সিদ্ধিরগঞ্জ আন্তঃজেলা ট্রাক টার্মিনাল কাঁদাপানিতে নাজুক

সিদ্ধিরগঞ্জ  প্রতিনিধি

প্রকাশ্যে জুয়া, মাদক বিক্রি ও যাত্রাপালাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলতো সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল আন্তঃজেলা  ট্রাক টার্মিনালে।  অশান্ত সেই ট্রাক টার্মিনাল আজ শান্ত। নূর হোসেন ৭ খুনের পর পালিয়ে গেলে প্রায় ২ বছর ট্রাক টার্মিনালটি অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়েছিল। টার্মিনালের গাড়ির মালিক ও শ্রমিকরা অসহায় ছিল। টানা ২ বছর পরে টার্মিনালের দায়িত্বভার গ্রহন করেন উদীয়মান তরুন শিমরাইল টেকপাড়ার দেলোয়ার হোসেন। শক্তহাতে হাল ধরেন ট্রাক টার্মিনালের। দূর করেন চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এক্ষেত্রে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন ট্রাক টার্মিনালের সকল গাড়ির মরিখ ও শ্রমিকরা। বেহাল টার্মিনালটি ছিল বড় বড় গর্ত কাদাপানিতে সয়লাব। কাদাপানির গর্তে ট্রাক কাভার্ডভ্যান আটকে গেলে রেকার দিয়ে টেনে তুলতে হতো গাড়ি। সেই ট্রাক টার্মিনালের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন লাখ লাখ টাকা খরচ করে বালু ও  বিল্ডিং ভাঙ্গা রাবিশ ফেলে নিচু জায়গা উচু করেছেন এখনো অব্যাহত রেখেছেন টার্মিনালের উন্নয়নের কাজে। এ টার্মিনালের হোসেন প্রতিটি ট্রাক কাভার্ডভ্যান থেকে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা করে  চাঁদা কালেকশন করতো। এখন মাত্র ৬০ টাকা করে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হচ্ছে। এই সার্ভিস চার্জের টাকা দিয়ে টার্মিনালের উন্নয়নমূলক কাজ, নিরাপত্তারক্ষীদের মাসিক বেতন,  গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের দুর্ঘটনাজনিত কারণে চিকিৎসাসেবা, অফিস খরচ, অসহায় গরীবদের সাহায্য প্রদান করাসহ মালিক ও শ্রমিকদের কল্যানে ব্যয় করা হচ্ছে। ছিলনা  গাড়ির মালিকদের বসার কোন স্থান। বর্তমানে সভাপতি মালিক সমিতির অফিস নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন। টার্মিনালে কোন প্রকার চাঁদা নেওয়া হয়না বলে জানালেন টার্মিনালের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।  ট্রাক চালক শামসু মিয়া বলেন আমরা আমাদের কল্যানের জন্য ৬০ টাকা করে সার্ভিস চার্জ দিচ্ছি এতে আমরা সুরক্ষা পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন ট্রাক টার্মিনালটি এখন সম্পূর্ন মাদক ও জুয়া মুক্ত হয়েছে সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক নোমান হোসেন টুটুলের জন্য। এখন টার্মিনালে যাত্রাপালার বদলে হচ্ছে ওয়াজ মাহফিল। অশান্ত ট্রাক টার্মিনালে এখন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করলেও টার্মিনালের অনেক স্থানে এখনো একাকার হয়ে গেছে। সামনে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল আন্তঃজিলা ট্রাক টার্মিনালে কাঁদা পানিতে বিরাজ করছে নাজুক অবস্থা। হাঁটু সমান কাঁদা পানিতে ও বড় বড় গর্তে টার্মিনালে ট্রাক, মিনিট্রাক ও পিকাপ চলাচল ও পার্কিং করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন গাড়ি চালকরা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে টার্মিনালের অবস্থা হয়েছে যেন কোন চষা জমি। এখনো  বর্ষা মৌসমের অনেক বাকি। সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালের এই করুন চিত্র চোখে পড়ার মতো।  প্রতিদিন শত শত আন্তঃজিলা ট্রাক, লোকাল ট্রাক,  কভার্ডভ্যান, মিনিট্রাক ও পিকাপভ্যান এই টার্মিনালে আসা যাওয়া করে এবং পার্কিং করে গাড়ি চালকরা বিশ্রাম করে। কিন্তু  কাঁচা এই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে কাঁদা পানি। কাঁদা পানিতে ট্রাক, কভার্ডভ্যান ও পিকাপ আটকে যায় এবং বিকল হয়ে পড়ে। অবস্থা এতই বেগতিক যে আটকে যাওয়া ওই সকল যানবাহন অন্য কোন যানবাহনের সাহায্যে কিংবা রেকারিং করে কাঁদাপানি থেকে তুলতে হয়। এতে এক দিকে  সময়ের কালক্ষেপন হচ্ছে অপরদিকে অর্থেরও অপচয় হচ্ছে এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্যা এখন প্রতিদিনই মোকাবেলা করতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। এর মূল কারণ টার্মিনালের বেহাল অবস্থার কারণে। দীর্ঘ প্রায় ১ যুগ পার হলেও কেউ এই টার্মিনালের উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসেনি। সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামী নূর হোসেনের সময়ে এই ট্রাক টার্মিনালে প্রকাশ্যে জুয়া, কাউন্টার সিস্টেমে মরণব্যাধি ফেন্সিডিল ব্যবসার পাশাপশি প্রতিটি গাড়ি থেকে সাড়ে ৩০০-৩৮০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হতো। প্রতিদিন এই টার্মিনাল থেকে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করলেও নূর হোসেনও টার্মিনালের চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়ন করেননি। কিন্তু সাত খুনের পর নূর হোসেন পালিয়ে গেলে ট্রাক টার্মিনালটি প্রায় ২ বছর অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। ট্রাক টার্মিনালের শত শত ট্রাক শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য এবং তাদের অনুরোধে শিমরাইল ট্রাক কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির  সভাপতি হিসেবে হাল ধরেন শিমরাইল টেকপাড়ার উদীয়মান তরুন জাতীয় শ্রমিকলীগের নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। আবারও গতি পায় ট্রাক টার্মিনালে।  সম্পূর্ণ নতুন অঙ্গিকে চালু করেন এই আন্তঃজেলা ট্রাক টার্মিনাল। নূর হোসেন ফেলে যাওয়া টার্মিনালে শুস্কমৌসুমেও যানবাহন চলাচলের উপযোগী ছিলনা। নবনিযুক্ত সভাতি টার্মিনালের হাল ধরার পর গত বছর থেকে তার ব্যক্তি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় টার্মিনালের বিভিন্ন অংশে বালু, ইটা, সুরকি ও রাবিশ ফেলে ট্রাক চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। টার্মিনালের একের পর এক উন্নয়নমূলরক কাজ করার কারণে  কতিপয় স্বার্থন্বেষীমহল টার্র্মিনালের সভাপতি দেলোয়ারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দেলোয়ার জানান। তিনি বলেন চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদক বিক্রি বন্ধ এবং টার্মিনালের উন্নয়ন করা কি অপরাধ? দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন কুচক্রীমহল শান্ত ট্রাক টার্মিনালকে অশান্ত করতে  চাঁদাবাজি, মাদক বিক্রিরও জুয়ার আস্তানা গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্বার্থনেস্বষী ও কুচক্রীমহল ট্রাক টার্মিনালকে জুয়া ও মাদকের রাজ্যে পরিনত করার জন্য নানা অপপ্রচার চারিলে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দেলোয়ার হোসেন জানান। তিনি টার্মিনালের সকল  গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের সর্বদা সজাগ থাকার জন্য অহবান জানিয়ে বলেন জুয়া, মাদক ও চাঁদামুক্ত ট্রাক টার্মিনালে মাদক জুয়া ও চাঁদাবাজিসহ কোন প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ড হতে দেওয়া হবেনা। এদিকে টার্মিনালে গত বছর বর্ষা মৌসুম অতিবাহিত হয়েছে জোড়াতালি দিয়ে। গত কয়েক দিনের বর্ষায় আবারও ফিরে পেয়েছে পুরানো চেহারা। কাঁদাপানিতে যানবাহন আটকে গিয়ে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বেশ কয়েকবার এই ট্রাক টার্মিনাল ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে নিলেও তারাও এই টার্মিনালের উন্নয়নের জন্য কোন কাজ করেনি বলে টার্মিনালের শ্রমিকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *