জাহেরের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বন্দরে জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আবু জাহেরের বিরুদ্ধে সুরিয়া বেগমের এক নারীর জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় ওসির কক্ষে বসেই ওই নারীর ছেলেকে কলিজা ছিড়ে হত্যার হুমকী দেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সুরিয়া বেগম গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ প্রদান করেছেন। তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে আবু জাহের দাবি করেছেন তিনি জমিটি ক্রয় করেছেন। এদিকে আবুল জাহের বলেছেন, তিনি তার নিজস্ব জমি ভরাট করেছেন, তার জমিতে সাইনবোর্ড সন্ত্রাসী উজ্জল সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে সুরিয়া বেগম বলেন, তিনি বন্দর উপজেলার বন্দর মৌজায় সাফ কবলা দলি নং ১৯৩৩ মূলে ফারজানা আফরুজ, ফ্লোরা আফরোজ, ফাতেমা আফরুজ, খোদেজা বেগমগণদের নিকট থেকে ৬ শতাংশ নাল জমি ক্রয় করে দখল স্বত্ব বুঝে নিয়ে উক্ত জমিতে শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসল ফলাইয়া ভোগ দখলে বিদ্যমান থাকাবস্থায় ২০১৮ সালের অক্টোবর নভেম্বর মাসের দিকে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আবু জাহেরের নেতৃত্বে তার জমিসহ আশেপাশের অনেকের জমি বালু ফেলে ভরাট করে। এসময় সুরিয়া বেগম আবু জাহেরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে হিসাব নিকেশ করে বালুর দাম দিয়ে দিতে। আবু জাহের প্রভাবশালী লোক হওয়ার দরুন সুরিয়া বেগম তার কথা মেনে নেন। গত মার্চ মাসের প্রথম দিকে সুরিয়া বেগম ও তার ছেলে উজ্জল তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি মাপঝোক শেষে বাউন্ডারী করতে গেলে আবু জাহের ও তার লোকজন তাদেরকে হুমকী দেয় আগে বালুর টাকা শোধ কর তারপরে দেখা যাবে জমি দেয়া যায়কিনা। পরে স্থানীয় মুরব্বীদের সহায়তায় গত ৮ মে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য মালিকগণদের উপস্থিতিতে মাপঝোক করে বাউন্ডারী দেন। এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি ও বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবও অবগত আছেন। গত ৯ মে সকাল ১১ টার দিকে বন্দর ওসি রফিকুল ইসলামের রুমে উভয়পক্ষ মীমাংসার জন্য বসলে ওসির সামনেই সুরিয়া বেগমের ছেলে উজ্জলকে হুমকী দেন আবু জাহের। এসময় তিনি উজ্জলকে বলেন, তোর কত বড় সাহস, তোর কলিজা ছিরে ফেলবো। একথা বলেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন আবু জাহের। এ বিষয়ে আবু জাহের বলেন, তিনি ওই এলাকার ৮০ শতাংশ জমি ভরাট করেছেন। যার মধ্যে সিকদার আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ক্রয় কৃত জমিও রয়েছে। যে জমি নিয়ে তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সেই জমি তিনি ক্রয় সূত্রে মালিক। জমির মিউটেশনও তার নামে রয়েছে। ওই জমির মালিক যিনি দাবি করছেন জমি যদি তার নামেই হতো তাহলে তিনি জমির মিউটেশনের কাগজ দেখাক। ওসির রুমে বাদির ছেলেকে হুমকীর বিষয়ে তিনি বলেন, ওসি আমাকে ডেকেছিলেন। আমি একাই গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি ওই নারী বহিরাহত সন্ত্রাসী প্রকৃতির যুবকদের সঙ্গে নিয়ে গেছে। আমি জনপ্রতিনিধি ছাড়াও একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমিও তো লোকজন নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করি নাই। আমি একাই গিয়েছি। কিন্তু এখন আমার নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই অসহায় নারীর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা দুই পক্ষকে নিয়েই বসেছিলাম। ওই অসহায় নারী দাবি করেছেন তিনি জমি ক্রয় করে বাউন্ডারী দিয়েছেন সেটা সত্য। অপরদিকে আবু জাহের দাবি করছেন তিনিও জমি ক্রয় করেছেন। কিন্তু তারা যাদের থেকে জমি ক্রয় করেছেন তাদেরকে নিয়ে বসলেই বিষয়টির নিস্পত্তি হবে। আমরা চাই ওই অসহায় নারী তার জমি বুঝে পাক। এ বিষয়ে আমাদের যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন সেটা আমরা করবো। আর তার কক্ষে হুমকীর বিষয়ে তিনি বলেন, শালিস বৈঠকে বসলে অনেক সময়ই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় তবে এ ধরনের কথা আমরা শুনিনি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *