তিন মাসের আংশিক কমিটির এক বছর পাড়

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। এই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেও আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রধান অঙ্গসংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের গতি ফিরলেও কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেসকল কমিটির পূর্ণতা পায়না। যার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এখনও আংশিক কমিটি দিয়েই তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। যদিও আংশি কমিটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে রেখেছে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সকল সংগঠনের চেয়ে সাংগঠনিক ভাবে বেশি শক্তিশালী এখন নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর ইতোমধ্যে এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এভাবে মাসের পর মাস অতিবাহিত হতে থাকলেও জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণ কমিটি গঠনে তেমন একটা তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না পদে থাকা নেতৃবৃন্দদের। সেই সাথে থানা কমিটিগুলোও দীর্ঘ একযুগ অতিবাহিত করছে। পদে থাকা নেতারা ছাত্র থেকে আদুভাইয়ে পরিণত হয়েছে। অথচ সে ব্যাপারেও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে দায়িত্ব পালনকারী ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। ফলে শুধুমাত্র কয়েকটি পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। দলীয় সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আজিজ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাফেল জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে ছিলেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আাহবায়ক পদে থাকা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে থাকা হাসনাত রহমান বিন্দুকে দায়িত্ব দেয়া হয়। গত বছরের ২৯ এপ্রিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস আর সোহাগ ও সেক্রেটারী জাকির হোসেন এক বছরের জন্য এসব কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে এক বছর মেয়াদী ওই কমিটি গঠনের পর ইতোমধ্যে এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। দীর্ঘ এক বছরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটিকে থাকা নেতারা পূর্ণ কমিটি গঠনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। কমিটি গঠনের পর থেকে একের পর এক ইস্যু মধ্যে দিয়েই তাদের দিন অতিবাহিত হচ্ছে। একইভাবে থানা কমিটিগুলোও দীর্ঘ এক যুগ অতিবাহিত করেছে। বয়সের ভারে থানা কমিটির পদে থাকা নেতারা এখন নিজেদেরকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ করেন। ফলে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হতে পারছে না। এর আগে ২০১১ সালের জুনে সাফায়েত আলম সানিকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অপরদিকে ২০১৫ সালে ৪ সদস্যের মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির মেয়াদেও জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ পূর্ণতা পায়নি। সেবারেও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি থানা কমিটির কার্যক্রম চালিয়েছে পূর্বের করা কমিটি দিয়ে। এখনও ফতুল্লা, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে ১২ বছর আগের কমিটির নেতারাই আসীন রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে, যে কোন রাজনৈতিক দলের জন্যই ছাত্রনেতারা হচ্ছে দলের ভবিষ্যত কান্ডারী। আর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ইতিহাস অনস্বীকার্য। আওয়ামীলীগের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বর্তমানের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছে। তাই জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামীলীগকে চাঙ্গা রাখতে হলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের দিকে নজর দিতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব সংকটে পড়তে পারে আওয়ামীলীগ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *