প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জে ঐক্য ফিরে আসতে পারে!

হাবিবুর রহমান বাদল

বাংলা বছরের শেষ কয়েকটি মাস নারায়ণগঞ্জ অনেকটাই উত্তপ্ত ছিল বলা চলে। ক্ষমতাসীনদের সাথে প্রশাসনের অনেকটা বৈরী অবস্থা বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিক ভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন দলের কোন কোন নেতা বৈরী অবস্থায় পড়েন। কারো কারো বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি হয়। বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়। এরই মধ্যে সাংসদ শামীম ওসমান কর্মীসভা ডেকে বক্তব্য দেয়ার ঘোষণায় নগরবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সেই রাতেই পবিত্র মক্কা থেকে সাংসদ সেলিম ওসমান ডান্ডিবার্তার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রশাসনকে সংযত আচরণ করে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের আহবান জানান। পরদিন সাংসদ সেলিম ওসমান দেশে ফিরে ঘোষণা করেন, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে তিনি সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। এক পর্যায়ে অষ্টমী ¯œানকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনায় বসলে উভয়ের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়। সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেনি। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আমার সাথে নারায়ণগঞ্জের কোন সাংসদের বিরোধ নেই। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের জন্য দশটি নির্দেশনা জারি করে এইসব কর্মকান্ড থেকে এমপিদের দুরে থাকার আহবান জানিয়ে বলা হয়, তাদের কর্মকান্ডে পর্যবেক্ষন করবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টিম ছাড়াও আওয়ামীলীগের একটি নিজস্ব টিম গঠন করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ একটানা তিনবার সরকার গঠনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের শুধু এমপি নয় বরং পদ পদবীধারী থেকে শুরু করে হাইব্রিড আওয়ামীলীগাররাও এমনসব অপকর্ম করে চলছে যা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ জন্য মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দাবি শুধু এমপি নয় বরং সকল জনপ্রতিনিধি ও পদ পদবী দখলকারী নেতাদের এই নির্দেশনার আওতায় আনা উচিৎ। কারণ এমপিরা যতটুকু না দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে তার চেয়ে অনেক বেশী দলের ক্ষতি করে পদ পদবীধারী নেতারা। এদের কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে বিএনপি জামাতকেও আওয়ামীলীগ বানিয়ে ফেলে। ফেনীর সোনাগাজীই তার প্রমান। এমন অবস্থা দেশের অনেক জায়গাতেও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলা নতুন বছর। ১৪২৬ বঙ্গাব্দের নারায়ণগঞ্জ সকল মতভেদ ভুলে ক্ষমতাসীনরা একযোগে দলের স্বার্থে কাজ করবে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে মাদক, ভ’মিদস্যু, সন্ত্রাস ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের দায়িত্ব পালন করবে এমন প্রত্যাশাই সকলের। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়তে যেমন রায় প্রদান করেছে তেমনই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মহাজোট প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার এক মহান দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা। নারায়ণগঞ্জের সকল আসনে মহাজোট প্রার্থীরা যেমন বিজয়ী হয়েছে তেমনই নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের মেয়র জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জের ৫টি পৌরসভার মেয়রসহ প্রায় সকল জনপ্রতিনিধিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ^াসী। আর এ কারণে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সকল বিভেদ ভুলে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবে নতুন বছরে এটাই নারায়ণগঞ্জ বাসীর একমাত্র প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ১৪২৮ বঙ্গাব্দে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের বিভেদ ভুলে যাবে নতুন বছরে এমনটাই প্রত্যাশা করছে সবাই। সামনে বিভিন্ন ধরণের অস্বস্থিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতে পারে। পরাজিত শক্তি নিশ্চুপ বসে থাকবে এমনটা ধারণা করা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বড় দুইটি দলের মধ্যে কোন্দল দীর্ঘদিনের। আর এই কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জ তার ঐতিহ্য হারিয়েছে এটা সকলেরই জানা। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীনদের কোন্দল নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারপরও আদর্শগত মিল থাকলেও ব্যাক্তিগত বিভাজন, গোষ্ঠিগত কোন্দল ও বলয়গত দ্বন্দ্বের কারণে নারায়ণগঞ্জের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। ব্যক্তিগত বিভাজন ও গোষ্ঠিগত কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। নারায়ণগঞ্জবাসী এই বিভাজনের অবসান চায়। কারণ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন যেমন বাড়বে তেমনই নাটকীয় ভাবে নিজেদের মধ্যে নতুন ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এছাড়া বিএনপিতে নেতায় নেতায় কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির চরম ভরাডুবি ঘটেছে। বিশেষ করে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপিতে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণে জনপ্রতিনিধিদের এক টেবিলে বসার সম্ভবনা এখন তেমন দৃশ্যমান হচ্ছে না। যদিও ২০১৪ সালে উপ-নির্বাচনে সেলিম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরই সকলকে নিয়ে এক টেবিলে বসার আহবান জানিয়ে আসছেন। তাছাড়া নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জ দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, নারায়নগঞ্জের প্রতি আমার আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। প্রাচ্যেরডান্ডি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক এ জন্য করনীয় সব কিছুই করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ঐক্য থাকলে নারায়ণগঞ্জ তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে জামাত-শিবিরের নিশ্চুপতা বড় কোন অঘটনের চিন্তাভাবনা চলছে কিনা এটাও গোয়েন্দা নজরদারীতে থাকতে হবে। আমার বিশ্বাস জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নারায়ণগঞ্জে আইনের শাসন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করলে নারায়ণগঞ্জের অনেক সমস্যারই সমাধান হবে। শহরের যানজটের পাশাপাশি ফুটপাত দখল আর সেই সাথে অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন শহরবাসীকে অতিষ্ট করে তুলেছে। তার পরও বলবো আমি আশাবাদি মানুষ তাই আমার বিশ্বাস জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ভিতরে ভিতরে যে বিভাজন চলছে তা নতুন বছর তার অবসান হবে। আর এক্ষেত্রে মিডিয়াকে দায়িত্বশীল ভ’মিকা পালন করতে হবে। একথা স্বীকার করতে আমার দ্বিধা নেই। আমরা যারা পেশাদার সাংবাদিক তারাও অনেক ক্ষেত্রে পজেটিভ নারায়ণগঞ্জের চাইতে নেগেটিভ নারায়ণগঞ্জ প্রকাশে বেশী আগ্রহ থাকি। যা সাধারণ মানুষের মত আমাদের জন্যও মঙ্গলময় নয়। নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ হবে এটাই নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা। পাশাপাশি প্রশাসন যদি দ্রুত নারায়ণগঞ্জের সমস্যা সমাধান করতে চায় তবে জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে বিভিন্ন পেশাজীবিদের নিয়ে একটি গোল টেবিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা যেমন প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত হবে তেমনি বিভিন্ন পেশাজীবিদের কাছ থেকে সমস্যা ও তার সমাধানের পথ খুঁজে পেতে সহজ হবে। জেলা প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে কঠোর ভাবে নারায়ণগঞ্জে অন্তত: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন নতুন বছরে এটাই আমার প্রত্যাশা। নারায়ণগঞ্জের মানুষ সকল জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে সকল সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করে জনপ্রতিনিধিরাও নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে অতীতের সকল মতভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করবে নতুন বছরে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। তাছাড়া পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নিজেই বলেছেন, তার সাথে কারো বিরোধ নেই। জনপ্রতিনিধিরাও বলছেন তারা জনগণের স্বার্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এমতাবস্থায় প্রশাসনের কেউ না কেউ দায়িত্ব নিয়ে সকল পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সকল সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবেন বাংলা নববর্ষে এমনটাই আমার প্রত্যাশা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *