এক যুগ পর বন্দরে নৌকার জয়ধ্বনি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বন্দর উপজেলায় পঞ্চম ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারা দেশে এবারই প্রথম দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নৌকা প্রতিকের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হতে চলেছেন। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন বন্দরে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নৌকার স্লোগানে স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। এর আরে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নৌকার স্লোগানের জয়ধ্বনি শোনা যায়নি। এতে করে নৌকার স্লোগানে নেতাকর্মীদের অতৃপ্ত মত তৃপ্ত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বন্দর উপজেলায় মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ। এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান, জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা সহ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থী এম এ রশিদের পক্ষে নৌকার স্লোগান ধরে। বন্দরে নৌকার রাজনীতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন ইস্যুতে এই স্লোগানের নজির দেখা গেছে। জানা গেছে, অনেকটা চমক দেখিয়ে ১৯ মে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বন্দর উপজেলায় নৌকা প্রতিকে এম এ রশিদকে মনোনয়ন প্রদান করেন। এর পরেই পাল্টে যায় পুরো হিসেব নিকেশ। ঘোষণার পরেই স্থানীয় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান বার্তা পাঠিয়ে এম এ রশিদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রশিদ মূলত নারায়ণগঞ্জের বলয় কেন্দ্রীক রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। এদিকে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু জাহেরের আহবানে এক ইফতার মাহফিলে এসে নৌকার প্রার্থী এম এ রশিদকে নৌকার পক্ষে সমর্থন দিয়ে মিষ্টিমুখ করেছেন। এতে করে নৌকার প্রার্থীর প্রতি জাপা ও বিএনপি সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে বলা চলে। এতে করে অনেক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় এই নেতা বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। গত ৯ মে ৫ম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ মে, যাচাই-বাছাই ২৩ মে, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩১ মে। ওই দিন থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। এই উপজেলা নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক প্রধান দল বিএনপি নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা ক্ষেত্রে একেবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে যা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়েছে। জানাগেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাতীত এবারই প্রথম দলীয় প্রতিকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বন্দর উপজেলার অধীনে সদর ও বন্দর আসনে নৌকা প্রতিকে কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর আগে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়লাভ করে। এই এমপির মৃত্যুর পর এই আসনে ওই বছরই উপ নির্বাচনে তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরামের সাথে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ওই বছরই উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। সেবার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। তবে সেই নির্বাচনের দলীয় কোন প্রতিক ছিলনা বিধায় যে যার মত করে নির্বাচনে বিভিন্ন প্রতিকে অংশ্রগ্রহণ করেছে। এতে করে সেই নির্বাচনে দলীয় প্রতিক কোন ফ্যাক্টর হিসেবে গুরুত্ব পায়নি। ব্যক্তি ইম্যেজ ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন করেছে। এর আগে ২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জাপার প্রয়াত এমপি সেলিম ওসমান লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়ন পায়। তখন আওয়ামীলীগ ও জাপা জোটবদ্ধভাবে মহাজোট গঠন করে আসন ভাগাভাগি করে নেয়। সেই নির্বাচনে এই আসনটিতে আওয়ামীলীগ জাপাকে ছাড় দিলে নৌকা সেবারও বঞ্চিত হয়। তৎকালীন সময়ে উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যেকারণে নৌকার স্লোগান তোলার কোন সুযোগ হয়নি। তাছাড়া ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন নিয়ে এস এম আকরাম নির্বাচনে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থীর কাছে। যেকারণে ওই নির্বাচনে নৌকার স্লোগান উঠলেও তা পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ম্লান হয়ে যায়। তবে ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীকে এস এম আকরাম নির্বাচনে জয় লাভ করেন। যেকারণে একমাত্র ওই বছরে নৌকা প্রতিকের স্লোগান সার্থকতা পায়। তখন নৌকার স্লোগানে স্লোগানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠে। তাই দীর্ঘ ১ যুগের বেশি সময় পরে ফের নৌকার স্লোগানের জয়ধ্বনী দেখা যাচ্ছে। কারণ এবারের উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নৌকার প্রার্থী এম এ রশিদ বিজয়ী চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। এদিকে দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জনপ্রতিনিধি হতে পারছেনা বলে বেশ আক্ষেপ করে নানা বক্তব্য দিয়ে আসছেন। আর সেজন্য আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দিকে অভিযোগের নানা তীর ছুঁরছেন। তবে অনেকটা দেরিতে হলেও এবার বন্দর উপজেলায় আওয়ামীলীগ নেতা জনপ্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন। আর তাতে করে এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। যেকারণে জাপর প্রতি পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *