রাজনৈতিক অপরাধীরা বহাল তবিয়তে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ প্রশাসনের একের পর এক কঠোর অভিযান চলছে। ক্রমশ কঠোর হতে চলেছে পুলিশ প্রশাসন। শহরে টানা দুইদিন জলকামান আর সাঁজোয়া যান রেখে দেওয়া হয় দিনভর। শহরের দুই নং রেল গেট হতে চাষাঢ়া পর্যন্ত পুলিশ বহর নিয়ে প্রদক্ষিণ করেন আলোচিত পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরাধী পাকড়াও করতে গিয়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত অনেক সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা এখনো অধরা রয়ে গেছেন। নারায়ণগঞ্জের অনেক স্থানে এখনো চলছে মাদক ব্যবসা। অধরা তেল চোরের দল। যদিও এসবের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন পুলিশ সুপার। স্থানীয়দের মতে, পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযানের তীরে আছেন প্রভাবশালীদের অনুগামীদের নিয়ন্ত্রাধীন সেক্টর। গত কয়েকদিনের অভিযানে এমনটার আভাস মিলেছে। তবে পরিশুদ্ধ শহর গড়তে প্রয়োজন সকল স্তরের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান। জানা গেছে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি করেন ফতুল্লা মডেল থানার বদলী হওয়া ওসি মঞ্জুর কাদের। মামলা হয়েছে কুতুবপুরের কথিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর হোসেন মিরু। কিন্তু এখনো অধরা মিরু। পাগলার মেরি এন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও ডিবি। শহরবাসীর মতে, গত কয়েক মাস ধরেই মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। জেলার প্রত্যেকটি থানাতে আছে অপরাধী, সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের তালিকা। এর আগে জেলা পুলিশ শতাধিক মাদক বিক্রেতার ছবি সহ নাম ঘোষণা করে। কিন্তু তাদের অনেকেই অধরা। মাদকের গডফাদাররাও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরাও অধরা। পাগলা ও ফতুল্লা এলাকাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজী হচ্ছে। ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা থেকে মাসে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। শ্রমিকদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। এসব নিয়ে প্রায়শই দেখা যায় অসন্তোষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি পাড়া মহল্লায় রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট। তাদের কারণে অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন। উঠতি সন্ত্রাসীদের ভয়ে তটস্থ থাকে জনগণ। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রকৃত অনেক অপরাধীরা অধরা থাকায় ভবিষ্যতে তারাও আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *