উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন বাগানোর চেষ্টা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দিন যাওয়ার সাথে সাথে ঘনিয়ে আসছে উপজেলা নির্বাচন। আগামী মাসেই অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থীরা ঠিকই উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে দলীয় মনোনয়ন। কোন রকম দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গেলেই তাদের জয়ের পথে আর কোন বাঁধা থাকবে না। আর সেই লক্ষ্যেই তারা লবিং ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৪টি উপজেলায় চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের জন্য বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪টি জেলার ১৫৯টি উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলা। একই সাথে রমজানের পর আগামী ১৮ জুন পঞ্চম অর্থাৎ শেষ ধাপের নির্বাচনের জন্য চিহ্নিত ১৭টি উপজেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জানা যায়, প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। প্রথমে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এই তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সেই নির্দেশনা মোতাবেক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিকের ৩৭ সম্ভাব্য প্রার্থীর নামের তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও সোনারগাঁ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আবু নাইম ইকবাল, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল ওমর বাবু, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম রূপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নেকবর হোসেন নাহিদ ও জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সামসুদ্দিন খাঁন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের উপদেষ্টা মাহমুদা আক্তার ফেন্সী, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার, উপজেলা মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক উর্মি আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলেনা আক্তার ও নারী নেত্রী শ্যামলী চৌধুরীর নাম পাঠানো হয়েছে। বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বন্দর থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জুয়েল, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ নেতা রোমান হোসাইন, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালিমা হোসেন শান্তা, মহানগর যুব মহিলা লীগ আহ্বায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা, মাহমুদা আক্তার পান্না ও মাবিয়া আক্তার পাঠানো হয়েছে। রুপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা ও আওয়ামীলীগ নেতা তাবিবুল কাদির তমাল, ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহরিয়ার পান্না সোহেল, অ্যাডভোকেট স্বপন ভূইয়া ও মো: আব্দুল আলীমের নাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী নীলা, আফরিন আক্তার ও ফেরদৌসী জান্নাত রুমার নাম পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আড়াইহাজার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: শাহজালাল, ভাইস চেয়ারম্যান পদে রফিকুল আলম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ঝর্না রহমানের নাম পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রে পাঠানো এসকল সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সাথে বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। নিজেদের নাম ও ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ঝুলছে এলাকাজুড়ে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায় করে চলছেন তারা। তাদের সকলেরই প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করা। কোনমতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে গেলে তাদের জয় টেকানোর কেউ নেই। কারণ অতীতের নির্বাচনগুলোতে যারাই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের জয় নিশ্চিত হয়েছে। আর তাই উজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থীরা প্রানপণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *