প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে-সেলিম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মর্গ্যান গালর্স স্কুলের নব নির্মিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কালে সাংসদ সেলিম ওসমান আগামী প্রজন্মের বসবাস যোগ্য আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এক সময় এই মর্গ্যান স্কুল ভিকারুন্নেছা স্কুলকেও ছাড়িয়ে যাবে।  এ জন্য আমার পক্ষ থেকে সবকিছু করব কিন্তু ছাত্রীদেরকে জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা না করে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, সাংসদ সেলিম ওসমানের পতিœ নাসরিন ওসমান। তিনি আরো বলেন, মাদকাসক্ত যুবকদের সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনতে শাসনের পাশাপাশি ¯েœহ-ভালোবাসা দেয়ার জন্য অভিভাবদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। গতকাল শনিবার দুপুরে বন্দর উপজেলার ধামগড় এলাকায় শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদানকালে এ আহবান জানান। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত সন্তানকে অবহেলা না করে বাবা-মায়ের উচিত তাদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সৃষ্টি করা। তবেই তাদের সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেলিম ওসমান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। সেই আলোকে আমি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থার আবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি। এর ধারাবাহিকতায় শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবেও আমি আমার নির্বাচনী এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে আসছি। সেলিম ওসমান এসময় নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি অনেক কষ্ট করেছি। অর্থের অভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর আর উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারিনি। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুকূলে না থাকায় পরিবার টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে বাস চালিয়েছি, রাস্তায় ফেরি করে মুরগি বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, কাজকে আমি কখনোই ছোট করে দেখিনি। তাই আজকে আল্লাহর রহমতে সবার দোয়ায় দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পেরেছি। সেলিম ওসমান সকল শিক্ষার্থীকে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার তাগিদ দেন। সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান শহর ও বন্দরের ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেছেন। গতকাল শনিবার সকল  থেকে বিকেল পর্যন্ত বন্দর ও শহরের ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে চেক গুলো হস্তান্তর করেছেন। এছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত অনুদানে মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্মিত বঙ্গমাতা ফজিলেতুন্নেছা মুজিব নামে নতুন ভবনটির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। যার মধ্যে বন্দরে নবীগঞ্জ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা তৈরি করার কারইে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদজ্জনক অবস্থায় থাকা নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি অন্যত্র নির্মাণের লক্ষ্যে জমি কেনা বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, মর্গ্যাণ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে আরো একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ৭৫ লাখ টাকা, শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবনটির ৪র্থ তলা নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ৭৫ লাখ টাকা, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয় ধাপের ২৫ লাখ টাকা, নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থতলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ২৫ লাখ টাকা, দেওভোগে বিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ঘোষণা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে ২৫লাখ টাকা, এবং সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম নির্মাণের জন্য দ্বিতীয় ধাপে ২৫ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ধামগড় এলাকায় অসহায় দরিদ্র তৈয়ব আলীকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও স্কুলের ১০জন শিক্ষার্থীকে ১০টি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে। সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান এসব অনুদানের চেক সকলের হাতে তুলে দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এমপি সেলিম ওসামনের সহ ধর্মিনী নাসরিন ওসমান, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম সহ প্রতিটি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *