শামীম পন্থিরা বেকায়দায় আইভী পন্থিদের উল্লাস!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আওয়ামীলীগের এমপি একেএম শামীম ওসমান রাজনীতিতে বর্তমানে বেশ বেকায়দায় রয়েছেন এমনটাই ধারনা করছে বিএনপির নেতা-কর্মী ও আইভীর অনুসারিরা। কারণ হিসাবে তারা বিভিন্ন আড্ডাখানায় আলোচনায় শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে বলতে চাইছেন শামীম ওসমানের বেশকজন ঘনিষ্ঠ কর্মী বিভিন্ন অভিযোগে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার সবচেয়ে কাছের ডান হাত, বাম হাত বলতে নেতাকর্মীদের ভাষ্যে যা বুঝায় সেই শাহনিজামের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে জিডি করেছেন। আইভী পন্থি নেতাকর্মীদের দাবি নারায়ণগঞ্জের প্রতাপশালী নেতা শামীম ওসমান। শামীম ওসমানের এমন করুণ দশা যে, তার একজন ঘনিষ্ট কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর এসপির কাছে গিয়েছিলেন তদবির নিয়ে। কিন্তু পুলিশ সুপার তা নাকচ করে দেন। এমন খবরগুলো প্রতিদিন পত্রিকায় পাতায় দেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের মুখ্যে অট্টহাসি দেখা যায়। বেশকজন বিএনপি নেতা এক বাক্যে বলছেন, ‘ঠিকই আছে।’ আবার অনেকেই বলছেন, মেয়র আইভী এই শামীম ওসমানের চার পাশে থাকা বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে বারবার মুখ খুললেও তাদের আইনের আওতায় নিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু পুলিশের বর্তমান ভূমিকায় হয়তো তিনিই বেশ খুশি! হকার উচ্ছেদ নিয়ে আইভী রাজপথে নেমেও যা পরেনি। সেখানে পুলিশ সুপার এসেই এক ইশারায় সরিয়ে দিলেন সেই হকার। অবশ্য পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে ও নিরাপত্তার জন্য তিনি সব করছেন।  গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের সময় বর্তমান পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের প্রতি বিএনপি নানা কারনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি পুরোটাই পাল্টে দিলেন এসপি হারুন অর রশীদ। ইতিমধ্যে যেসব সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ তাদের বেশির ভাগই শামীম ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করে আসতো। বিভিন্ন সভা সমাবেশে শামীম ওসমানের চার পাশেও দেখা গিয়েছিল এদের বেশকজনকে। আবার তার মিটিং মিছিলেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতই। ফলে এসব অপকর্মকারীদের দাপটে টটস্ত ছিল নারায়ণগঞ্জের মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলোচিত সন্ত্রানী টেনু গাজী ও কুতুবপুরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্র্রাসী মীর হোসেন মিরুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মীরু কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি। এছাড়াও শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় মসজিদের টাকা আত্মসাত নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসাইন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঠায় পুুলিশ। যদিও দুই পক্ষের আপোষের পর তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। এছাড়াও শামীম ওসমানের আরেক ঘনিষ্টজন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম। গত মাসে তৎকালীন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বাদী হয়ে শাহনিজামের বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করেন। এদিকে গত ১৮ এপ্রিল বন্দর থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেল গেটের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন দুজন বাদী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শামীম ওসমানের আরেক কর্মী সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগের দিন রাতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। এসব ছাড়াও শামীম ওসমানের একমাত্র ছেলে অয়ন ওসমানের শ্যালক বিকির বিরুদ্ধেও মামলা নিয়েছে পুলিশ। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের এখন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজী মাদক বিক্রয়ের অভিযোগে পড়ে যাচ্ছেন শামীম ওসমানের লোকজন। এসবের সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে শহরের দেওভোগ এলাকা থেকে শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজের বিষয়টি। শিশুটির বাবা এপন জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর একটি লিখিত দিয়েছে সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজলের বিরুদ্ধে শিশুটিকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। এই নাজমুল আলম সজলও শামীম ওসমানের অন্যতম কাছের কর্মী। তার বিরুদ্ধে বিনাভোটে বার বার হোসিয়ারী সমিতির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও সজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বি নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। এনিয়ে খোদ হোসিয়ারির মালিকরা ক্ষুদ্ধ। কারণ গত কয়েক বছরে সজল হোসিয়ারী মালিকদের স্বার্থে কিছুই করেননি। এদিক গত ২০ এপ্রিল ফতুল্লার ভূইগড়ে রূপায়ন টাউনে হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় আসামী হয়েছেন জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দীন ভূঁইয়া। নাজিম উদ্দীন ভূঁইয়াও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ কর্মী। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদেও রয়েছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক ভূমিদূস্যতা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ ওঠেছিল। নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে রূপায়ন টাউনে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মারপিট করে আহত করে। সূত্র: সান নারায়ণগঞ্জ

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *