ধনী হওয়ার প্রতিযোগীতায় ক্ষমতাসীনরা!

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কতিপয় নেতারা ধনী হওয়ার প্রতিযোগীতায় নেমেছেন। টানা তৃতীয়বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেও নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামীলীগের তেমন গতি না ফিরলেও নেতাদের বেশ ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। থানা ও উপজেলা পর্যায়েআওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের বেহাল অবস্থায় থাকলেও নেতাদের বাড়ি-গাড়ীর বেশ পরিবর্তন এসেছে। এছাড়াও জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতারা দলের পদ-পদবীর প্রভাব খাঁটিয়ে টেন্ডারবাজী থেকে শুরু করে বির্তকির্ত কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছেন। এব্যাপারে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের নিশ্চুপ ভূমিকার কারণে দলের ইমেজ দিন দিন ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সম্মেলনের পূর্বে সাড়া দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের বির্তকিতরা নিশ্চুপ থাকলেও বর্তমানে তারা আবারো প্রকাশ্যে এসেছেন। অভিযোগে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল উন্নয়ণ প্রকল্প একক ভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা। ঐ নেতা অতীতে ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কল্যানে জেলা আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ হাকিয়ে নিয়েছেন ঐ বিতর্কিত নেতা। সূত্র বলছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে চলছে ধনী হওয়ার প্রতিযোগীতা। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা রীতিমত রাজনীতিকে ব্যবসায়ে পরিনত করেছেন। এর ফলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে রাজনীতির সঠিক চর্চা হচ্ছে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, রাজনীতির সঠিক চর্চা না থাকায় নতুন নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না। পাশাপাশি নামধারী আওয়ামীলীগ নেতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জে রাজনীতির অবস্থা অনেকটা বেহাল দশা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর অতিবাহিত হলেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের তেমন সাংগঠনিক গতি ফিরেনি। বরং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার বাস্তবায়নের চাইতে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কতিপয় নেতারা। এছাড়াও অভিযোগে রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করে ঝুট সন্ত্রাসী, তেল চোর, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজরা নামের সাথে লীগ যুক্ত করে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এতেকরে সাংগঠনিক ভাবেও আওয়ামীলীগের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামীলীগের পদধারী অনেক শীর্ষ নেতাই গত দশ বছরে আঙ্গুল কলাগাছ বনে গেছেন। জেলা ও মহানগর কমিটিতে থাকা অনেকেই রয়েছেন যারা কর্মী শূণ্য। আবার কেউ কেউ রাজনীতির ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অথচ এক দশক আগেও এরাছিল কপরদকহীন তাই মাঠ পর্যায়ের আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের দাবি হঠাৎ করে এক দশকে যাদের এই পরিবর্তন ঘটেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ার চাইতে ধনী হওয়ার প্রতিযোগীতা সবচেয়ে বেশি। এদিকে আওয়ামীলীগের সুবিধাবাদি নেতাদের ভিড়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা বরাবরের মতই অবমূল্যায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের চাপে আওয়ামীলীগের অনেক ত্যাগী নেতা রাজনীতি থেকে অনেকটা নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *