মন্ডলপাড়ায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নিতাইগঞ্জ আর কে মিত্র রোড ও বি কে দাস রোডে লোড আনলোডের নামে দীর্ঘ সময় ট্রাক পার্কিংয়ের ফলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেই ভোগান্তি নিরসনে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. শরফুদ্দিনের নেতৃত্বে ট্রাফিক ও সদর থানা পুলিশ পার্কিং উচ্ছেদ অভিযান চালায়। সময়ের নারায়ণগঞ্জে ২৩ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পরেই ওই অভিযান চালানো হয়। জানা গেছে, মন্ডলপাড়া সহ উক্ত রোডে অপরিকল্পিতভাবে ট্রাক রেখে রাস্তা দখলে রাখতেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা। এর ফলে ২-৩ দিন একই স্থানে খালি ট্রাক পড়ে থাকতো। মন্ডলপাড়া আর.কে মিত্র রোড ও বি.দাস রোডের সকল ব্যবসায় সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে শহরের ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর শরফুদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। সে সময় মন্ডলপাড়া মোড় থেকে বি দাস রোডের প্রায় শতাধিক বড় ছোট ট্রাক কভার্ডভ্যান বের করে দেয়া হয়। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যে রাস্তা দখল মুক্ত হয়ে যায়। বি দাস রোডের মিলস এলাকার পুলিশ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর কাদির, সুলতান উদ্দির নান্নু, কামাল দেওয়ার সহ অর্ধশত মালিক ও কর্মকর্তারা। তারা পুলিশ অভিযান বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ীদের যৌথ সিদ্ধান্তের সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে মিলস মালিক ও সমিত কর্মকর্তারা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিলে ট্রাফিক পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এমন হুশিয়ারিতে নেতা নড়েচেড় বসেন ব্যবসায়ীরা। এরপর আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর কাদেরের নেতৃতে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বি দাস রোড পরিদর্শন করেন ব্যবসায়ীরা। এসময় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান আহছান ট্রেডার্স, নাড়ু, নিলয়, সনি ও ওহিদের প্রত্যেকের নিজস্ব ১০ থেকে ১২ টি করে গাড়ি এই রোডে অবস্থান করতে দেখা যায়। এসব থেকে রক্ষার জন্য, বুধবার সকালে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে দ্রুত সভা করার ঘোষণা দেয়। এতে যাদের গাড়ি সড়কে লোড আনলোডের নামে দীর্ঘক্ষণ সড়কে অবস্থান করে থাকে তাদের অবশ্যই সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। এই সভায় জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের থাকার অনুরোধ করেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শরফুদ্দিন বলেন, সকালে উক্ত সড়কগুলোতে বহু ট্রাক অপেক্ষমান অবস্থায় রয়েছে। এগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে সড়কগুলো দখলমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বি দাস রোডের ব্যাংকের মোড়ে ব্যবসায়ী নেতার মধ্যে অমিল রয়েছে। যে যার মত তার প্রতিষ্ঠানে সামনে ট্রাক ফেলে রাখে। এভাবে চলতে থাকলে আইনের প্রয়োগ করা হবে। যেকারণে ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের যৌথ সভায় নিয়ম পালনের আহবান করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অন্যত্র চলে গেলে তারা ফের বেপরোয়া হয়ে পড়ে। এদিকে সড়কগুলো দখল মুক্ত করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিমেন্ট ও লৌহজাত সমিতির সভাপতি হাজী ওবায়েদ উল্লাহ। এছাড়া সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরাও এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *