ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জেলার অধীনস্থ ৫টি থানা কমিটি দিতে কাজ শুরু করেছেন। তাদের এ কাজে অন্যান্য থানা থেকে তেমন অভিযোগ না থাকলেও অভিযোগ রয়েছে সোনারগাঁও থানা নিয়ে। থানায় যোগ্য নেতাদের রেখে জেলার একজন যুগ্ম সম্পাদককে থানার আহবায়ক করতে চাচ্ছেন জেলার সভাপতি মশিউর রহমান রনি। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করছেন নেতাকর্মীরা। এতে জেলার সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীবের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন সকলেই। অনেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন পোস্টে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, যুগ্ম সম্পাদকদের দিয়ে থানা কমিটিগুলো করতে চাচ্ছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। এতে করে দলের থানার নেতারা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। কারণ জেলায় এত উচ্চ পদে থেকেও থানায় যদি তারা আবার পদ পায় তাহলে থানার নেতারা কোথায় নেতৃত্ব দেবে। মশিউর রহমান রনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করে আসা একজন নেতা হয়েও যদি তৃণমূলের ও রাজপথের নেতাকর্মীদের পালস না বুঝেন তাহলে তিনি এভাবে কমিটি দিলেও সেই কমিটি সকলেই প্রত্যাখ্যান করবে। থানা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কমিটি হয়না তবুও এখানে কমিটির জন্য কাজ করতে আগ্রহী নেতাকর্মীরা। কমিটি নিয়ে আছে প্রতিযোগিতাও। তবে সেই প্রতিযোগিতা ও সক্রিয়তাকে একেবারেই নষ্ট করে দিচ্ছেন রনি। থানার নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জেলার পদধারী নেতাকে এখানে পদায়ন করতে চাচ্ছেন এতে করে থানার নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাথে তৃণমূলও। তারা জানান, সোনারগাঁ থানা ছাত্রদলের কমিটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীব হস্তক্ষেপ করে এখানে থানার নেতাদের পদায়ন করতে পারেন। তবে তিনিও জেলার নেতাদের সাথে মিলে যুগ্ম সম্পাদকদের পদায়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে আমরা শুনেছি। এটি করলে থানার তার এবং তার বাবা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ থানার রাজনীতি আর জেলার রাজনীতি এক নয়। জেলায় যে কেউ কাজ করতে পারলেও থানায় সকলে কাজ করতে পারেনা। থানায় কাজ করতে স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীদের সাথে সম্পৃক্ত ও মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম থাকতে হবে। সোনারগাঁ থানা বিএনপির পদপ্রার্থী রুবেল হোসেন জানান, আমি ফেসবুকে লেখালেখি দেখেছি এমন এবং আমি নিজেও এক নেতার এমন দুটি ভাইটাল পদের ব্যাপার দ্বিমত পোষণ করি। একজন জেলা যদি জেলায়ও শীর্ষ পদ পান আর থানায়ও শীর্ষ পদ পান তাহলে বাকিরা কি করবে। আমরা তো দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও এখনো পদ পাইনি। পেয়েছি মামলা, জেল আর জুলুম। তবুও দলের জন্যই তো কাজ করছি। নেতাকর্মীদের মনের কথা বুঝে কমিটি না দিলে সেই কমিটি সকলে প্রত্যাখ্যান করবে সেটি জেলার নেতাদের মাথায় রাখতে হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *