হাবিব কমপ্লেক্স যেন মৃত্যুপূড়ি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ৭৫টি ভবনের মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক অবস্থানে রয়েছে শহরের এসএম মালেহ রোডে অবস্থিত হাবিব শপিং কমপ্লেক্স। এই ভবনটির নেই কোন নকশা কিংবা রাজউকের অনুমোদন। রাজউকের অনুমোদনহীন এই ভবনটি এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে কারণে ভাড়াটিয়ারা তাদের শ্রমিকদের নিয়ে আতংকের মধ্যে বসবাস করে চলছে। এই ভবনটির কয়েক গজ দক্ষিণেই রয়েছে রাজউকের নারায়ণগঞ্জের কার্যালয়। হাবিব শপিং কমপ্লেক্স দেখলেই বুঝা যায় ভবনটি শুধু অগ্নি ঝুঁকিতেই নয় বরং যে কোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়তে পারে। এই ভবনটির মালিকরা রাজউকের আইনকানুনের তোয়াক্কা করছে না। অথচ রহস্যজনক কারণে রাজউক এব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ভবনে বসবাসকারীদের অভিযোগ। নাম না প্রকাশের শর্তে হাবিব শপিং কমপ্লেক্সের দোকানিরা জানালেন, ‘এই ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তার উপরে আসা যাওয়ার পথের মাঝে নতুন করে ছোট ছোট দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। যেকারণে এই ঝুঁকির শংকা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া চারপাশের খোলামেলা স্থানগুলোতে নতুন নতুন দোকান তৈরির ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যা এই ঝুঁকির পরিমাণকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে আমরা এখন অনেকটা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। শ্রমিকরা জানায়, প্রতিদিন এই ভবনে কাজ করতে আসতে হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে কোন কারণে আগ্নিকা-ের মত দূর্ঘটনা ঘটলে তা নির্বাপনের কোন ব্যবস্থা নেই। যেকারণে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আর শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি এই ঝুকিতে রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে জেলার মোট ৭৫টি মার্কেটে অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি নির্বাপন ও জননিরাপত্তা মূলক দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ও খুব ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। গত বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে উক্ত ৭৫টি মার্কেটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুনরায় মার্কেটগুলো পরিদর্শন করে কোনো প্রকার বাস্তবায়ন না দেখা গেলে সম্প্রতি সার্ভিস পুনরায় মার্কেটগুলোকে নোটিশ পাঠায়। আরো জানা যায়, এ সকল মার্কেট যদি অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে ফায়ার সার্ভিসকে মার্কেট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠাতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরে শুধুমাত্র ১৯ বিবি রোডে অবস্থিত করিম মার্কেট ছাড়া আর কোনো মার্কেট থেকে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো আসেনি। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বর্তমান উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরোফীন বলেন, ‘আমি এখনো মার্কেটগুলো পরিদর্শন করার সুযোগ পাইনি। তবে যতটা জানি এখনো কোনো মার্কেট থেকে চিঠি আসেনি যে তারা তাদের মার্কেটে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বা করতে চাচ্ছে। তারা যদি এসব ব্যপারে কোনো ধরনের পরামর্শ চাইতো তবে আমাদের ফায়ারম্যানরা সর্বক্ষন তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত। কিন্ত তারা এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সাহায্য চায়নি। আর তারা কোনো ব্যবস্থা যদি গ্রহণ না করে থাকে তাহলে তাদের পাশাপাশি আশেপাশেরও ভবনগুলোর ও ক্ষতি হতে পারে। নিজেদের সেফটির ব্যবস্থা তো নিজেদেরই করতে হয়, সেটা তাদের বুঝতে হবে।’

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *