বিরোধীরা এখন গাজীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

এক গোলাদ দস্তগীর গজীকে আটকাতে প্রায় ১৫ জনের একটি জোট তৈরি হয়েছিলো রূপগঞ্জে। এই জোটের মূলে ছিলেন রংধনুর চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে আন্ডা রফিক। তার সাথে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাজাহান ভূইয়াসহ আরও অনেকে। এই গ্রুপটার একটাই লক্ষ্য ছিলো, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো ভাবেই হোকে গোলাম দস্তগীর গাজীর মনোনয়ন আটকানো। এ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র, নানা অপপ্রচারও হয়েছিলো। কিন্তু শেষতক গাজীর মনোনয়ন আর আটকানো যায়নি। পেলেন মনোনয়ন। নির্বাচিত হলেন। পরবর্তীতে সবাইকে তাক্ লাগিয়ে দিয়ে পূর্ণমন্ত্রীত্বও পেলেন গোলাম দস্তগীর গাজী। এদিকে গাজীকে আটকানোর মিশন যখন ভেস্তে গেছে তখনই রাতারাতি গণেশ উল্টে দিয়ে গাজী বন্দনায় মত্ত হয়ে উঠেন রফিকু, হাই, ভূইয়াসহ তাদের গ্রুপের বিরোধী শিবির। শুরু হয় যত্রতত্র গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশংসা। এখন অবস্থা এমন যে, গাজী বিরোধীরা বর্তমানে গোলাম দস্তগীর গাজী বলতে অজ্ঞান। সূত্র মতে, রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক। তাকে সবাই জানেন আন্ডা রফিক হিসেবে। এই তিনি ইতোপূর্বে ছিলেন গোলাম দস্তগীর গাজীর লোক। কিন্তু দশম জাতীয় নির্বাচনের পর এই সম্পর্কে টান লাগে। অবনতি হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটা বলয় তৈরি করেন। রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়া রফিকুল ইসলাম নিজেকে গাজীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সর্বত্র প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাদের এই দ্বন্দ্বের রেশ ধরে অসংখ্য মারামারি, ধরাধরি এবং খুনোখুনির ঘটনাও ঘটে রূপগঞ্জে। সর্বশেষ রফিকুল ইসলাম রফিকের শর্টগানের গুলিতে সুমন নামে একজন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মীও নিহত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসাতে এই বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। নানা ভাবে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয় গাজীকে। এ জন্য শক্তিশালী একটা জোটও করা হয়। এই জোটে অন্তর্ভূক্ত করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইকে। জেলা আওয়ামী লীগের একজন সহসভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মিডিয়া ম্যানেজের। যিনি বেশ কয়েকটি মিডিয়াও ম্যানেজ করেন। এরপরই শুরু হয় গাজীর বিরুদ্ধে নানা ধরণের সমালোচনা। এই সমালোচনামূলক অপপ্রচারের নেপথ্যে ছিলেন রফিক। এই জোটের পক্ষ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রায় ১৫টি মনোনয়নপত্র কেনা হয়। এর সব ব্যয়ভার বহন করেন রফিক। তাদের টার্গেট, গাজী ব্যতিত অন্য যেই মনোনয়ন পাক আপত্তি নেই। কিন্তু গাজীকে ঠেকাতে হবে। কিন্তু শেষে আর সেটি হয়ে উঠেনি। সব ষড়যন্ত্রের জালছিন্ন করে গাজী এখন পূর্ণমন্ত্রী। তাও নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রথম মন্ত্রীত্বের স্বাদ গাজীর হাত ধরেই।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *