হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণী লাঞ্ছিত

বন্দর প্রতিনিধি
বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকার হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের হাতে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনিকে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৎক্ষনিক জরুরী সভা করে অভিযুক্ত সদস্যকে বহিস্কার ও সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছে বলে জানা গেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য হারুন মোল্লা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি তার মেয়ের এসএসসি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। তার উচ্চবাচ্যে অন্যান্য শিক্ষকসহ অনেকে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে হারুন মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের দিকে তেড়ে যান এবং চেয়ার তুলে মারতে চেষ্টা করেন। তারা আরো জানান, এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করে। পরে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকর্মীরা প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির মোবাইলে ফোন করলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হারুন মোল্লা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গায়ে হাত তুলেছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কমিটির সবাই বসেছি, দেখি কী সমাধান হয়। তিনি তখন বলেন, হারুন মোল্লা আগে থেকেই আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে তার মেয়ের এসএসসির রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে কথা বলতে এসে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার তুলে আমাকে মারতে উদ্যত হলে তার ছোট ভাই তাকে নিবৃত্ত করেন। এ সময় হারুন মোল্লা টেবিল চাপড়িয়ে উচ্চবাচ্য করেছেন বলেও প্রধান শিক্ষক জানান। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মইনুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমি স্কুলে এসেছি এবং বিষয়টি হাতাহাতির ঘটনা ছিল না বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা এহসান উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিদের জানান, উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমাধানে পৌঁছেছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে থাকলে তা ঠিক হয়নি। এ ব্যপারে অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হারুন মোল্লা বলেন, আমার মেয়ে আবিবার রেজিষ্ট্রেশন ৯ নাম্বারে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু অদৃশ্য বা ভুলের কারনে হউক তার রেজিষ্ট্রেশন সিরিয়াল হয়ে যায় ৩৯ নাম্বারে। এ কারনে তার মেয়ে পরীক্ষায় তার সহপাঠিদের সাথে বসতে পারবেনা বিধায় পিতার কাছে কান্নাকাটি করে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে তার বাকবিতন্ডার হয়। পরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। তার পরেও কতিপয় কুচক্রি মহল বিষয়টি অন্যখানে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি এবং হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেছি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *