কর্মীদের সমালোচনায় বিএনপি নেতারা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা জেলা পুলিশ প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দলের নেতাকর্মীদের তীর্যক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেও আবার তাদের ইফতার অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি থাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে নেতাকর্মীদের মনে। নেতাকর্মীদের মতে, গত ২০১৩-১৪ সালের আন্দোলনের পর থেকে দলের কোন পর্যায়ের কর্মসূচীতেই নেতাকর্মীদের মুহূর্তের জন্য রাজপথে অবস্থান নিতে দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। শুধু তাই নয় একের পর মিথ্যা গায়েবি মামলা, রাত হলেই নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের অভিযানের নামে নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি, বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অতঃপর একাধিক মামলার খড়গ এই কোনটার একটিও বাদ দেয়নি পুলিশ। অথচ তাদের প্রোগ্রামে দায়সারা দাওয়াত পাবার পর সেখানে দৌড়ে যাওয়াটা তাই নেতাকর্মীরা ভালো চোখে দেখছেনা। যেখানে নির্বাচনে অংশ নেয়া একজন প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতিকেও পুলিশ দলীয় কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়নি সেখানে তিনিও কিভাবে দলীয় ফোরামে আলোচনা না করেই অনুষ্ঠানে গেলেও তাও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। অথচ তার নির্বাচন করতে গিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী মামলা ও হামলার শিকারও হয়েছেন। গ্রেফতার হয়ে করেছেন কারাবরণও। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের আয়োজনে জেলা পুলিশ লাইনসে এক ইফতার মহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের দাওয়াত ছিল। সেখানে দায়সারাভাবে দাওয়াত করা হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের আর তাতেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এর প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘বিএনপির জেলার সভাপতি ও সেক্রেটারী অতিত ভুলে গেছে। কর্মীদের প্রতি যে কোন দায়বদ্ধতা নাই। সে কারণেই হয়তো কর্মীদের অতল সাগরে রেখে প্রশাসনের সঙ্গে সু সম্পর্ক গড়তেই পুলিশের ডাকে গিয়েছে।’ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল জানান, পুলিশের মামলার কারণে পুলিশ আজ জনতার কাঠগড়ায় আর আমরা আদালতের কাঠগড়ায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, কখনো তো শুনিনি হাজারো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা রয়েছে তা নিয়ে তাদের কাছে যেতে বা যাবার উদ্যোগ গ্রহণ করতে। আর তাই দাওয়াত পাবার সাথে সাথেই দলীয় এসব নেতাদের সাথে আলোচনা না করে সেখানেই ছুটে যাওয়াটা কতটা যুক্তিসংগত তা তাদের বিবেকের কাছেই প্রশ্ন করলে তারা উত্তর পাবে। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার জানান, যে প্রশাসন আমাদেরকে শতশত মামলা দিয়েছে এবং এসব মামলাগুলো এখনো জজ কোর্টে ঝুলে আছে সেই প্রশাসনের দাওয়াতে যাবার আগে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কারণে উন্মুক্ত স্থানে ১ মিনিটের জন্য বিএনপি দাঁড়াতে পারেনি তাই সেখানে যাওয়াটা উচিত হয়েছে বলে মনে হয়না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *