ফরাসী ফুটবল সৌরভ ছড়াতে প্রস্তুত ফ্রান্স

জোবায়দা হোসেন লাভলী
সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর কিছু দিন পরই ফ্রান্সে বসতে যাচ্ছে ফিফা মহিলা ফুটবল। ৭ জুন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অষ্টম বিশ^কাপ মহিলা ফুটবলের জমকালো উদ্বোধণ। টানা ৩০ দিন মহিলা ফুটবল যুদ্ধ হবে। ৭ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ৭ জুলাই। ৬ গ্রুপে ২৪ দেশ এবারের বিশ^কাপে খেলবে। ফ্রান্সের ৯টি শহরে খেলা হবে। মহিলা বিশ^কাপ ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র। এবারই প্রথম ফ্রান্স মহিলা বিশ^কাপ ফুটবলের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয়ানদের জন্য এটা মহিলা বিশ^কাপের তৃতীয় আসর। ফ্রান্সে বিশ^কাপ হলেও পুরো ইউরোপীয়ানরা ফরাসী ফুটবলের সৌরভে মেতে উঠবে। ফ্রান্সের বাইরের দেশগুলো হতে ফুটবল ভক্তরা টিকিট হাতে ছুটবে ফ্রান্সের পথে। ইউরোপয়ানদের জন্য নিজেদের দেশ হতে পাশের দেশে যাওয়া খুব সহজ। রাতে ট্রেনে উঠলে পরদিন সকালে পৌছে যাওয়া যায়। ফ্রান্সের আশপাশের দেশগুলো এমন সুবিধা পাবে। যারা কাজ বন্ধ বন্ধ না রাখতে চান তাদের জন্য রাতে রওনা দিয়ে পরদিন খেলা দেখে আবার তখনই রাতে ঘরে ফেরার পথে রওনা দিতে পারবেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন সুবিধা থাকার কারনে এক দেশ হতে অন্য যাতায়াত সহজ। খেলার টিকিট পাওয়া গেলে আর কোনো বাধা থাকে না। প্লেন কিংবা ট্রেন অথবা গাড়ি চালিয়ে এক দেশ হতে অন্য দেশে সহজেই যাওয়া যায়। অনেকে পরিবার নিয়ে খেলা দেখেতে চলে যান। ইউরোপে ফুটবল মানেই উৎসব। যে কোনো খেলা হলে সবাই এক জায়গা চলে আসেন। ১৯৯৮ সালে যখন ফ্রান্সে বিশ^কাপ ফুটবল হয়েছিল তখন পুরো ইউরোপ জুড়ে ছিল উৎসবমুখর। তার উপর ফ্রান্স বিশ^কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ফরাসীদের আনন্দ যেন হাজারগুন বেড়ে গিয়েছিল। সেই ফুটবল উৎসবের কথা এখনও সবার মনে আছে। মাঠের বাইরে আয়োজক কর্মকর্তা সাবেক ফুটবল তারকা মিশেল প্লাতিনি এবং মাঠের লড়াইয়ে ফরাসি অধিনায়ক জিনেদিন জিদান ৯৮ বিশ^কাপ জয়ের বড় কারিগর ছিলেন। বিশ^কাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ফরাসীদের মাতিয়ে দেননি সেই সঙ্গে ইউরোপীয়ানদেরকে ফুটবল উৎসবে ডুবিয়েছেন। আবার সেই আনন্দ উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। চিলি, জ্যামাইকা, স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবারই প্রথম মহিলা বিশ^কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ৯৯ সালের পর ইটালী আবার বিশ^কাপে জায়গা পেল। ২০০৭ সালের পর আর্জেন্টিনাও এবার বিশ^কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এশিয়া হতে ৫টি দেশ ফ্রান্স মহিলা বিশ^কাপে খেলবে। এদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্য্যান্ড রয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *