কলেজের প্রবেশমুখের জমি দখলমুক্তের দাবি সেলিম ওসমানের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ভূমিদস্যুর কবল থেকে কলেজে প্রবেশ পথের জমি দখল মুক্ত করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবহার করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একমত পোষন করেছেন সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এ ব্যাপারে তিনি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক মিলে ৩৩হাজার মানুষ দাবী আদায়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি সেলিম ওসমানের কাছে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রবেশ পথে জমিটি দখলমুক্ত করে কলেজের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবী উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্র্থীদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, জমি দখলমুক্ত করা একজন সংসদ সদস্যের কাজ নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসক রয়েছেন। তবে আমি শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একমত হয়ে বলবো জেলা প্রশাসক সাহেব যেন কলেজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেন। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের যৌক্তিক দাবী পূরনে উনি ব্যবস্থা গ্রহন করেন। যার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে সেই ব্যক্তি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জমি কিভাবে দখল করে সাইনবোর্ড লাগাতে পারে। আমি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়কে অনুরোধ করছি কলেজ থেকে যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত আবেদন পেশ করা হয়। এরপরেও যদি জমিটি দখলমুক্ত না হয় তাহলে এই কলেজে ১১হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে এবং তাদের বাবা মা মিলে মোট ৩৩ হাজার মানুষ। আমি বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ভবিষ্যত প্রজন্মের দাবীর আদায়ে প্রয়োজনে ৩৩হাজার মানুষ রাস্তায় নামবে। শুনেছি ওই দখলদার নাকি মামলার করেন যে নিজেই কিনা বহু মামলার আসামী। প্রয়োজনে কলেজের হয়ে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা মামলা করবে। সংসদ সদস্যের কাছে শিক্ষার্থীরা কলেজের সম্মুখভাগে পীরবাবুর মাজারটি অপসারন, নিরাপদ রাস্তা পারাপারে কলেজের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ, শিক্ষার্থীদের জন্য কমনরুম , একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও নতুন একটি বহুতল ভবন স্থাপনের দাবী রাখেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এমপি বলেন, কলেজটি যেহেতু সরকারী, আর সরকারী ফাইল খুব ধীরে চলে। তাই তোমাদের দাবী পূরনে কিছুটা সময় লেগে যাবে। এখানে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মত আমি ইচ্ছা করলেই অনুদান দিতে পারবো না। আর সরকারের কাছে চাইতে হলে বড়টাই চাইবো। আমরা এই কলেজের জন্য সরকারের কাছে একটি ১২তলা ভবনের অনুমোদন আনার চেষ্টা করবো। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তোমরা শুধু তোমাদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হও। তোমাদের ভাল ফলাফলের পাশাপাশি মন খুলে হাসতে হবে। খেলাধূলায় অংশ নিতে হবে, সাংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে একটি ডিজিটাল প্ল্যান তৈরি করে প্রস্তাবনা আকারে তাঁর কাছে প্রেরণের অনুরোধ করেন। সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শিরীন বেগম, কলেজ অভ্যন্তরে সরকারী অর্থায়নে নির্মানাধীন ভবনটি মরহুম সামসুজ্জোহা ভবন নামে নামকরনের প্রস্তাব করেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব বলেন, সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের কাছে নারায়ণগঞ্জের এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করতে অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদী। নবীন বরন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য সেলিম ওসামনের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থ্যতার কারনে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। সকলে তাঁর দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করেছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, সরকারী তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহ, নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক রুমন রেজা, সরকারী মহিলা কলেজের উপাধক্ষ্য দবিউর রহমান, সরকারী তোলারাম কলেজের প্রভাষক জীবন কৃষ্ণ মোদক সহ আরো অনেকে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *