লেগুনা পরিবহনে শিশু চালক!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চাষাঢ়া থেকে বঙ্গবন্ধু সড়ক, লিংক রোড কিংবা সলিমুল্লাহ রোড সকল রোডেই যাতায়াতের অতি পরিচিত একটি যানবাহন লেগুনা পরিবহন। এটা সিটি সার্ভিস, বুড়িগঙ্গা সার্ভিস এবং ইউনিটি সার্ভিস। যাতায়াতে সুবিধা হওয়ায় এইসব লেগুনা দিয়ে অনেক যাত্রী যাতায়াত করে। নগরের ব্যস্ততম সড়কে যাত্রী বোঝাই করা এসব লেগুনার স্টিয়ারিং সামলাচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দিয়ে। যেখানে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোই নিষিদ্ধ। সেখানে শিশু দিয়ে গাড়ি চালনার মতো ভয়ঙ্কর কাজ পরিচালনা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সের শিশুরা লেগুনা চালাচ্ছে। প্রতিটা লেগুনায় ১৪-১৫ জন যাত্রী যাতায়াত করে। চাষাঢ়া থেকে ৩ রুটে প্রায় ২ শতাধিক লেগুনা চলমান। বেশির ভাগ চালকের বয়স ১৮ এর চেয়ে অনেক কম। চালক বাদে চালকের সহকারী সবই শিশু। এসব শিশুদের বয়স ৬-১২। এই শিশুরা লেগুনার সিড়িতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের থেকে ভাড়া সংগ্রহ করে। জীবন ঝুঁকি নিয়ে তারা যেভাবে কাজ করে যেকোন সময় হতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জানা যায়, বেশিরভাগ লেগুনার চালকদের কোন লাইসেন্স নাই। কম খরচে তাদের ওপর মালিকপক্ষের প্রভাব বিস্তার করতে সহজ হওয়ায় শিশুদের দিয়ে লেগুনা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যাথোরিটি’র (বিআরটিএ) আইন অনুযায়ী ভাড়া গাড়ি চালাতে একজন চালকের বয়স ন্যূনতম ২০ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। আর প্রাইভেট গাড়ির চালকের বয়স হবে সর্বনি¤œ ১৮। কিন্তু আইন থাকতেও যেন কোন আইন নেই। সকলের চোখ বাঁধা। আইন না মেনেই শিশুদের হাতে স্টিয়েরিং ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিশু চালকদের কোনো অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান না থাকায় তারা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সহকারীর কাজ করতে করতে কখন যে তারা চালক হয়ে গেছে এ খবর জানেন না অনেকেই। প্রতিদিন প্রশাসনের চোখের সামনে হাজারো শিশু চালক লেগুনা বা গাড়ি চালালেও প্রশাসনের কোন ভূমিকা দেখা যায় না। আনাড়ি এসব চালকের কারণে প্রতিদিন অনেক জায়গায় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। যে সময় তাদের বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা সে সময় জীবিকার তাগিদে কিছু অসাধু মালিকের প্রলোভনে পড়ে জীবনটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। সাইনবোর্ড থেকে লেগুনা নিয়ে রওনা হয়েছেন চালক মানিক। বয়স ১৭। কিন্তু গাড়ি চালনার পেশায় আছেন ৫ বছর। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বাপ নাই। মায় মাইনসের বাড়িতে কাম করে। ছোট দুইডা বইন আছে। আমার আর মার টেকা দিয়াই সংসার চলে। আগে হেল্পারি করছি। আর এরপর ড্রাইবার হইছি। আগে আল্লাহ ভরসা বাস চালাইতাম। এখন লেগুনা চালাই। প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়া ছয়শ থেকে সাতশ টাকা হাতে থাকে।’ অন্যদিকে সিটি সার্ভিস এর আরেক চালকের সহকারী হাসান। বয়স ৯। সে প্রায় ১ বছর যাবৎ চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। শীগ্রই সে ও তার পাশের বন্ধু শরীফ  ড্রাইবার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ব্যস্তময় তিনটি সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, চাষাঢ়া- চিটাগাংরোড, বঙ্গবন্ধু সড়ক। প্রতিটি সড়কেই প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু সেই সব মানুষের জীবন ঝুঁকিতেই চলছে লেগুনা। লেগুনার যাতায়াতকারী ভূইগড়ের বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, আসলেই ড্রাইবারের দিকে তাকিয়ে মাঝে মধ্যে অবাক হয়ে যাই। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের চালাচ্ছে দেখে। আসলে সব জায়গায়ই একই অবস্থা। আমাদের থেকে লেগুনায় বাসের দামের সমান ভাড়া রাখে। তারপরেও শিশু ড্রাইবার দিয়ে গাড়ি চালানোর মানে কি? আমাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে। ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই তো গাড়িগুলো চলছে। তারা কি আইন জানে না? কিছুই বলে না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *