অবশেষে ক্ষমতাসীনদের সংঘর্ষের তদন্ত হচ্ছে!

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলাটি অতিদ্রুত অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টিকে চলমান প্রক্রিয়া হিসাবে দাবি করলেও গত বছরের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলাটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। যদিও এ ব্যপারে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ স্পষ্ট করে এখনো গণমাধ্যমকে কিছু জানাননি। কিন্তু ঐদিনের ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানার ইন্সপেক্টর জয়নাল আবেদীনের দায়ের করা মামলাটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই মামলায় সরকারি কাজে বাধা, জনস্বার্থ বিঘিœত ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ এনে ৫শত অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা করা হয়। পুলিশ এ মামলাটিকে সম্পূর্ন পক্ষপাতহীন ভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। একই ঘটনায় গত বছরের ১৭জানুয়ারী নিয়াজুল ইসলামের তার ছোট ভাই রিপন খানের মাধ্যমে সদর মডেল থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অস্ত্র লুটের ঘটনায় অভিযোগ দেন। পুলিশ সেটাকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পরে ২৫ জানুয়ারী রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনে একটি ফুলের টব থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে ২৩ জানুয়ারি সকালে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে এ নাসিকের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার অভিযোগ করেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা করার জন্যই ওই হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল ইসলাম খান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজামসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেন জিএমএ সাত্তার। তবে এ অভিযোগ এখনও মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। এজাহারে নিয়াজুল ইসলাম ও শাহ নিজাম ছাড়া আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগকর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের করা মামলাটিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মামলাটি স্বাভাবিক নিয়মেই অগ্রগতি হচ্ছে। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের আলোচিত ঘটনার পর দুই পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল সেটার কোনটিই গ্রহণ করা হয়নি। বরং পুলিশ তখন বাদি হয়ে একটি মামলা করেছিল। সেই মামলার কার্যক্রমও চলছিল বেশ ঢিমেতালে। তবে বর্তমানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেই মামলার নথি তালাশ করে সেটার দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার পক্ষে। ফলে আগামীতে দ্রুত ওই মামলাটি আবারো সচল হচ্ছে জানা গেছে। মামলায় দ্রুত তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দিতেও বলা হতে পারে। এ নিয়ে এখন চলছে পর্যালোচনা। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হকার ইস্যুর পর যে মামলাটি করেছিল সেটার বাদী ছিল পুলিশ। হকার ইস্যুর ঘটনায় পুলিশও আহত হয়। কিন্তু নানা কারণে সেই মামলাটি চাপা পড়ে যায়। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসন গত বছরের ১৬ জানুয়ারীর সেই ঘটনার বেশ কিছু স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেছেন। সেখানে কারা কারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করেছেন। কাদের হাতে অস্ত্র, ইটপাটকেল ছিল তার সব আলামত ও ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনদের কাছ হতেও ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হচ্ছে। গভীর তদন্তে কারা কার হামলায় ছিলেন সেটাকে চিহ্নিত করা হবে। জানা গেছে, গত বছর হকার উচ্ছেদ করা হয় শহর হতে। পরে হকাররা অনেক আন্দোলনও করে। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নগর ভবনের সামনে থেকে বের হয় মেয়র আইভী। এদিকে হকাররা অবস্থান নেয় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে। মেয়র আইভী পায়ে হেঁটে নগর থেকে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকে। তবে ওইদিন সকালেই জানা গিয়েছিল মেয়র আইভী প্রেস ক্লাব পর্যন্ত আসবেন পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে চলে যাবেন। এবং হেঁটে হকার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আসবেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হকার বসতে শুরু করে। এমন অবস্থায় চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে চলে আসেন আইভী। এদিকে শহীদ মিনার থেকে হকাররাও সায়াম প্লাজার দিকে যাওয়া শুরু করে। এরি মধ্যে শুরু হয়ে যায় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ইটপাটকেল নিক্ষেপ। নিয়াজুল ইসলাম খান মারধরের শিকার হয়ে বের করেন পিস্তল। পিস্তল বের করার পর আরো কয়েক দফা মারধরের শিকার। এদিকে চলতে থাকে দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপ গোলাগুলি মারামারি। সংঘর্ষের ঘটনায় নিয়াজুল ইসলাম নামের যে যুবলীগ নেতার হাতে অস্ত্র দেখা গেছে সে ব্যাপারেও ব্যাখায় শামীম ওসমান বলেন, নিয়াজুলের অনেক ঘটনা মিডিয়াতে আসে নাই। বার বার নিয়াজুলকে শামীম ওসমানের লোক বলা হলো। বিকেলে একা একা হেঁটে আসার সময়ে মিছিল থেকে তিনবার মাটিতে ফেলে ১০ মিনিট ধরে পেটানো হয়। চতুর্থবার বাধ্য হয়ে নিয়াজুল লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে। তার পিস্তলটি খোয়া গেছে কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। অপরদিকে আইভীর অভিযোগ তাকে হত্যা করতেই নিয়াজুলকে পাঠানো হয়েছিল। খোয়া যাওয়া নিয়াজুল ইসলামের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয় ২৫ জানুয়ারী রাতে। সেদিন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনের একটি ফুলের টব থেকে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটির সন্ধান পায় পুলিশ। নিয়াজুলের কোন হদিস পায়নি পুলিশ। ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬ বোরের পিস্তলটির সঙ্গে ম্যাগজিন ভর্তি ১০ রাউন্ড গুলি ছিল। এটি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র। শহরে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও যুবলীগ নেতা নিয়াজুলের দায়ের করা অভিযোগগুলো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। ঘটনার ৮দিন পর বুধবার ২৪ জানুয়ারী রাতে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন বাদী মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সেদিনের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র রয়েছে। যাতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষকালে অস্ত্র প্রদর্শন করেছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে। যদিও পুলিশ সুপার এ ব্যপারে জানিয়েছেন, মামলা সম্পর্কে তার কাছে তেমন কোন তথ্য নেই।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *