ঈদে নারায়ণগঞ্জে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

রাশেদুল ইসলাম
বিগত সময়ে পবিত্র রমজান মাসে এলেই মৌসুমী অপরাধীরা সক্রিয় হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হত সাধারণ মানুষের। রমজান মাসের শুরুতেই ছিনতাইকারী, পকেটমার, জাল টাকা চক্র, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির সদস্যদের তৎপরতা বেড়ে যেত। পাশাপাশি ঈদের আগে মজুদ করা হত মাদক। একই সাথে রমজান মাসে যানজট ছিল শহরের প্রধান সমস্যা। তবে বিগতদিনে ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। রমজান মাস জুড়েই নগরবাসীর নিরাপত্তা দিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। জানাগেছে, ঈদকে আসলেই জেলা জুড়ে এসব অপরাধীরা ছদ্মবেশ ধারন করে নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ত। এসব অপরাধের সাথে অনেক ভদ্রবেশী অপরাধীরাও জড়িত ছিল। তবে এবার ঈদে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। রমজান মাস জুড়েই মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের অভিযানে প্রায় তিনশ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়। যার মধ্যে সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানায় সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়াও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করেছে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে জেলা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। রমজান মাস এলেই শহরে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। তবে এবছর রমজান মাসে ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪৬জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। বিগত সময়ে শহরের মার্কেটগুলোতে ছিনতাইয়ের অনেক ঘটনা ঘটলেও এমন দৃশ্য দেখা যায়নি এবছর। ছিনতাই রোধে পোশাক ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাসানুজামানের নেতৃত্বে প্রায় চল্লিশ জন ছিনতাইকারী গ্রেফতার করা হয়। যারমধ্যে একদিনেই ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মামুন আল আবেদ ১৪ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও ফতুল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসী চুন্নুকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করে মামুন আল আবেদ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ওসমান গনি ও কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরের ২৬জন ছিনতাইকারী গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ২৫ কেজি গাঁজা ও বিপুল সংখ্যাক মাদকসহ ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়। শহরের যানজট নিরসনে দুইশ জন ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেয় জেলা পুলিশ। এছাড়াও যানজট নিরসনে দিবাগত রাতেও ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। গত কয়েকদিন পর্যায়ক্রমে ২৪ ঘন্টাই ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদে পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। গতকাল সোমবার দুপুরে ঈদ পূর্ববর্তী পরিস্থিতি জানিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান। পুলিশ সুপার জানান, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যে ঈদ জামাতগুলি হবে সেগুলোর দিকে আমাদের তীক্ষè নজারদারী রয়েছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য ঈদের বড় জামাত যা চাষাড়ার কাছে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাগহ্ মাঠ ও স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সেখানে আমরা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। এদিকে রমজান মাস জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা দিয়েছে পুলিশ-এমনটা বলছেন নগরবাসী। তাদের মতে, দীর্ঘবছর পর কোন ভয় ছাড়াও নগরবাসী ঈদের কেনাটাকা করতে পেরেছেন। এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমাজ থেকে অপরাধ মুক্ত করাটাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আমরা শুধু আমাদের দায়িত্বটা শুধুমাত্র পালন করেছি। পুলিশ সুপার মহদয়ের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জকে অপরাধ মুক্ত করার টার্গেট নিয়েই আমরা কাজ করেছি। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, জনসেবাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। ‘পুলিশ জনগনের বন্ধু’ সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করেছি। ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাসানুজামান জানান, ঈদে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা তৎপর রয়েছি। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা না ঘটে সে লক্ষ্যে আমাদের প্রতিটি ইউনিট সজাগ রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারী চাষাড়া শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জকে অপরাধ মুক্ত করার ঘোষনা দেন পুলিশে সুপার হারুন অর রশিদ। এরপরই পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। অভিযান প্রভাবশালীরাও বেকায়দায় পড়ে যান। একই সাথে আত্মগোপনে চলে যায় অপরাধীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *