মহানগর বিএনপিতে বিতর্কিতদের প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটিতে বিতর্কিত নেতাদের প্রতিষ্ঠিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম। শুরু থেকেই প্রশ্রয় দিয়ে আসা এসব সরকারী দলের দালালদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই দিতে তাদের পক্ষ অবলম্বন করে যাচ্ছেন কালাম। কালামের চেষ্টায়ই শেষ পর্যন্ত এসব বিতর্কিত নেতারা দলে স্থান পেয়ে গেলে তা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করে তৃণমূল। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র ১৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদনের সংবাদ গনমাধ্যমে নিশ্চিত করেন সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। কিন্তু এ ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় আমেরিকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন কামাল। ফলে এ কমিটি নিয়ে হতাশা তৈরী হয় নেতাকর্মীদের মাঝে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সময়ে বিএনপি’র পদ পদবী ব্যবহার করে সরকারী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা নেতাদের বহিস্কারের বদলে পুরস্কিত করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়ায় ঝুলে গেছে সেই কমিটি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের টেবিলে আটকে আছে সেই কমিটির অনুমোদন। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র একাধীক সূত্র নিশ্চিত করেছে বিষয়টি। সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের খবর পাওয়া গিয়েছিলো কয়েকদিন আগে। বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেছিলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের খবর পেয়েছি তবে কমিটির কপি এখনো হাতে পাইনি। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র একটি সূত্র থেকে জানা াগয়েছিলো, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আগের কমিটির কিছু রদবদল করা হয়েছে। আংশিক কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানতে ৩য় সহ সভাপতি করা হয়েছে আর ১ম সহ সভাপতি করা হয়েছে নুরুল ইসলাম সর্দারকে আর ২য় সহ সভাপতি করা হয়েছে আতাউর রহমান মুকুলকে। আর সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে প্রমোশন দিয়ে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে শওকত হাশেম শকুকে। এ ধরনের বিতর্কিত কমিটি অনুমোদনের খবরে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। গত কয়েক বছর রাজপথে দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম বারবার জেল খাটা সত্বেও এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের ডিমোশন আর গত নির্বাচনে সরাসরি বিএনপি’র বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে কাজ করা আতাউর রহমান মুকুল আর শওকত হাশেম শকুর প্রমোশনে কমিটির গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাছাড়া এভাবে যদি রাপথের পরীক্ষিত নেতাদের অবমূল্যায় করা হতে থাকে তাহলে বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রাম করার মতো আর তৃণমূল কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা বলে শংকা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকারসহ একাধীক নেতা পদ পদবীতে বিএনপি ব্যবহার করলেও বিএনপি’র কোন আন্দোলন সংগ্রামে কখনো অংশ নেননি বরং সরকারী দলের এমপিদের সাথে ছিলো তাদের উঠা বসা। এমনকি গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে না থেকে প্রকাশ্যেই অবস্থান নিয়েছিলেন সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষে। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া এসব নেতাদের বিরুদ্ধে তাই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উঠেছিলো তৃলমূলে। দল থেকে এসব নাম সর্বস্ব নেতাদের বহিস্কারের দাবীতে অনঢ় ছিলো নেতাকর্মীরা। আশা করেছিলো কমিটি পূণর্গঠনের সময়ে বাদ দেয়া হবে এসব বেঈমান নেতাদের। সেই সাথে এসব নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিলো তৃণমূলের।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *