নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্রকারী কারা?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ অঞ্চল যা মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ। সোনালী আশঁ পাটের জন্য প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা ঐতিহ্য রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে দেশের মানুষ নারায়ণগঞ্জের নাম শুনলেই আঁতকে উঠেন। এজন্য মিডিয়াকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি বরাবরই নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে একটি মহল বেশ তৎপর রয়েছে। গত আট বছর ধরে ঐ মহলটি তৃতীয় পক্ষ হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার পায়তারা করে আসছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের একাংশ নেতাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝিতেও তৃতীয় পক্ষ হয়ে ঐ মহলটি বিভিন্ন প্রকার উস্কানী দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের প্রথম দিনেই সেই ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটলে তৃতীয় পক্ষটি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তবে এরপরও তারা নিশ্চুপ না থেকে গোপনে গোপেন নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জানাগেছে, গত আট বছর ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে একটি মহল নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে আসছে। এই মহলটির কারণেই মূলত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ একাধিক ভাবে বিভক্ত। হাতেগুনা চিহিৃত কয়েকজন নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আওয়ামীলীগে বিভাজন সৃষ্টিসহ কারণে অকারণে নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করে আসছে। অথচ প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিভাজন নিরসনে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পরও উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরুর বিভাজন চলতে থাকলে বিগত নাসিক নির্বাচনের আগে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দকে গণভবনে ডেকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করে সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে মাঠে নামার জন্য তার অনুসারিদের নির্দেশ দিয়ে নিজেও বোনের পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশে নাসিক নির্বাচনে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামলে সুবিধাভোগী তৃতীয় (নিজেদের সুশীল দাবীদার) পক্ষটির সুকৌশলে আবারো বিভাজন সৃষ্টি করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানও উন্নয়ণের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধিদের এক টেবিলে বসার আহবানই শুধু জানান নি বরং একাধিক বার ছুটে গেছেন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে। এতে মেয়র আইভী কিছুটা নমনীয় হলেও পরবর্তিতে তৃতীয় পক্ষটি বিভিন্ন প্রকার উস্কানী দিয়ে আবারো সাংসদ সেলিম ওসমান ও মেয়র আইভীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের একাংশ নেতাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝিতে তৃতীয় একটি মহল ‘ঘি’ ঢেলে নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করার পাঁয়তারা করেছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উস্কানীমূলক বক্তব্যও দিয়েছিলেন তারা। এরআগে এই মহলটি উস্কানীর কারণে গত বছরের ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তবে এবার তাদের ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। পুলিশ সুপারের বাস ভবনে বর্ষবরণ সাংসদ শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে তাদের মধ্যে থাকা ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটেছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। সূত্র বলছে, জেলা পুলিশের হার্ড লাইনে অনেকটা বিপাকে পড়ে যান সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারিরা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় মহলটি ফায়দা লুটে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কেননা সাংসদ শামীম ওসমানকে বেকায়দায় ফেলতে পারলেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের অবস্থান দূর্বল হয়ে পড়বে। বিগত দিনগুলোতে শামীম ওসমানের শক্ত অবস্থানের কারণে নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। এদিকে চতুর্মুখী দ্বন্দ্বে হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠা প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত শিল্প বেষ্টিত নারায়ণগঞ্জে অবশেষে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মূলত, যেই প্রভাবশালী দুই জন ব্যাক্তির মধ্যকার অদৃশ্য ¯œায়ুযুদ্ধে রাজনৈতিক পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছিল, শেষতক বাংলা বর্ষের প্রথমদিনে ঐ প্রভাবশালী দুই ব্যাক্তির একত্রে মধ্যাহৃ ভোজের মধ্য দিয়ে উত্তেজনার সেই বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অপরদিকে, সুবিধাভোগী মহলটিও পুনরায় জেলার রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াতে গোপনে গোপনে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানাগেছে। তবে পুলিশ সুপারকে দিয়ে তেমন সুবিধা করতে না পেরে এবার ঐ মহলটির টার্গেট জেলা প্রশাসক। এবার জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে নানা ধরণের উস্কানী দেয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্যও করেছে ঐ মহলটি। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জের শান্তিপ্রিয় মানুষ মনে করে নগরবাসীর স্বার্থে এইসব কোন্দলের কারিগড়দের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া রাজনৈতিক দল জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *