সৌদি আরবের খেজুর গাছ বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চান সোনারগাঁওয়ের জীবন আলী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এলাকার জীবন আলী সৌদি আরবের খেজুর গাছ সোনারগাঁও সহ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চান। কাজিরগাঁও এলাকার  মৃত আব্দুল আলী তাবু ফকিরের ছেলে জীবন আলী জানান, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবের আল-মাসানায় খেজুরের বাগানে কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশে খেজুর বাগান করার উদ্যাগ নিয়েছেন। তিনি ৩ সন্তানের জনক জীবন আলী প্রবাসে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে না পারলেও সেখানে খেজুর বাগানে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন খেজুর গাছের একটি নার্সারি। তিনি আরও জানান, সৌদি থেকে খেজুরের বীজ নিয়ে দেশে এসে নার্সারির কাজ শুরু করি। বর্তমানে আমার লাগানো বীজগুলো থেকে গজানো চারাগুলোর বয়স চার বছর। দশ বছর বয়স হলে খেজুর গাছে ফলন শুরু হবে। মঙ্গলবার সকালে ডান্ডিবার্তা রির্পোটার সরেজমিন গিয়ে দেখেন জীবন আলীর খেজুর গাছের নার্সারিতে খেজুর গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। তার নার্সারিতে প্রায় এক হাজারেরও বেশী বিভিন্ন জাতের খেজুর গাছের চারা রয়েছে।প্রতিটি চারার মূল্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। মরিয়ম, এখলাস, শুক্কারি, ডেকলেট নূর ও আল-খুদরীসহ বিভিন্ন জাতের খেজুরের চারা পাওয়া যায় তার নার্সারিতে। জীবন আলী জানান, খেজুর গাছ বিক্রির উপযুক্ত করতেই কমপক্ষে ৪ বছর লেগে যায়। আর ফলনের জন্য লাগে ১০ বছর। নার্সারিতে বর্তমানে বিভিন্ন বয়সী খেজুরের চারা আছে। খেজুর গাছ চাষের মাধ্যমে দেশে খেজুরের আমদানী নির্ভরতা কমবে। দশ বছর আগে সৌদি থেকে ছুটিতে এসে কাজিরগাঁও কবরস্থানে কয়েকটি বীজ রোপণ করেছিলাম, আজ সে গাছগুলোতে ফলন এসেছে। তিনি জানান, খেজুর বাগান করা একটি দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এছাড়া খরচও অনেক বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা পেলে বাংলাদেশে আরবের খেজুর ছড়িয়ে দেয়া যাবে। সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার মনিকা আক্তার বলেন, এবছর জীবন আলী তার খেজুরের চারা নিয়ে উপজেলা বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এখানে বেশ কিছু খেজুর চারা বিক্রিও হয়েছে। বাংলাদেশে আরবের খেজুর গাছের নার্সারি নেই বললেই চলে। জীবন আলীর এই উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য। আমরা তার নার্সারির খোঁজখবর নিচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে যথাসাধ্য সহযোগীতা করা হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *