আন্তর্জাতিক পরিম-লেও খ্যাতি সনুর

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের টানবাজার এলাকার র‌্যালি বাগান। এখানে হরিজন সম্প্রদায়ে বসতি। যাদেরকে বলা হয়ে থাকে দলিত সম্প্রদায়। অন্যান্য মানুষের যেসব সুযোগ সুবিধা থাকে, সে থেকে যুগযুগ ধরে বঞ্চিত তারা। বঞ্চিত ঠিক তা নয়, তাদেরকে বঞ্চিত করে রেখেছে এই সুধি সমাজ। তারা মানুষ হলেও তাদের একটি গোষ্ঠির ধরা হয়। যে গোষ্ঠিটি দলিত সম্প্রদায়। যারা অধিকার বঞ্চিত। শিক্ষার আলো থেকে যোজন যোজন দূরে। যাদের পাশে ঘেঁষতে চায় না আমাদের সুধি সমাজ। স্কুলে ভর্তি হতে বাধা। ভর্তি হলেও অন্যরা তাদের সাথে বসবে না। ফুটপাতের দোকানে চা খেতে চাইলে কাপ নয় কৌটাতেই চা দেয়া হয়। আরও নানা ধরণের টিপ্পনি যাদের প্রতিনিয়ত সঙ্গী। তবে, সুধি সমাজের ওইসব নিন্দা আর টিপ্পনী কিছুতেই দমাতে পারেনি সুন রানী দাসকে। অদম্য এই নারী গোটা সমাজের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ‘আমরাও পারি, শুধু সুযোগ করে দাও’। হ্যাঁ, দলিত সম্প্রদায়ের হয়েও শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন সুন। তিনি এখন এই সম্প্রদায়ের অনেকেরই আইডল। নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন দলিত সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। সনু রানী দাস সামাজিক নানা প্রতিকূলতার সাথে কঠোর সংগ্রাম করে ধাপে ধাপে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে সম্প্রদায়ের মধ্যে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। সনু রানী বর্তমানে মাস্টার্স প্রিলিমিনারির শিক্ষার্থী। নিজ দেশে অবহেলিত হলেও এই নারী আন্তর্জাতিক পরিম-লে নিজেকে মেলে ধরেছেন। অবহেলিত মানুষের হয়ে দিয়েছেন জোড়ালো বক্তব্য। ইতোমধ্যে তিনি মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতায় নেপাল, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশে সফর করেছেন। সেসব দেশের মানুষ সনুকে একবারের জন্যও দলিত সম্প্রদায়ের হিসেবে দেখেনি বরং একজন সংগ্রামী নারী হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন উচ্ছ্বাসে। সনু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, কথা বলছেন নারী সমাজের অধিকার নিয়ে। তবে, নিজের দেশেই উচ্চ শিক্ষার মূল্যায়ন না পেয়ে হতাশ সনু। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেও তিনি এখনও পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি কোনো চাকরিই পাননি। তাই বলে দমে যাবেন সুন! না। তার অদম্য সাহসই তাকে জাগিয়ে রেখেছেন। তার মতে, অনেক দূর যেতে হবে তার। অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে তাকে দাঁড়াতে হবে। আলোর পথে যাত্রী হয়ে অন্ধকার ঘুটাতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। শিক্ষা অর্জনের ব্যাপারে গভীর আগ্রহের কারণেই এইচএসসিতে পড়ার সময় ২০০৮ সালে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিদেশি এনজিও সংস্থা গ্লোবাল এক্সচেঞ্জের আওতায় স্কটল্যান্ডে টানা তিন মাস অবস্থান করার সুযোগ হয় সনু রানীর। এরপর ২০১০ সালে জাতিসংঘের হ্যাবিটেট প্রোগ্রামে অংশ নিতে তিনি ব্রাজিল ভ্রমণ করেন। পরবর্তীতে ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে টানা তিনবার দেশের প্রতিনিধি হয়ে জেনেভায় মানবাধিকার সম্মেলনে অংশ তিনি।সনু রানী দাস বলেন, যেহেতু আমি পড়াশোনা করেছি, আমার জুনিয়ররা যদি বলে আমি এত পড়াশোনা করে কী করছি, তাহলে আমি কী বলব। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা করে তাহলে আমি আরো ভালো করতে পারব। সনুর এই সাফল্যে গর্ববোধ করেন তার বাবা-মাসহ হরিজন সমাজের সব বয়সী মানুষ। নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সনুর অর্জিত এই শিক্ষাকে মূল্যায়ন করে চাকরি প্রদানের ব্যাপারে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন হরিজন সমাজ সেবা সংঘের নেতা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *