নির্বাচন আসলেই জেগে উঠেন তিনি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
অতীতে ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না তিনি। শহরবাসীর কাছে তিনি একজন ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচিতি পাল্টে হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কল্যানে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন আবু সুফিয়ান। পদ পেয়েই শহর ও শহরতলী জুড়ে পোস্টার লাগিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পদ গেয়েই শহরে বিশাল শো-ডাউনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু পদ বাগিয়ে নিলেও দলীয় কর্মসূচীতে তাকে দেখা যায় না। তবে মেয়র আইভীর যে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। এছাড়াও নির্বাচন আসতেই রাজনীতিতে জেগে উঠেন তিনি। গত একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দর আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর হয়েছিল আবু সুফিয়ান ওরফে আলগা সুফিয়ান। মাথায় কৃত্রিম চুল ব্যবহার করায় প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে গোপনে তাকে অনেকেই আলগা সুফিয়ান বলে থাকেন। একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বন্দর উপজেলা নির্বাচনে ফের তৎপর হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পুনরায় রাজনীতিতে নিশ্চুপ হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল উন্নয়ন প্রকল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সুফিয়ানের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে তবে মেয়র আইভীর আশির্বাদে সেই অনিয়ম নিয়ে মুখ খোলতে সাহস পান না সাধারণ মানুষ। জানাগেছে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পূর্বে সাড়া দেশে আওয়ামীলীগের শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ঐ অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের ঠিকাদার, জুয়ারী, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছিল। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জে জিকে শামীমও গ্রেফতার হয়েছিল। ঐ সময় হঠাৎই রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ ছিল আবু সুফিয়ান। মেয়র অনুষ্ঠানগুলোতেও তিনি উপস্থিত থাকতেন না। গুঞ্জন ছিল, আওয়ামীলীগের শুদ্ধি অভিযানে আতংকে পড়ে যান আবু সুফিয়ান। কেননা তিনি ঠিকাদারি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় ফের সক্রিয় হয়েছেন আবু সুফিয়ান। দলীয় কর্মসূচীতে উপস্থিত না থাকলেও সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের একটি অনুষ্ঠানে বিশাল শো-ডাউন করেছেন তিনি। জানাগেছে, ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদক দিয়েছিল কেন্দ্র। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার পর শহরে বিশাল শো-ডাউন করে নিজের অবস্থান জানান নিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। কমিটি ঘোষনার পর জেলা আওয়ামীলীগের যে কর্মসূচীতে মেয়র আইভী উপস্থিত থাকতের শুধুমাত্র সেই অনুষ্ঠানেই আবু সুফিয়ান উপস্থিত থাকতেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একক ভাবে শহরে শো-ডাউন করেছিলেন তিনি। বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের কোন কর্মসূচীতে মেয়র আইভী উপস্থিত থাকলেই সেখানে দেখা যায় সুফিয়ানকে। এছাড়া তিনি রাজনীতিতে অনেকটা নিস্কৃয় ভূমিকায় রয়েছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *