বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রেমিক প্রয়াত নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছেন সেলিম ওসমান

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে যে মানুষটি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে বারবার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছেন সেই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের আজ চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। পঁচাত্তর পরবর্তী ওসমান পরিবার বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ বর্তমান অবস্থানে আসার পিছনে যে মানুষটির অবদান ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নবপরীনিতা স্ত্রীকে বাসর ঘরে ফেলে রেখে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে দেশ ছেড়েছিলেন যে মানুষটি তিনি হলেন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান। মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ওসমান পরিবারের কান্ডারী যদি কাউকে বলতে হয়, তবে প্রয়াত নাসিম ওসমানকেই তা বলতে হবে। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পিছনে রাজনৈতিক কারিশমা দেখিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখতে প্রয়াত নাসিম ওসমানের ভুমিকা ছিল অপরিসীম। যে কারণে সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত নাসিম ওসমানের উপর আনিত শোক প্রস্তাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি সংসদে দাড়িয়ে ওসমান পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রয়াত নাসিম ওসমানের প্রতি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সাংসদ নাসিম ওসমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রয়াত নাসিম ওসমানের লাশ গ্রহণ থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত একজন প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। প্রয়াত নাসিম ওসমান আসলেই ওসমান পরিবারের কান্ডারী ছিলেন। ওসমান পরিবারের দু:সময়গুলি নাসিম ওসমান নিজে মোকাবেলা করতেন। সেই সাদা মনের মানুষ হিসাবে পরিচিত ওসমান পরিবারের কান্ডারী একেএম নাসিম ওসমানের আজ মঙ্গলবার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। যদিও পচাত্তর পরবর্তি সময়ে ওসমান পরিবারের দু:সময়ে সেলিম ওসমান পরিবারের হাল ধরেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর পুরো পরিবারের উপর যখন নির্যাতন নেমে আসে, তখন শত নির্যাতন সহ্য করে সেলিম ওসমান সংসারের দায়িত্ব গ্রহন করে এমন কোন কাজ ছিলনা যা তিনি করেননি। কাজের প্রতি সেলিম ওসমানের কোন প্রকার লজ্জাবোধ ছিল না বলেই সময়ের বিবর্তনে সেলিম ওসমান হয়ে উঠেন একজন দেশ সেরা শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতা। আজ থেকে পাঁচ বছর পূর্বে সদর-বন্দর আসনের সাধারণ মানুষের নেতা মাটি ও মানুষের সাথে যার ছিল আমৃত্যু সহাবস্থান সেই নাসিম ওসমান ভারতের দেরাদুনে আকস্মিক মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুতে সমগ্র নারায়ণগঞ্জ যেন সেদিন স্থবির হয়ে পড়েছিল। নাসিম ওসমানের অনুসারী ছাড়াও তার নির্বাচনী এলাকার অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার মৃত্যুতে কানঁœায় ভেঙ্গে পড়েন। নাসিম ওসমান এমন একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন যিনি সদর ও বন্দরের উন্নয়নে আমৃত্যু চেষ্টা করে গেছেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও নাসিম ওসমান ভেঙ্গে পড়েননি। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়া স্বত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর শুধু একনিষ্ট ভক্তই ছিলেন না বরং জাতীয় পার্টির সভায় প্রকাশ্যে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করতেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। বাচ্চু চৌধুরী হত্যাকান্ডে জড়িতসহ চাষাড়ায় জোড়া খুঁেনর মামলায় তাকে জড়ানোর একাধিক বার চেষ্টা হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে নাসিম ওসমান সদর-বন্দর আসনের মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার কাছে কোন নেতাতো দূরের কথা কোন কর্মী খালি হাতে ফিরেননি। পেশাদার সংবাদকর্মীদের তিনি প্রচন্ড ভালবাসতেন। নারায়ণগঞ্জের সৎ ও নিষ্ঠাবান সংবাদকর্মীদের সুখ দুঃখে নাসিম ওসমান সব সময় পাশে দাঁড়াতেন। তাদের সুখ ও দুঃখের খবরের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনেও নাসিম ওসমান পেশাদার সাংবাদিকদের একজন অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। যদিও ধান্দাবাজ সাংবাদিকদের তিনি কখনো প্রশ্রয় দিতেন না। নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক নগরীতে পরিনত করতে চেয়েছিলেন। শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানে আমৃত্যু নাসিম ওসমান কাজ করে গেছেন। বার বার শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মানকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হলেও একটি বিশেষ মহল বার বার শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মানকাজ বন্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করেছে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিন পরে হলেও শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মানকাজ চলছে। নাসিম ওসমান শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ের আমূল পরিবর্তন ঘটান। যার ফসল এখন বন্দরবাসী ভোগ করছেন। নাসিম ওসমানের আকস্মিক মৃত্যুর পর অনেকটা অনিচ্ছা সত্বেও ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান উপ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন। প্রায় ৫ বছরে সদর বন্দর আসনে সাংসদ সেলিম ওসমান অর্ধশত কোটি টাকারও বেশী ব্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে স্কুল ও ভবনসহ ৭টি স্কুল নির্মাণ করেন। তারই চেষ্টায় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ চলমান। এছাড়া সদর-বন্দরবাসীর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসাবে ফেরী সার্ভিস চালু ও ফেরীঘাটে টোলমুক্ত করেন। একাধিক অসুস্থ্য মানুষের চিকিৎসা ব্যয়সহ সহ¯্রাধিক নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করেন। বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন, নাসিম ওসমান একজন জাতীয় রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না বাস্তবে নাসিম ওসমান ছিলেন একজন শিশু মনের অধিকারী মানুষ। যারা নাসিম ওসমানের সাহচর্যে না এসেছেন তারা বুঝতে পারবে না নাসিম ওসমান বাহিরে ও ভিতরে দুইটি ভিন্ন স্বত্ত্বার অধিকারী ছিল। নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জবাসীর বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন। তার শত্রু ভাবাপন্ন মানুষও এখন নাসিম ওসমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আলাপকালে স্বীকার করে আসলেই নাসিম ওসমান একজন শিশু সুলভ মনের মানুষ ছিলেন। বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান তার ভ্রাতা ও সদর-বন্দর আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন এমন বক্তব্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন। ইতিমধ্যে শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মান কাজ চালু করেছেন। বন্দরে একাধিক স্কুলে ৫০ কোটি টাকারও বেশী টাকা অনুদান দিয়েছেন। বারবার বলছেন আমি প্রয়াত নাসিম ওসমানের অসম্পূর্ন কাজ সম্পূর্ন করার জন্যই এমপি হয়েছি। নাসিম ওসমান ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা। তিনি রাজনীতি করতেন এবং প্রতিপক্ষ রাজনীতিবীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতেন। কিন্তু তার জীবদ্দশায় ষড়যন্ত্র তো হয়েছেই এমনকি তার মৃত্যূর পরও একটি মহল প্রয়াত নাসিম ওসমানের মরনোত্তর বিচার দাবী করার মতো দু:সাহস দেখিয়েছে। নাসিম ওসমান ব্যাক্তিগতভাবে বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে প্রচন্ড ভালবাসতেন। নাসিম ওসমানের অনুসারীদের দাবী ওসমান পরিবারের বর্তমানে রাজনৈতিক কান্ডারী শামীম ওসমান এই দাবী যারা করেছেন তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে জবাব দিবেন এটাই তাদের কাম্য। প্রয়াত নাসিম ওসমানকে ব্যবহার করে অনেকে টোকাই থেকে কোটিপতি হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি সেই সব টোকাইরা নাসিম ওসমানকে ভুলে গেলেও সাধারণ মানুষের মনে এখনও নাসিম ওসমান বেচেঁ আছেন। আর নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে গিয়ে সাংসদ সেলিম ওসমান ও তার সহধর্মীনি নাসরীন ওসমান সদর-বন্দর আসনে শিক্ষানুরাগীর খেতাবসহ দানবীর হিসাবে এলাকায় সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *