সোনারগাঁয়ে আজ এমপির সন্মান বাঁচানোর লড়াই

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আজ রোববার দেশের অন্যান্য উপজেলার সাথে সাথে চুতর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। প্রার্থীরাও তাদের প্রচার প্রচারণা শেষে এবার ফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এবারের সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে সোনারগাঁ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার জনমতের লড়াই হিসেবে পরিণত হয়েছে। কারণ এই নির্বাচনে দুইজনেরই সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। আর তারাই সাবেক ও বর্তমান দুই এমপির ভবিষ্যত রাজনীতিতে জনমত হিসেবে প্রমাণ হতে পারে। সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। এবারের উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ এনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই রয়েছেন। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন নৌকা প্রতিকে ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম ঘোড়া প্রতিকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন এম জাহাঙ্গীর হোসেন ভূইয়া চশমা, বাবুল হোসেন টিউবওয়েল, মো: আবু নাঈম তালা, মো: মনির হোসেন উড়োজাহাজ, মো: শাহ আলম মিয়া মাইক ও মো: শাহ জালাল মিয়া বই প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরা সকলেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী। একই সাথে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন মাহমুদা আক্তার হাঁস, মোসা: নাসিমা আক্তার পদ্মফুল, মোসা: ফরিদা পারভীন ফুটবল ও হেলেনা আক্তার কলস প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরা সকলেই আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তেমন একটা নজরে না থাকলেও চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সকলের দৃষ্টি রয়েছে। জানা যায়, এবারের সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাচন নৌকা প্রতিকে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশারফের চেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের জন্য। কারণ এ নির্বাচনে নৌকা প্রতিককে জয়ী করাতে পারলে তার আগামী দিনের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় তার সম্ভাবনা নিভে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে লিয়াকত হোসেন খোকার জন্য জনমত প্রমাণের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলা নির্বাচন। কারণ সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা না থাকায় জনমত প্রমাণের সুযোগ ছিল না। উপজেলা নির্বাচনের আগে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সেবার তাকে মনোনয়ন না দিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার জন্য ছাড় দেয়া হয়। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশ্বাস ছিল সোনারগাঁ উপজেলা নৌকা প্রতিকের জনপ্রিয়তা কম। কিন্তু কায়সার হাসনাতের চেষ্টা ছিল নৌকার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে। কিন্তু তাকে সুযোগ না দিয়ে এবারের উপজেলা নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়ে জনপ্রিয়তা প্রমাণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে গিয়ে লিয়াকত হোসেন খোকাও কতটা সফল হতে পারেন সেটাও লক্ষ্যণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা বেশি নাকি লিয়াকত হোসেন খোকার জনপ্রিয়তা বেশি সেটাই লক্ষ্য করবেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *