সাংসদ সেলিম ওসমান ওমরায় থাকার সুযোগে অসাধু কর্মকর্তারা বন্দর খেয়াঘাটে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াতে টেন্ডার আহবান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের ডিগুবাবুর বাজার থেকে মুরগি কিনে আপনার বাড়ি বন্দরে নিয়ে যাওয়া সময় খেয়াঘাটে আপনি সহ কেনা মুরগিটির জন্য আলাদা টোল দিতে হবে। আপনার বাসার ব্যবহারের টেলিভিশনটিতে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দিয়েছে, মেরামতের জন্য শহরে নিয়ে নিতে হচ্ছে সেক্ষেত্রে টেলিভিশনটি নিয়ে শহরে যাওয়া এবং ফিরতি উভয় পথে আপনাকে টিভিটির আলাদা টোল গুনতে হবে। সদ্য বিয়ে করা নববূধকে নিয়ে বন্দরে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন তবে আপনার সাথে থাকা পোশাক আশাকের লাগেজটির জন্য আলাদা করে টোল গুনতে হবে। আপনি টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা এমন জিনিসের টোল নেওয়া অবৈধ অনৈতিক, সাহস করে যদি আপনি প্রতিবাদ করে বসেন তাহলে নববধূর সামনেই আমাকে হজম করতে হবে ইজারাদারদের পোষা সন্ত্রাসীদের বেদম পিটুনি হজম করতে হবে। আর উল্লেখিত ঘটনার গুলোর কেন্দ্রস্থল হচ্ছে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট। বিগত ৫ বছর ধরে উক্ত ঘাটে এমন চিত্র কারো চোখে না পড়লে তার পূর্ববর্তী সময় অথ্যাৎ ২০১৪ সালের ১৬ডিসেম্বর এর আগে এমন দৃশ্যের হরহামেশা দেখা মিলত। তবে ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যের আবারো পুণরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। বর্তমানে সাংসদ সেলিম ওসমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটটি অত্যন্ত সুশৃংখল ভাবে পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ৫টি ট্রলারে সম্পূর্ন বিনা খরচে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আগামী ৩০ জুনের পর এ ব্যবস্থাটি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। যার ফলে সামনের দিন গুলোতে উক্ত ঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া, গার্মেন্টের নারী শ্রমিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শ্রম ও পেশাজীবী এবং ব্যবসায়ী সহ কয়েক লাখ সাধারণ যাত্রীর নির্বিঘœ ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা বাধার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নারায়ণগঞ্জের বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের টেন্ডার আহবান করাকে যার মূল কারন হিসেবে উল্লেখ করেছেন উক্ত ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান যখন ওমরা হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে স্বপরিবারে সৌদিআরবে অবস্থান করছেন তখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএ এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা প্রলোভিত হয়ে উক্ত ঘাটের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরের লাখ লাখ সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের পথে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বিঘœ সৃষ্টির পায়তারা করছেন। তা না হলে গত ৫ বছর ধরে বন্দরের মানুষের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান বন্দর খেয়াঘাটটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য টোল মুক্ত করে ৫টি ট্রলারে যাতায়াতের সুব্যবস্থা করেছেন। হঠাৎ করেই কেন উনি দেশে উপস্থিত না থাকা সময়ে তড়িগড়ি করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো। এমন প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। জানাগেছে, জীবন-জীবিকার তাগিদ সহ নানা প্রয়োজনে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড় বন্দর উপজেলা থেকে শিক্ষার্থী, নারী শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মচারীসহ প্রতিদিন গড়ে কয়েক লাখ সাধারণ মানুষ নদী পারাপার হয়ে থাকেন। যার মধ্যে সিংহ ভাগই যাত্রীই বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। ২০১৪ সালে জুন মাসে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে এ.কে.এম সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত বছর ১৬ ডিসেম্বর থেকে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ন টোল ফ্রি করে দেন এমপি সেলিম ওসমান। যাত্রীদের টোল ফ্রি করে দেওয়ার পাশাপাশি উক্ত খাটে চলাচলকারী সকল নৌকার মাঝিদেরও দৈনিক ইজারা জমা মওকুফ করে দেওয়া হয়। সেই সাথে যাত্রীদের দ্রুত ও নিরাপদ নদী পারাপারের স্বার্থে ১০টি নতুন ট্রলারের ব্যবস্থা করেন যার মধ্যে ৫টি ট্রলার দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সম্পর্ণ বিনা খরচে নদী পারাপার করা হচ্ছে। অপর ৫টি ট্রলারেও যাত্রীদের কাছ থেকে কোন প্রকার টোল আদায় করা হয়। অপরদিকে যাত্রীদের যথাযথ সেবা প্রদানে ঘাটের উভয় পাড়ে দুটি নতুন পল্টুন স্থাপন সহ সরকারী অর্থায়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করেছেন। এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে তৎকালীন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খাঁন এবং বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর মোজ্জাম্মেল হককে সাথে নিয়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে একাধিকবার শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় পাড়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে পবিত্র ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত মাস জুড়ে ১০টি ট্রলারেই যাত্রীদের সম্পূর্ন ফ্রি পারাপারের সুযোগ করে দিয়েছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক একই প্রক্রিয়ায় ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটিও সাধারণ যাত্রী এবং নৌকা ও ট্রলারের মাঝিদের জন্য সম্পূর্ন টোল ফ্রি করে দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। আরো জানাযায়, বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এবং নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে প্রাকৃতিক দুযোর্গ অথবা নৌ-দুর্ঘটনায় প্রতি বছর কমপক্ষে ১০-১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে আসছিলো। সাংসদ সেলিম ওসমান এসব দুর্ঘটনা রোধ করে বিভিন্ন সময় প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে আসছেন। উক্ত দুটি খেয়াঘাটে তিনি কয়েক দফায় তৎকালীন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.ক.ম মোস্তফা কামাল, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর মোজ্জামেল হক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন। উল্লেখিত সকলের সহযোগীতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে তিনি বন্দর-৫নংখেয়াঘাট এবং নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ দিয়ে পৃথক দুটি ফেরী সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা করেন। সেই সাথে জনস্বার্থে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট ও বন্দর সেন্টাল খেয়াঘাটটি নৌ-মন্ত্রী ও বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যানের কাছে উক্ত ঘাট দুটির দরপত্র আহবান বন্ধ রাখেন। তবে উক্ত ঘাট দুটিতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ইজারা মূল্য সাংসদ তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে থাকেন। যাতে করে কোন অবস্থায় বিআইডব্লিউটিএ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।তবে দেখা গেছে সাংসদ সেলিম ওসমান যখন নানা কারনে দেশের বাইরে অবস্থান করেন তখই উক্ত ঘাট গুলো নিয়ে একটি মহলের নানা রকম ষড়যন্ত্র করে থাকে। বিআইডব্লিউটিএ এর কিছু কর্মকর্তাকে প্রলোভিত করে তারা দরপত্র আহবান করিয়ে থাকেন। ইতিপূর্বে কয়েক দফায় নবীগঞ্জ ফেরী ঘাটের দরপত্র আহবান করা হয়েছে যেখানে বন্দরেই কিছু অসাধু ব্যক্তিত্ব অনৈতিক ফায়দা লুটতে দরপত্রে অপ্রত্যাশিত মূল্য আহবান করে ছিলেন। জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় উক্ত দরপত্র আহবান প্রক্রিয়া গুলো বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার সাংসদ সেলিম ওসমানের অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের দরপত্র আহবান সম্পন্ন করেছেন। যার ফলে আগামী জুলাই মাস থেকে লাখ লাখ সাধারণ যাত্রীর ভাগ্যে অনৈতিক টোল আদায়, নদী পারাপারে দুর্ভোগ, ইজারাদারের সন্ত্রাসী কর্তৃক যাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার মত ঘটনা ঘটার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীগণ অতীতে অত্যাচারিত হওয়ার সেই দিন গুলোর পুণরাবৃত্তি দেখতে চান না। তাই তাঁরা এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাংসদ সেলিম ওসামনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ওমরা হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে স্বপরিবারে সৌদি আরবে অবস্থান করা এমপি সেলিম ওসমানের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে উনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিগত সময় গুলো দলমত নির্বিশেষে বন্দর ও নারায়ণগঞ্জের সকলের সম্মিলিত সহযোগীতায় উল্লেখযোগ্য অনেক উন্নয়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এবং হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ফেরী সার্ভিস, শীতলক্ষ্যা নদীতে সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ দিয়ে নাসিম ওসমান সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে আরো একটি সেতু নির্মিত হবে। তবে বার বারই দলীয় পরিচয় লেবাসে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের নিবিঘœ যাতায়াতের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পায়তারা করেই চলছে। তাদেরকে সবাই সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। আমি পবিত্র ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছি। আমি নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দরের সকলের মঙ্গল কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থণা করবো। পাশাপাশি আমি জনস্বার্থে জনকল্যাণমূলক সকল কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দরের সকলের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *