ফতুল্লায় বেপরোয়া সন্ত্রাসী মীরু বাহিনী!

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

তিন লাখ টাকা খরচ কইরা গরুর খামার করছি। কিন্তু মীরু ও তার ভাগিনা কিলার শাকিল হুমকি দেয়, রাতে আমার গরু নিয়া যাইব। আমার বাগানের ৩০টা গাছ কাইটা নিয়া গেছে। সেই গাছ বেইচা নিজের নামে মানুষরে সেমাই চিনি বিতরণ করে! তার উপর আমার কাছ থিকা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করতেছে। দুনিয়াকি মঘের মুল্লুক!’ ফতুল্লা থানার তালিকা ভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু ওরফে ল্যাংড়া মীরু এবং তার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সংবাদ মাধ্যমে এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন ভুক্তভুগি হাজী মুসলিম মার্কেটের মালিক মামুন অর রশিদ। গত শনিবার আলোচিত ওই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় সন্ত্রাসী মীরুসহ তার শ্যালক আরিফ, ভাগিনা শাকিল ওরফে কিলার শাকিল, অন্যতম সদস্য মুরাদ ও জাকিরসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। মো. মামুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘পাগলা বৌ বাজার বটতলা এলাকায় আমার মালিকাধীন হাজী মুসলিম বাজার নামীয় মার্কেটের নির্মাণ কাজ প্রায় তিন মাস ধরে চলছে। এতে প্রধান আসামী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মীরু তার বাহিনী নিয়ে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষকে ভীতি প্রদর্শন সহ জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে থাকে। মীরু তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীরু এন্টারপ্রাইজ হতে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষকে ইট, বালু ও সিমেন্ট ক্রয় করতে বাধ্য করে। সে জেল হাজতে থাকায় আমি আমার কাজ শুরু করলেও জামিনে বের হয়ে তার বাহিনী নিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পূর্বে হতে আমার নিকট ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। আমি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার মার্কেটের ম্যানেজার জলিল আহম্মেদকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে এবং আমার মার্কেট নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়।’ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার মার্কেটের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা আরো ৭-৮ জন সন্ত্রাসী লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার কাছে ২০লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারপিট করতে উদ্যত হয়। এসময় আমার ম্যানেজার এগিয়ে আসলে মীরুর শ্যালক আরিফ তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গ ফেলে। এরপর হামলাকারীরা তাকে এলোপাথারিভাবে মারধর করে নীলাফুলা জখম করে। সন্ত্রাসী মুরাদ আমার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা দিতে বলে। আমার সাথে তখন টাকা না থাকায় আমার বন্ধু রুবেলের পকেটে থাকা সাড়ে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আর আমার নির্মাণ শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং হামলা করে নির্মাণ সামগ্রী ক্ষতি সাধন করে।’ মামুন অর রশীদ জানান, ‘মীরু আমার জমিতে ১০ বছর মেলা বসাইছে, কিছুই বলি নাই। কিন্তু বর্তমানে আমার জমিই দখলের চেষ্টা করছে। সে আমার জমি বায়না করেছে বলে সর্বত্র মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে, এখন জোরপূর্বক আমার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা সহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে।’ তিনি আরো জানান, ‘আমি চাঁদা না দেয়ায় মীরু নির্দেশে তার বাহিনীর সদস্যরা আমার বাগানের ৩০টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। ওই গাছ নয়ামাটি এলাকায় একটি স-মিলে নিয়ে রাখে। খবর পেয়ে গত শনিবার ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ হাসান ওই স-মিল থেকে গাছ শনাক্ত করেন।’ তিনি আরো জানান, ‘০৬ বছর ধরে খামারের ব্যবসা করছি। মীরুর পালিত সন্ত্রাসী তারা ভাগিনা শাকিল ও শ্যালক আরিফ সহ অন্যান্যরা আমার খামার থেকে প্রায় ১০-টির মত ভেড়া এবং ৪/৫টি খাশি চুরি করে নিয়েছে। এর প্রমানও রয়েছে। সম্প্রতি মীরু বাহিনী আমার বাগান থেকে ৩০টি গাছ কেটে স-মিলে নিয়ে বিক্রি করে। সেখান থেকে কিছু টাকা দিয়ে সেমাই চিনি বিতরণ করে নিজের নাম ফুটায়। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলেই তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়।’ জানা গেছে, চারটি তাঁজা প্রাণের প্রধান ঘাতক ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ১০ নম্বর তালিকা ভুক্ত দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী মীরু। তার বিরুদ্ধে খুনসহ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজী এবং এটেম-টু-মার্ডারের মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। গত ২০ জানুয়ারী রাতে পাগলায় নিজ বাড়ী থেকে এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারী রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদার দাবীতে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১৯টি মামলার প্রধান আসামী এই সন্ত্রাসী মীরু। অসংখ্যবার ফতুল্লা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও নিজেকে সুধরে নেয়নি কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী। যদিও গত কয়েক মাস আগে এই সন্ত্রাসীকে সরাসরি ওয়ার্নিং দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। কিন্তু কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না এই ভয়ঙ্কর বেপরোয়া সন্ত্রাসী।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *