টাকা দিলে টিকা মিলে এনসিসির টিকাদান কেন্দ্রে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
প্রকাশ্যেই চলছে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে টিকাদান কেন্দ্রে প্রতিটি টিকার বিনিময়ে টাকা নেওয়া। টিকা দিতে এসে এবার অভিযোগ উঠে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন টিকা প্রদানকারী কর্মীদের নিয়ে। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রকাশ্যে আগত বাচ্চা ও মহিলাদের বিভিন্ন টিকা প্রদানে নিচ্ছে টাকা টিকাদানকর্মীরা। প্রতিটি শিশু ও মহিলাদের টিকার বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে ২০টাকা করে।মহিলা জানান,আমি আমার বাচ্চাকে প্রথম টিকা দিতে এসেছি আমার কাছ থেকে ২০ টাকা রাখা হয়েছে কিন্তু উপরে লিখা আছে একটি চার্টে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয় কেউ টাকা চাইলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রতিটি মানুষের নিকট থেকে টাকা নিচ্ছে কর্মচারীরা তা কি সিটি কর্পোরেশনের কেউ দেখছে না? আমি নিজের চোখে দেখলাম যে কয়জন টিকা দিতে এসেছে সবার নিকট থেকেই ২০টাকা করে রাখছে এবং টিকার কার্ডটি ১৬মাস পরে দিবে বলছে। যদি কোন কারনে আমার শিশুর জন্মসদনের প্রয়োজন হয় তখন তো আমার টিকার কার্ডটি লাগবে তখন আমি কি করবো? কর্মচারী যারা টাকা নিচ্ছে তাদেরকি সিটি কর্পোরেশন থেকে বেতন দেওয়া হয় না?টাকার বিনিময়ে টিকা প্রদানে শিশুকে টিকা দিতে এসে প্রত্যক্ষদর্শী এক টিকা দিতে আসা মানুষের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে কেনো এব্যাপারে টিকাদানকারী সুমি ও মুন্নিকে প্রশ্ন করলে তারা জানায় তাদের যে পরিমান মাসে বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না তাই নিজেদের প্রয়োজনীয় স্বার্থ তারা টিকা দিতে আসা আগত মানুষদের নিকট থেকে ২০ টাকা করে নিতে হয়। টিকাদানকারী কর্মীরা প্রতিটি টিকা টাকার বিনিময়ে প্রদান করছে কেনো সিটি কর্পোরেশন থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্তেও এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের মেডিকেল ও প্রোগ্রাম অফিসার ডা.শেখ মোস্তফা আলীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমরা অবগত নই। তারা সরকারি কর্মচারী তাদের সরকারীভাবেই বেতন দেওয়া হয়। তারা কেনো প্রতিটি টিকার বিনিময়ে টাকা নিবে। এটা তো তারা অন্যায় করছে। যেহেতু তারা সরকারী কর্মচারী সে হিসেবে তাদের প্রশাসনের মাধ্যমেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে আমার কাছে অভিযোগ এসেছিলো কিন্তু সঠিক কোন প্রমান না পাওয়ায় আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি নাই কিন্তু এবার পেয়েছি তাই তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিবো। মাস দুই তিন হয়েছে সুমি ও মুন্নী টিকার দায়িত্বে গিয়েছে তারা এর আগে নিবন্ধন বিভাগে কাজ করতো। তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে ভালো হবে আপনারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগটি করেন। আমি আশাবাদী স্যার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন। টিকাদানকর্মীদের দূর্নীতির ব্যাপারে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপসচিব এ.কে.এম এহতেশামুল হকের সাথে দেখা করতে তার অফিসে গেলে না পেয়ে মুঠোফোনে তার সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি মুঠোফোনের কল রিসিভ করেনি। নারায়নগঞ্জ জেলার সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। প্রতিদিন বিভিন্ন সেবার জন্য অনেক মানুষ আসে এখানে কিন্তু কিছু কিছু দপ্তরে দূর্নীতির কারনে পরতে হচ্ছে ভোগান্তিতে। আর নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় প্রতিদিন ১শের উপর বাচ্চাকে আনতে হয় টিকা দিতে সিটি কর্পোরেশনে এসকল বাচ্চার মা অন্যন্য মহিলাদের এসে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় কিছু অসাধুপায়ী সরকারী কর্মচারীদের টাকার লালসার জন্য। এ ভাবে টিকা দিতে এসে দিতে হয় প্রতিটি টিকার জন্য ২০টাকা করে। নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে টিকা দিতে আসা আগত মানুষের একটাই দাবী নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র যিনি সব সময় সৎকে সমর্থন করেন এবং অন্যায়কে প্রশয় দেন না ড.সেলিনা হায়াত আইভী যাতে দূর্নীতিবাজ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *