অনুপ্রবেশকারীদের দাপট না থামালে খেসারত গুনতে হবে নেতাদের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের অনুপ্রবেশকারীদের দাপট দিন দিন বেড়েই চলছে। অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি নানা বিতর্কে জড়িয়ে দলের ইমেজ ক্ষুন্ন করছেন অনুপ্রবেশকারীরা। অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে ত্যাগীরা দলীয় কর্মসূচি ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না। বিভিন্ন দল থেকে আসা সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত নেতাদের নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বহিষ্কার করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতাকর্মীরা। ঝুট সেক্টর, চোরাই তেল সেক্টর, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বার বার তাগিদ দিলেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। বরং অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অনেক নেতার হাত ধরে বিতর্কিতরা আওয়ামীলীগে যোগদান করছেন। সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছে চিহিৃত সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে বিএনপি, জামামত, জাতীয় পার্টির অনেকেই। এসব অনুপ্রবেশকারীরা খুবই প্রভাবশালী। বিভিন্ন সময়ে এরা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িয়ে দলের ইমেজ ক্ষুন্ন করে আসছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ফতুল্লা থানায় ঢুকে পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে উঠে থানা মহিলালীগের সভানেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরের বিরুদ্ধে। ফাতেমা মনির পূর্বে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এর আগে ফাতেমা মনিরের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ বিশ^াসকে লাঞ্ছিত করাসহ সাবেক ইউএনও মোতাহার হোসেনসহ বিভিন্ন ইউএনওর সাথে দুর্ব্যহার করার অভিযোগ রয়েছে। তবে আওয়ামীলীগে যোগদানের পর ফাতেমা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফাতেমা মনিরের মত অনুপ্রবেশকারী কামাল মৃধা প্রভাব খাঁটিয়ে বিআরটিসি পরিবহন নিয়ন্ত্রণসহ নারায়ণগঞ্জে পরিবহন সেক্টরে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন সময় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কামাল মৃধা বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০২ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া যৌথবাহিনীর অপারেশন ক্লিনহার্টে সময়ে কামাল মৃধা দেশ ত্যাগ করে আমেরিকাতে পাড়ি জমান। ৪বছর আগে কামাল মৃধা আবারও দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই তিনি নারায়ণগঞ্জ মেট্রো রেল বাস্তবায়নের দাবিতে সংগঠনের আহবায়ক হন। জনগণকে উন্নয়নের নানা স্বপ্ন দেখান কামাল মৃধা। সাংবাদিক সম্মেলন, ফানুস উড়ানো, সাইকেল র্যা লি, মটর সাইকেল র্যা লিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি ঘোষণা দেন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে নির্বাচন করবেন। এমনকি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কামাল মৃধা নিজের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বর্ণনা করেন। নির্বাচনে পাত্তা না পেয়ে বেশ কয়েক মাস নিশ্চুপ থাকলেও পরবর্তিতে পরিবহন সেক্টর নিয়ে শহরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। গনবাহিনীর সদস্য মিজানুর রহমান বাচ্চু জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদটি বাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এমনকি আড়াইহাজার থেকে বাচ্চুকে অবাঞ্চিতও ঘোষণা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় রয়েছেন, আড়াইহাজারের হাইজাদী বিএনপির সভাপতি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কালাপাহাড়িয়া বিএনপির সহ সভাপতি মোহাম্মদ ডালিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। মামলার আসামি হওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন সাতগ্রাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পনির মেম্বার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি রিপন মেম্বার, খাগকান্দা যুবদলের সভাপতি আল আমিন, ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সহ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য একে খান ও কালাপাহাড়িয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুকু মেম্বার। যোগ দেওয়ার পর অনেকে আওয়ামী লীগের নেতাও হয়েছেন। যেমন, আড়াইহাজার যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান খোকা হয়েছেন ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ব্রাহ্মন্দী যুবদলের সহ সভাপতি ময়নুল মেম্বার হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। ব্রাহ্মন্দী যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল্লাহ হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ অহিদ হয়েছেন ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন যুবদলের আয়নুল হক হয়েছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। খাগকান্দা বিএনপির সভাপতি মফিজুল ইসলাম হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। খাগকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির মোজাম্মেল হক তোতা হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দুপ্তারা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। দুপ্তারা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ সুজন হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সাতগ্রাম যুবদলের সদস্য আবু বক্কর হয়েছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন জেলা যুবদলের সহ সভাপতি রুহুল আমিন মোল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আশিক, মতিন প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক রতন মোল্লা, আড়াইহাজার বিএনপির সাবেক সভাপতি সামসুল হক মোল্লা, সহ সভাপতি মাইনুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সদস্য সাফি মেম্বার, নাছির মাস্টার, জাকির হোসেন, সুফিয়ান সিকদার, থানা ছাত্রদলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বুলবুল, সহ সভাপতি হারুন অর রশিদ, থানা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক, সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মন্দী যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ হাবিবুর রহমান, রূপগঞ্জ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ইসমাইল, আরমান শিকদার, মোহাম্মদ আজহার, আল আমিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাইফুল্লাহ, মোহাম্মদ ইয়াকুব, মহিউদ্দিন রুমী, মোহাম্মদ শাহীন, মহিবুর কমিশনার, মোহাম্মদ বিল্লাল, আবদুল মালেক, মোহাম্মদ ভুট্টো, জাহাঙ্গীর মোল্লা এবং মোহাম্মদ শামীম, সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাব্বির, ফতুল্লার ঝুট সন্ত্রাসী রকমত, শহরে জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুল করিম বাবুসহ অনেকেই। এদিকে বাবুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। এদিকে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন এরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগের ইমেজ ক্ষুন্ন হবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের উপর ভরসা উঠে যাবে সাধারণ মানুষের।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *