সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ব্যাটারী চালিত রিকশা ও অটোরিকশা, রিকশা, সিএনজি, ট্রাক, লোকাল বাস সহ বিভিন্ন পরিবহন। এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা হলেও এখানকার ভোটারদের থেকে দিগুন বসবাস করেন বহিরাগত শ্রমিক। যারা বরিশাল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, ফরিদপুর, ফেনী সহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা। ফলে এরা এমপি শামীম ওসমানের আওতাভুক্ত নয়। কিংবা শামীম ওসমানের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া শামীম ওসমানের অনুগামী নেতারা কেউই শ্রমিক নেতৃত্ব দেন না। যার কারণে শ্রমিকদের নেতৃত্ব দেন পলাশ। পলাশ এক সময় শামীম ওসমানের অনুগামী থাকলেও শ্রমিক শ্রেণীকে নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে এখন একাই ফতুল্লা অঞ্চলের নেতৃত্ব দেন। ফলে শামীম ওসমান কিংবা তার অনুগামী নেতারাও ফতুল্লা এলাকায় কর্তৃত্ব দেখাতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। ফতুল্লা এলাকায় একক কতৃত্ব নেওয়ায় রাজনীতিতে কদর বেড়েছে কাউসার আহমেদ পলাশের। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের কাছে তার কদর বেশি। এর সূত্রে ধরে কোন অনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও তার বাড়িতে আসেন। তখন তারাই অনুগামীরা জানিয়েছিল প্রায়ই মন্ত্রী পলাশের বাসায় কিংবা শ্রমিক সংগঠনের অফিসে আসতেন। শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধ ও এসব কারণে জেলা আওয়মীলীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ট হয়ে উঠেন পলাশ। যেকোন অনুষ্ঠানে ওইসব নেতাদের পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় কাউসার আহমেদ পলাশকে। এমনকি লোকবল দিয়ে ওইসব নেতাদের সভা সমাবেশ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করেন পলাশ। এমনকি প্রশাসনের কর্মসূচিতেও শ্রমিক শ্রেনির মানুষদের ট্রাক ভরে পাঠিয়ে দিয়ে থাকে পলাশ। কথিত আছে এক সময় শামীম ওসমানের কর্মসূচিও সফল কারার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো পলাশ। যার কারণে শামীম ওসমানের খুব ঘনিষ্ট হয়ে উঠে পলাশ। যার কারণে খুব সহজে ফতুল্লা অঞ্চলে একক রাজ্য গড়ে তুলতে পলাশ। এর ফলশ্রুতিতে শামীম ওসমানের বিপরীতে এমপি হওয়ার জন্য বিগত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন কাউসার আহমেদ পলাশ। চূড়ান্ত বাছাই পর্বে পলাশের মনোনয়ন অবৈধ হিসেবে বাতিল করে নির্বাচন কমিশনার। ওই মনোনয়নপত্র দাখিলে দেওয়া কাগজপত্রে দেখা যায় কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজী, দখল ও মারধর সহ ২২টির অধিক মামলা রয়েছে। তাঁর অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একাধিক। বিশাল সম্পদের মালিক বনে আছেন তিনি। শ্রমিক নেতা হলেও দেখানো হয়েছে ওইসম্পদের অর্থ আসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এক তৃতীয়াংশ ভোটারের স্বাক্ষরও ছিল ভুল তথ্যের। ‘জোর যার মুলুক তার’ ফতুল্লা অঞ্চলের একক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও জেলার সভাপতি কিংবা উপদেষ্টা পদে আসিন থাকেন পলাশ। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন পলাশ। এখানেই শেষ নয় শ্রমিক সংগঠনের নামে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় ব্যাটারী চালিত রিকশা ও অটোরিকশার অনুমোদন দেন। ফলে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর ওইসব রিকশার অনুমোদন দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যারা অনুমোদন নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন তাদেরকে মারধর করে যানবাহন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।  বিভিন্ন অভিযোগ, সমালোচনা শুনলেও পলাশের বিকল্প হিসেবে এখনও পর্যন্ত ফতুল্লা এলাকায় গড়ে উঠছেনা। বিকল্প নেতৃত্ব না থাকায় শ্রমিকেরাও বন্ধ হয়ে আছে পলাশের হাতের মুঠোতে। ফলে পলাশের বৃত্ত ভেঙে শামীম ওসমানও শ্রমিকদের মুক্ত করতে পারছেন না। শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে হুশিয়ারী দিলেও কার্যত কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করতে পারেননি। এমপি হয়েও ব্যর্থ শামীম ওসমান। (সূত্র- নিউজ নারায়ণগঞ্জ)

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *