খুনী নূর হোসেনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় চার্জশীট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার আসামি নূর হোসেনের স্ত্রী রোমা হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার এ অনুমোদন দেওয়া হয়। দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, চার্জশিটে রোমার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাজধানীর রমনার থানায় এ ব্যাপারে মামলা হয়। মামলার বাদী দুদক উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী। তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন মো. দুদক সহকারী পরিচালক শফি উল্লাহ। এর আগে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় অভিযোগপত্র দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২ মে কমিশন এ অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয়। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক (বর্তমানে পরিচালক) মো. জুলফিকার আলী। তিনি ও সহকারী পরিচালক শফি উল্লাহ মামলার তদন্ত করেন। ওই মামলায় একইদিন নূর হোসেনের স্ত্রী রুমা আক্তারকে (৪০) গ্রেফতার করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম। দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, নূর হোসেনের ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। কিন্তু মাত্র ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬ টাকার উৎস পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ২ কোটি ৮১ লাখ ১১ হাজার ৮১৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার ১৭২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে ২০১৪ সালের ১৯ মে অনুসন্ধান শুরু করার পর নূর হোসেনের নামে-বেনামে প্রায় ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তার যাবতীয় সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেয় সংস্থাটি। পরে ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেল সুপারের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিল করে নূর হোসেন। তবে তার দাখিলকৃত ওই সম্পদ বিবরণীতে মাত্র এক কোটি ৭৮ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দেখানো হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী ও সহকারী পরিচালক শফিউল্লাহ এর নেতৃত্বে একটি টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনদের সম্পদের খোঁজ খবর নেন। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে নূর হোসেনের মালিকানাধীন বাড়ি, নূর হোসেনের মালিকানাধীন হাজী বদরউদ্দিন মার্কেট, শিমরাইল টেকপাড়ার নূর হোসেনের বাড়ি, নয়াআটির রসুলবাগের নূর হোসেনের স্ত্রীর নামে করা বাড়ি, মুক্তিনগর কিসমত মার্কেট এলাকায় তার বড় ভাই নূর ছালামের বাড়ি, রসুলবাগ এলাকায় তার ছোট ভাই বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ নূর উদ্দিনের বাড়ি ও নূর হোসেনের মালিকাধীন পরিত্যক্তভাবে পড়ে থাকা এবিএস পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন সম্পত্তি পরিদর্শন করেন। তবে ওই সময় নূর হোসেনের ছোট ভাই বালু সন্ত্রাসী নুরুজ্জামান জজের নামে করা ৬ তলা বাড়িতে দুদকের টিমকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। দুদকের টিম দেখে বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী মূল ফটকে তালা বদ্ধ করে দেয়। এরপর ২০১৬ সালের ৯ মার্চ নূর হোসেনের স্ত্রী রুমা হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। পরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় নূর হোসেন ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলার প্রেক্ষিতেই রুমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। দুদক ওই বছরের ২৯ মে তাঁর সম্পদের অনুসন্ধানে নামলেও পরে এই কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ভারত থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর দুদকের অনুসন্ধানেও গতি আসে। তারই ধারাবাহিকতায় উপপরিচালক জুলফিকার আলী অনুসন্ধান শেষে মামলা করেন নূর হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *