নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ বেড়েছে ধর্ষণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ বেড়ে গেছে ধর্ষণের ঘটনা। একই সাথে নারীর প্রতি সহিংসতাও বেড়েছে। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধরাও। শিক্ষক কতৃক ছাত্র, ডাক্তার কর্তৃক রোগী, বাড়িওয়ালা কর্তৃক ভাড়াটেসহ আত্মীয়দের মধ্যে ধর্ষনের ঘটনা ঘটছে। তবে ধর্ষনের ঘটনার অধিকাংশই ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। অনেকে লোক লজ্জায় থানায়ও আসতে ভয় পাচ্ছেন। আবার কেই কেই থানা আসলেও সংশ্লিষ্ট থানা মামলা নিতেও অনীহা প্রকাশ করায় কেউ কেউ আদালতেও মামলা করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চরম নৈতিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতি, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। যার ফলে রোগীকে চেকাপের নামে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছেন। এমন অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নারীর বাড়ি ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায়। জানাগেছে, গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে ডাক্তার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীন মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম। আদালতে মামলার আরজিতে বাদী দাবি করেন- তিনি দীর্ঘদিন যাবত থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জেনারেল সার্জন, প্লাস্টিক সার্জন ও বার্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমিনুল ইসলামের নিজস্ব চেম্বার (গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগোনস্টিক এন্ড কনসালস্টেশন সেন্টার, খানপুর, নারায়ণগঞ্জ) এ বিগত ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই শারীরিক অবস্থা অর্থাৎ থাইরয়েডের বিষয়ে ডাক্তারকে অবগত করেন। পরবর্তীতে ডাক্তার আমিনুল ইসলাম বাদীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার টেস্ট ও ওষুধপত্র তার প্যাডে লিখিতভাবে প্রদান করেন। এভাবে চিকিৎকের পরামর্শে চিকিৎসা চালিয়ে নেয় যান বাদী। পরবর্তীতে বাদী আবারো ওই বছরের ২০ আগস্ট আমিনুল ইসলামের কাছে তার শরীরের অবস্থার বিতরণ দেন। আমিনুল ইসলাম তার রক্ষিত চেম্বারের বেডে সুইতে বলেন। ডাক্তার বাদীকে বলেন, বেডে সুয়ে পড়েন কিছু টেস্ট করতে হবে। বাদী আসামীর সরল কথায় সুয়ে পড়েন। আসামি বাদীকে বলে যে, তোমাকে একটি ইমার্জেন্সি ইনজেকশন নিতে হবে। এ বলে আসামি আমিনুল ইসলাম বাদীকে ইনজেকশন দিয়ে শরীর অবশ করে দেন। ইনজেকশন দেয়ার পর বাদীর শরীরের কোন অংশেই নড়াচড়া করতে পারেনি। বাদীকে একা পেয়ে আমিনুল ধর্ষণ করে। বাদী ধর্ষণের পর ঘুমিয়ে পড়েন এবং সজাগ হয়ে চিৎকার করলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং বাড়াবাড়ি করলে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনায় আদালত মামলার আগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করতে গেলে বাদীকে উল্টো হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তবে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এমন কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। যদি পেতাম তাহলে অবশ্যই মামলা নিতাম।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *