হৃদয় জয় করে চলেছেন কলম্বিয়ান দুই ফুটবলার

জোবায়দা হোসেন লাভলী
বাংলাদেশে আসার আগে ভাবতেও পারেননি এদেশের মাটি রুপ রস গন্ধ এতোটা মুগ্ধ করতে পারে। রাস্তায় খোঁড়াখুড়ি, ট্র্যাফিক জ্যাম, কোনো কিছুই তাদেরকে হতাশ করেনি। যা কিছু চোখে পড়েছে তা যেন মুগ্ধতাই ছড়িয়েছে মহিলা বিশ্বকাপে খেলা দুই ফুটবলার জেসিকা হার্টাডো এবং ক্যাথেরিন ফ্যাবিওলা ক্যাষ্ট্রোমুনজকে। এই তারকাকে নিয়ে গাড়িটি যখন মার্কিন দুতাবাসের উল্টো দিকের রাস্তায় ভেতর দিকে ছুটল চোখে পড়ল দুই পাশে বিস্তির্ন খোলা প্রান্তর। কয়েক কিলোমিটার পথ ভেতরে ফরটিস গ্রুপের মাঠ। ফুটবল খেলার মাঠ দেখে হতভম্ব জেসিকা হার্টাডো এবং ক্যাথেরিন ফ্যাবিওলা ক্যাষ্ট্রোমুনজ। তারা কল্পনাও করতে পারেননি এতো সুন্দর একটি ¯’ান, সাজানো গোছানো খেলার মাঠ সবুজ মাঠে পা রেখে মুগ্ধ। চোখ গেল ফুটবলের দিকে। যারা ফুটবল খেলেন তারা ফুটবল দেখলে রক্তে নাচন উঠে। জেসিকা কিংবা ক্যাথেরিনেরও তাই হয়েছিল। বল নিয়ে যখন কারিকুরি দেখালেন মনে হলে যেন যাদু দেখাতে নেমেছেন। মেসির জার্সি গায়ে খুদে ফুটবলার ফারেস করিমকে দেখা”িছলেন পেছনে বল রেখে কিভাবে শূণ্যে ভাসাতে হয়। ওরা যাই করে, তাই যেন চোখে লেগে থাকার মত। বিকেএসপি, স্কলাসটিকা তার্কিশ হোপ সহ বিভিন্ন স্কুল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুটবল মাঠে নামলেন কলম্বিয়ান দুই ফুটবলার। কিভাবে ভালো খেলতে হয় কিভাবে ডজ দিতে হয় কতো কিছু দেখালেন। মাঠে গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা জয়া। সব খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে মিশে গেলেন। কথা বললেন ছবি তুললেন। মাঠে তৈরি মঞ্চে উঠলেন কলম্বিয়ান দুই ফুটবলার এবং জয়া। তাদের কন্ঠে নারীর জাগরণ নিয়ে কথা উঠল। নারী জাগরনে সমাজের নানা কর্মকান্ড হয়। ফুটবল তার মধ্যে ব্যতিক্রম। জয়া বলে গেলেন আমরা যারা পিছিয়ে পড়াদের কথা বলি তাদের জন্য এধরনের উদ্যোগ খুবই প্রশংসার।’ জয়া মাঠে নেমেছেন সবখানে ঘুরে দেখেছেন। মেয়েদের এধরনের উদ্যোগে সব সময় পাশে থাকবেন এমন কথাও জানিয়ে গেলেন তিনি। আয়োজন দেখে কলম্বিয়ান জেসিকার কথা হ”েছ এখানেই যেন থেমে না যায়। ক্যাথেরিন বললেন,‘এই মেয়েরা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জড়তায় ভোগেনি। খেলার মাঠে এটাই দরকার।’ ফরটিসের মাঠে কে-স্পোর্টস যেভাবে দিনটাকে উদযাপন করল তা অতুলনীয় বলে গেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের না আসা বন্ধুরা আফসোস করেছেন। ২২ এপ্রিল ৬ দেশ নিয়ে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্বÑ১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবল শুরু হবে। সে উপলক্ষে প্রচার প্রচারণার অংশ হিসাবে কলম্বিয়ান দুই ফুটবলার তিন দিনের সফরে এসেছেন। টুর্নামেন্টের স্বত্বক্রয়কারি প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টস পুরো আয়োজনটাকে রঙ্গিন করে তুলল। এমনিতেই ৮ মার্চ এএফসি উইমেন্স ফুটবল ডে উদযাপন করে। আর কালকের এই দিনটাকে বাফুফে উইমেন্স ফুটবল ডে হিসাবে উদযাপন করল। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। ফরটিসের ফুটবল মাঠ দেখে মুগ্ধ ফিফার সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরন সংবাদ সম্মেলনে বললেন,‘মনে হ”িছল আমরা জুরিখে রয়েছি।’ এখানেই বাফুফের ফুটবল একাডেমীর নিবর যাত্রা শুরু। কেন ? বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বললেন,‘ঢাকডোল পিটিয়ে ধুমধারাক্কা কিছু করার দরকার নেই। শুরু হওয়ার দরকার ছিল হয়েছে।’

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *