নারায়ণগঞ্জের ‘সিংহ পুরুষ’ কে?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে গত কয়েকদিন যাবত ‘টক অব দ্যা টাউন’ হয়ে দেখা দিয়েছে শহরের প্রাণকেন্দ্রে লাগানো একটি ব্যানারে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে বাংলার সিংহাম ও সিংহ পুরুষ উপাধীতে ভূষিত করার বিষয়টি। বাংলার সিংহাম নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মাঝে কোন বিতর্ক না থাকলেও সিংহ পুরুষ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েই যায় কারন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ‘নারায়ণগঞ্জের সিংহ পুরুষ’ উপাধীটা সাংসদ শামীম ওসমানের অনন্য অর্জণ হিসেবে মনে করেন নারায়ণগঞ্জবাসী। হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো করে কেউ সেটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে দাবী তাদের। সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় কে বা কারা একটি ব্যানার লাগিয়েছে গত কয়েকদিন পূর্বে যাতে লেখা রয়েছে বাংলার সিংহাম এসপি হারুন সিংহ পুরুষ এসপি হারুন দীর্ঘজীবী হোন। হিন্দি ভাষায় নির্মিত ছায়াছবির ক্যারেক্টার সিংহাম একজন সৎ আদর্শবান পুলিশ অফিসার যিনি সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ অনেকটা সেভাবেই নারায়ণগঞ্জে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছেন ফলে তাকে সিংহাম উপাধী দেওয়াটা অযৌক্তিক কোন বিষয় নয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে খটকা তৈরী করেছে ‘সিংহ পুরুষ’ উপাধীটা এসপি হারুনের পাশে ব্যবহার করায়। কারন নারায়ণগঞ্জবাসীর মনের মনিকোঠায় সিংহ পুরুষ কথাটি খোদাই করে লিখে রেখেছেন সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। সিংহ পুরুষ বলতেই নারায়ণগঞ্জের মানুষের চোখে অবধারিতভাবে ভেসে উঠে একজনেরই ছবি আর সে হলো নারায়ণগঞ্জবাসীর দুর্দিনের কান্ডারী একেএম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে শামীম ওসমানের এই পরিচয়। সূত্র জানায়, সারাদেশে বহুল আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলী হয়ে আসার পর থেকে পাল্টাতে থাকে চীর চেনা দৃশ্যপট। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অপরাধীরা আত্মগোপনে যেতে শুরু করে এবং দীর্ঘ দিন পর নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এমন অভিযানে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রায় ফিরে আসে স্বস্তি। এখন তারা নিরপদে চলাচল করতে এবং নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে পারছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ মনে করছে, পুলিশ চাইলে সবই সম্ভব আর এটা প্রমাণ করে দিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মতে, পুলিশ চাইলেই অপরাধ নিয়ন্ত্রন সম্ভব তা প্রমান করেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। তার নির্দেশে জেলা জুড়ে পুলিশের মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরছে। পাড়া মহল্লার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান দেখে মাদক ব্যবসায়ীরা নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে মাদকের দাম বেড়েছে চারগুনেরও বেশি। গত ১০ জানুয়ারী চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জকে অপরাধ মুক্ত করার ঘোষনা দিয়েই বিশেষ অভিযান শুরু করেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। শুধুমাত্র গত কয়েক দিনেই জেলা জুড়ে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে প্রায় দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুধু মাদক ব্যবসায়ীই নয় ভূমি দস্যু, সন্ত্রাসী, তেল চোর, চাঁদাবাজ, ঝুট সন্ত্রাসী, জুয়ারীসহ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ পুলিশের কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন অপরাধীরা পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে চল গেছে। এমনকি পুলিশের অভিযানে প্রভাবশালীরাও ছাড় পাচ্ছে না। তাই পুলিশ চাইলেই অপরাধ নিয়ন্ত্রন সম্ভব তা প্রমাণ করেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। এসপি হারুনের এই কঠোর অবস্থানের কারনে তার অতি উৎসাহী শুভাকাঙ্খিদের কেউ নারায়ণগঞ্জে একটি ব্যানার লাগিয়ে তার কাছে প্রিয়জন হওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে লেখা সিংহ পুরুষ নিয়ে ভিন্নমত নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের। নগরবাসীর মতে, এসপি হচ্ছে একটি বদলীযোগ্য সরকারী পদ। তিনি আজকে আছেন কালকে নাও থাকতে পারেন, তাই তিনি কি করে নারায়ণগঞ্জের সিংহ পুরুষ হবেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের একজন স্বীকৃত সিংহ পুরুষ রয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান, তাই এসপি হারুনকে এই উপাধী দেওয়ায় সাংসদকে অলিখিতভাবে হেয় করার চেষ্টা বলেও অভিমত তাদের। তাই এখন নগরবাসীর কাছে ‘টক অব দ্যা টাউন’ নারায়ণগঞ্জের ‘সিংহ পুরুষ’ শামীম ওসমান নাকি এসপি হারুন!

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *