ঈদ আসলেই বেড়ে যায় শ্রমিক অসন্তোষ!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে প্রতি বছরেই ঈদের আগেই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়। বোকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবীতে রাজপথে নামে শ্রমিকরা। নিজেদের যৌক্তিক দাবী আদায়ে রাজপথে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কৃত্রিম ভাবে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটারও অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জের কিছু শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে। যারা শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করে পলাশ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। শ্রমিকদের ঘামের টাকা দিয়ে বিলাশবহু বাড়ি-গাড়ি হাকিয়ে নিয়েছেন। এসকল কথিত শ্রমিক নেতারা ঈদ আসলেই কৃত্রিম উপায়ে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কতিপয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও অনেক সময় শ্রমিকদের বেতন নিয়েও তালবাহানার অবিযোগ রয়েছে। কথিত শ্রমিক নেতাদের কারণে শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের অনেক গার্মেন্টস ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আর অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক কথিত শ্রমিক নেতাদের বিশেষ সুবিধায় ম্যানেজ করেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। জানাগেছে, ঈদ আসলেই নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রূপগঞ্জ এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা বেশি ঘটে। বেতন বোকায়ার দাবীতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা তাদের আন্দোলনকে সফল করতে শ্রমিক নেতাদের দ্বারস্থ হন। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটতে থাকেন শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের শান্তি প্রিয় আন্দোলনকে প্রশ্নবিত্ত করতে থাকে শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের উস্কানী দিয়ে সড়ক অবধোর, গাড়ি ভাংচূরসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয় শ্রমিক নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার ফতুল্লায় প্যারাডাইজ ক্যাবলসের শ্রমিকেরা ৫ মাসের বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ করে। এসময় শ্রমিকদের উস্কানী দিয়ে শিবুমার্কেট এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করায় কথিত শ্রমিক নেতা। দুই ঘন্ট সড়ক অবরোধ করে রাখায় দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শ্রমিক নেতা কাউছার আহাম্মেদ পলাশের অনুসারি ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন রাজুর নেতৃত্বে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, প্যারাডাইজ ক্যাবলে নারী পুরুষ মিলিয়ে চার’শ শ্রমিক চলতি মাসসহ পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের দাবীতে শান্তিপ্রিয় আন্দোলনে নামলেও শ্রমিক নেতার উস্কানীতে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এদিকে, গত ১ মে চাষাড়া শ্রমিক সমাবেশে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তাদের পাশে আমি আছি। ঐ অনুষ্ঠানে শ্রমিক নেতা কাউছার আহাম্মেদ পলাশও উপস্থিত ছিলেন। অখচ সেই পলাশ অনুসারিরাই পুলিশ সুপারের আশ্বাসকে তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের উস্কানী দিয়ে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। গতকাল মঙ্গলবার অষ্টম রমজানে শিবু মার্কেটে সড়ক অবরোধ করায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিকরা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাই পবিত্র রমজান মাসে শ্রমিক অসন্তোষের নামে সাধারণ মানুষ যেন কোন প্রকার ভোগান্তিতে না পড়তে হয় সে লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের বিশেষ নজরদারীর দাবী করেছেন সচেতন মহল।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *