ভূয়াদের দৌড়াত্বে আসলরা বিপাকে!

পরনে অবিকল পুলিশের পোষাক। হাতে অস্ত্র আর ওয়াকি টকিও থাকে। অনেকের হাতে আবার ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল লাইট। দেখে বোঝার কোন উপায় নেই আসল না নকল। তবে, এরা অনেক বড় ধরনের অপরাধ ঘটাতে পারদর্শী। সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধ ঘটাতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের আসল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে অনেক নকল বা ভুয়া পুলিশ। আবার অনেক ভুয়া পুলিশকে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটেছে। সচেতন মহলের মতে খাঁটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আর ভুয়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চেনা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের এখনই কঠোর হওয়া উচিৎ। আর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার বলছেন, সাদা পোশাকে পুলিশের একাধিক টিম রয়েছে কাজ করছে ভুয়াদের ধরতে। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নম পার্ক থেকে সামান্য দূরে। এক ভদ্রলোক ড্রাইভারের সাথে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। হঠাৎ চারজন লোক গাড়িটি ঘিরে ধরেন, তাঁদের কারও হাতে ওয়াকিটকি, কারও পরনে পুলিশের পোশাক। তাঁরা নিজেদের পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দিলেন এবং লোকটিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে জোর করে গাড়িতে ওঠে পরেন। সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে শুরু করে গাড়িটি। পথে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে গাড়ীটি ভুইঘর পৌছাতেই দূর্ঘটনায় পতিত হয়। সেই সঙ্গে গাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসে ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’ আর্তচিৎকার। জনতা ছুটে আসে। ফাঁকে পুলিশ পরিচয়ধারী লোকগুলো তাঁদের ওয়াকিটকি-পিস্তল ফেলেই লাপাত্তা হয়ে যান, আটক করতে সক্ষম হয় শামীম নামের এক যুবককে। অপহৃত হতে যাওয়া লোক ও গাড়িটিকে উদ্ধার করা হয়। তারপর পুলিশ আসে। জনতা জানতে পারে, পুলিশ গুলো ভুয়া। এটা গত ৪ জানুয়ারির ঘটনা। এর ১ দিন পরই ৬ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির সময় নারায়ণগঞ্জে বসবাসকারী ২ যুবকসহ ৩ জনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল স্থানীয়রা। এরপর ৮ জানুয়ারি রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ফ্যাফকন টেক্সটাইল নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ২ জন কর্মকর্তা ও চালক ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবার পথে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ছিনতাইকারী অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩৯ লাখ টাকাসহ প্রাইভেটকার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ওই ঘটনায় ৩জনকে আটক করা হয়। এর আগে ৭ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকা থেকে মো. আলমগীর খাঁ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, সে নিজেকে সেনা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর দুই দফা দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ব্যর্থ হয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ৯ জানুয়ারি সোনারগাঁ থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ট্রাকসহ ৩৭টি গরু ছিনতাই করা হয়। ১০ জানুয়ারি সোনারগাঁ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার জাকির হোসেন, তার সহযোগী রবিন, মামুন ও নবী হোসেনকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী পরের দিন (১১ জানুয়ারি) ঢাকার খিলগাঁও নাসিরাবাদ এলাকায় নবী হোসেনের গরুর খামার থেকে ওই ৩৭টি গরু উদ্ধার করা হয়। ১০ জানুয়ারি গাড়িতে সঙসদ সদস্যের স্টিকার লাগিয়ে মাদক পাচার করার অভিযোগে নরসিংদী থেকে ২ জনকে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব সদস্যরা (র‌্যাব-১১)। সেসময় গাড়ি থেকে ৮৭৩ বোতল ফেনসিডিল ও ১৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ১২ জানুয়ারি র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে ফতুল্লার ভুইঘর থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক এসআই(উপ পরিদর্শক) রাশেদুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি সাইনবোর্ড এলাকায় ভূয়া র‌্যাব সন্দেহে আরো ৩ ব্যক্তিকে গণপিটুনী দিয়েছে স্থানিয়রা। পরবর্তিতে র‌্যাব-১০ এসে তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, এখন নারায়ণগঞ্জে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এটা এমন এক সময়, যখন খাঁটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আর ভুয়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে চেনা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আমি মনে করে তাদের পিছনে সরকারের কারো হাত রয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পবিত্র মান-মর্যাদা রক্ষার জন্য এদের (ভুয়া) বিরুদ্ধে এখনই কঠোর হওয়া উচিৎ। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ভুয়া পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সেনাবাহিনীর সদস্য। যাই হোক না কেন, এদের ধরতে হাইওয়ে গুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশের একাধিক টিম রয়েছে। এছাড়া ঘণবসতি এলাকা গুলোতেও পুলিশ কাজ করছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান, এমন কাউকে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ কিংবা ৯৯৯ এ ফোন দিতে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *