জনপ্রতিনিধিদের অনুকরণীয় সেলিম ওসমান

 

হাবিবুর রহমান বাদল

বিশেষ প্রতিবেদন

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সর্বক্ষেত্রে যার বিচরণ সেই সেলিম ওসমান রাজনীতির মাঠ থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিশৃঙ্খা দূরিকরণসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে শুধু সদর বন্দরে নয় বরং সমগ্র দেশে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের নিহত সদস্যদের নামে স্কুল নির্মান ও ভবন তৈরীতে অবদান রেখে শিক্ষানুরাগী সাংসদ হিসাবে নিজেকে পরিচিত করেছেন। অবশ্য নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করতে বিবধমান পক্ষগুলির সাথে একাধিকবার বসার প্রস্তাব দেয়ার পর সর্বশেষ সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে সাংসদ সেলিম ওসমান তা নিরসনে উদ্যোগী ভ’মিকা পালন করার পর গত বুধবার দৈনিক ডান্ডিবার্তা তাকে নারায়নগঞ্জের শান্তির দূত হিসাবে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নারায়ণগঞ্জের শান্তি আনা ছাড়াও শিক্ষা ক্ষেত্রে সাংসদ সেলিম ওসমান যে অবদান রেখেছেন দেশের কোন সাংসদ শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন অবদান রেখেছে বলে আমাদের জানা নেই। নিজ অর্থায়নে বঙ্গবন্ধুর নামে শহীদ নগরে বঙ্গবন্ধু হাই স্কুল ও অডিটরিয়াম, কুড়েরপাড়ে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দরে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়, শহরের মগ্যার্ণ গালর্স স্কুলে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব ভবন, বন্দরে একেএম সামসুজ্জোহা এমবি হাইস্কুল, নাগীনাজোহা হাইস্কুল, একেএম নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল, খোরশেদুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ করতে গিয়ে ৫০ কোটি টাকারও বেশী টাকা নিজ তহবীল থেকে ব্যয় করেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কলেজের আধুনিক ভবনটির নাম করণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে শেখ কামাল ভবন। নারায়ণগঞ্জ তো দূরের কথা দেশের কোন সাংসদ শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবীল থেকে এত বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করার নজীর বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। জাতীয়পার্টির সাংসদ হওয়া সত্বেও বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালবাসার নির্দশন স্বরূপ বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করে আগামী প্রজন্মকে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করার যে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তা আগামী দিনের ইতিহাসে উজ্জল হয়ে থাকবে। গত বুধবার দৈনিক ডান্ডিবার্তা সাংসদ সেলিম ওসমানকে শান্তির দূত হিসাবে মন্তব্য করলেও সেলিম ওসমান আসলে একজন শিক্ষানুরাগী। বন্দরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল নির্মাণ করে সেখানে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সকল ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তাছাড়া সাংসদ সেলিম ওসমানের অক্লান্ত চেষ্টায় নদীর পূর্বপাড়ে প্রথম কদম রসুল মহাবিদ্যালয়কে সরকারি করণ করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে সাংসদ সেলিম ওসমান দেশের অপরাপর সাংসদদের কাছে অনুকরনীয় বলে আমরা মনে করি। এছাড়া  শিল্প কারখানা থেকে রাজনীতির মাঠ, সর্বত্রই শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাংসদ সেলিম ওসমান কাজ করে চলেছেন। কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোষ, কারো মধ্যকার রাজনৈতিক রেষারেষি কিংবা পুলিশ প্রশাসনের সাথে মতবিরোধ, সকল ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হওয়া যে কোন ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সহসাই যেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে কখনো কখনো চরম শত্রুকেও বুকে টেনে নেন। একজন সাংসদ হওয়ার পরও নারায়নগঞ্জের স্বার্থে বার বার মেয়র আইভীর কাছে ছুটেছেন। আইভীর অনুরোধে সার দিয়ে নিজে দায়িত্ব নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করেছেন। একই সাথে সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন বিকেএমইএ’র এই সভাপতি। এমপি সেলিম ওসমানের দাবী, আমি অপরাজনীতি কিংবা কারো সাথে রেষারেষি করতে চাই না। আমি চাই নারায়ণগঞ্জের শান্তি। যার ফলে সেলিম ওসমানকে এখন দৈনিক ডান্ডিবার্তার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের মানুষও ‘শান্তির দূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মতে, শিল্প কারখানায় কোন ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হলেই তা সমাধানে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানকেই ছুটে যেতে হয়েছে। আর তিনি শ্রমিকদের সামনে গিয়ে হাজির হওয়া মাত্রই সেই সকল কারখানার শ্রমিক অসন্তোষ শান্ত হয়ে গেছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমানের দ্বন্দের কারনে প্রায়ই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে শুরু করলে সেলিম ওসমানই স্বপ্রণোদিত হয়ে আইভীকে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে এক টেবিলে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়েছেন। সর্বশেষ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক তানভীর আহম্মেদ টিটুকে মাদক মামলায় জড়ানো এবং দেওভোগের একটি শিশু অপহরনের ঘটনায় বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজলকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষে চেম্বার সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দিলে সাংসদ সেলিম ওসমান মক্কা থেকে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের আহবান জানান। পর দিনই দেশে ফিরে তিনি পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের সাথে আলোচনায় বসে নিজেদের মধ্যকার সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা নববর্ষে সাংসদ শামীম ওসমান পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে তার বাস ভবনে গেলে পুলিশ সুপারের স্ত্রী সাংসদ শামীম ওসমানকে অব্যর্থনা জানাতে গিয়ে বলেন, বোনের বাসায় ভাই আসবে এটাই স্বাভাবিক। এরপরই ক্রমশ শান্ত হয়ে উঠতে থাকে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ। যদিও কেউ কেউ এখনো নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার জন্য বিভিন্ন ভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রেও বসে নেই নারায়ণগঞ্জের শান্তির দূত খ্যাত শিক্ষানুরাগী সেলিম ওসমান। তার কর্ম তৎপরতা আগামী প্রজন্মকে যেমন সঠিক পথে চালাবে তেমনই দেশের রাজনীতিবিদদের এই ব্যবসায়ী নেতা সাংসদ সেলিম ওসমানের কাছ থেকে শুধু আধুনিক নারায়ণগঞ্জ নয় বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কিভাবে জনগণের সেবা করতে হয় তাও আগামী ইতিহাসবিদদের জন্য গবেষণার বিষয়ে পরিনত হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *