সেই আলাউদ্দিন গ্রেফতার অত:পর…..!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গ্রেফতারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বহুল বিতর্কিত নেতা আলাউদ্দিন হাওলাদার। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামান বাদীর হলফনামায় এবং বাদীর উপস্থিতিতে এই জামিন মঞ্জুর করেন। সূত্র জানায়, মধ্যযুগীয় কায়দায় যুবকদ্বয়কে নির্যাতনের ঘটনায় নাজমা বেগম নামে এক নারী মামলা দায়ের করেন আলাউদ্দিন হাওলাদারসহ ৫ জনের নামে। এ ঘটনায় আলাউদ্দিন হাওলাদার এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এ নিয়ে থানা পুলিশ প্রশ্নবিদ্ধ হলে নানামুখি সমালোচনার মুখে শুক্রবার  ভোরের দিকে সূত্রাপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়, দাবি করেছিলেন ফতুল্লা থানা পুলিশের ওসি আসলাম হোসেন। এরপর বিকেল তিনটার দিকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় বিতর্কিত আলাউদ্দিনকে। পরে বাদীর হলফনামায় এবং তার উপস্থিতিতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে আলাউদ্দিনকে হাজির করা হলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। এদিকে একটি সূত্র জানায়, ১৫ জানুয়ারি প্রেসক্লাবে পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে সাংবাদিকেরা আলাউদ্দিন হাওলাদার গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ক্ষোভ প্রকাশের দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় বিতর্কিত আলাউদ্দিনকে। তবে, এর আগে পুলিশ সুপার এ ব্যাপারে থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ দেখিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আলাউদ্দিন হাওলাদারকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে থানা পুলিশ। শুরু হয় কিছুটা নাটকীয়তা। পুলিশ দাবি করেছিলেন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আলাউদ্দিন হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন এই বিতর্কিত ব্যক্তি। এর আগে অবশ্য বাদীকে রাজি করানো হয় হলফনামা প্রদানে। মূলত জামিন পেতে কোথাও কোনো রকম বিপত্তি ঘটবে না, এমন নিশ্চিত হওয়ার পরই শুক্রবার ভোরে ধরা দিয়েছেন আলাউদ্দিন। পুলিশ সূত্রাপুর থানা এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে নিয়ে আসেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে, সব কিছুর ইন্তেজামের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকাও খরচা করতে হয়েছে আলাউদ্দিনকে। তবে, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন জানিয়েছিলেন, আলাউদ্দিন হাওলাদার মামলা দায়েরের পরপরই পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শাহী মহল্লা এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বিদেশী জাতের ছাগল চুরি হয়। এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর মুসলিমপাড়া এলাকার রাতুল ও নাঈম নামে দুই যুবককে ধরে আনা হয় কুতুবপুর দুই নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদারের অফিসে। এখানে এই নেতার নির্দেশে তারই সামনে ওই দুই যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একটি ভিডিও ৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ টুডে’র কাছে আসলে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারি নির্যাতনের শিকার নাঈমের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় আলাউদ্দিন হাওলাদারসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এরপরপরই এদিন দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রবিন ও ইউনূছকে গ্রেফতার করে। তারা বৃহস্পতিবার জামিনও পেয়েছেন। তবে, এ কদিন অধরা ছিলেন আলাউদ্দিন হাওলাদার।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *